ভয়ঙ্কর চনপাড়া!

খুন-খারাবি নিত্য সঙ্গী। ঘরে ঘরে মাদক। বাল্যবিয়ে অধিক বিবাহ তো রয়েছেই। লোকে বলে তা হলো অপরাধের স্বর্গ রাজ্য চনপাড়া বস্তি। ২৬ জুন খুন হয়ে গেলো কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য বিউটি আক্তার কুট্টি। কুট্টি কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য ছিলেন।

স্থানীয় অধিপত্য বিস্তার ও মাদকের কারণেই তাকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে বলে স্থানীয় প্রশাসনের ধারনা। মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় এরপূর্বে ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর মাদক ব্যবসায়ীরা বিউটি আক্তার কুট্টির স্বামী হাসান মহুরীরকেও কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি একটি ক্রাইম জোন। যেখানে রয়েছে আলাদিনের চেরাগ! অবৈধ ব্যবসার বদৌলতে অনেকে হয়েছেন রাতারাতি কোটিপতি। গড়ে ওঠেছে ইয়াবা তৈরির কারখানা। রয়েছে মাদকের জাল। এছাড়া মুক্তা ব্যবসা, সাপের বিষের ব্যবসা, খয়ের পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী গ্রুপ থেকে শুরু করে কি নেই এখানে। গা শিউরে উঠার মতো কাহিনী রয়েছে চনপাড়ায়। সংস্কৃতি কর্মী সাজিয়ে নারী পাচারের ঘটনাও ঘটছে চনপাড়ায়। অনুসন্ধানে মিলেছে এমন সব চমকপ্রদ তথ্য।

চনপাড়া জুড়ে মাদকের জাল

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, চনপাড়া জুড়েই রয়েছে মাদকের জাল। সরকার আসে, সরকার যায়। কিন্তু চনপাড়ার মাদক ব্যবসা বন্ধ হয় না। চনপাড়াকে সবাই মাদকের হাট বলেই জানে। চনপাড়ায় রয়েছে ২০০ মাদক ব্যবসায়ী। আর মাদক সেবী রয়েছে কয়েক হাজার।

সংস্কৃতি কর্মী সাজিয়ে সুন্দরী মেয়েদের পাচার

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিবছর চনপাড়া পূর্ণবাসন এলাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ জন সুন্দরী মেয়েকে সংস্কৃতি কর্মী সাজিয়ে তিন থেকে ছয় মাসের ভিসায় কলকাতা, সিঙ্গাপুর, সৌদি, বাহরাইন, কাতার, দুবাই, আরব-আমিরাত, পাকিস্তান ও আফ্রিকায় পাঠানো হয়। এতে বুঝার কোনো উপায় থাকে না। সুন্দরী মেয়েদের ভালো কাজের কথা বলে পাঠানো হয়।

খয়ের-মলম ও ছিনতাইকারী গ্রুপ

চনপাড়ায় রয়েছে খয়ের-মলম ও ছিনতাকারী গ্রুপ। এরা রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অপকর্ম করে বেড়ায়। প্রায় ৪০টি টিম রয়েছে খয়ের-মলম পার্টির। আর ছিনতাকারী গ্রুপ রয়েছে ২৫টি।

ইয়াবা তৈরির কারখানা

অনুসন্ধানে জানা যায়, চনপাড়ায় ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে ওঠেছে। ইয়াবা কারবারির ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়, চনপাড়ায় ইয়াবা পাচার কাজে ব্যবহার করা হয় নারীদের। এসব নারীরা গোপনাঙ্গের ভেতরে ইয়াবা প্রবেশ করিয়ে নিয়ে আসছে। চনপাড়ার নারী ভ্যাম্পায়াররা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে গোপনাঙ্গে ইয়াবা পাচারের প্রশিক্ষণ রপ্ত করে আসে। বর্তমানে চনপাড়ার তিন ডজন নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে গোপনাঙ্গে করে ইয়াবা পাচারের কাজ করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশিক্ষণরত এক নারী কারবারি বলেন, গোপনাঙ্গে ৬০০ ইয়াবা রাখার ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। আকারে ছোট হওয়ায় কনডমে ভরে মুড়িয়ে নারীদের গোপনাঙ্গে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এতে কোন সমস্যা হয় না।

৪৪ বছরে ১৭ খুন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চনপাড়া পূর্নবাসনে গত ৪৪ বছরে ১৭টি ভয়াবহ খুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। ১৯৭৬ সালে বাদশা মিয়া খুনের মধ্য দিয়ে চনপাড়ায় খুনের শিল্পায়ন শুরু হয়। ১৯৭৯ সালে খুনের শিকার হন খয়ের পার্টির সদস্য হাফেজ আলী, ১৯৮২ সালে খুন হন পারভেজ মিয়া, ১৯৯৪ সালে খুনের শিকার হয় চাঁন মিয়া, ২০০৩ সালে ফিরোজ সরকার, ২০০৪ সালে ফারুক মিয়া। ২০০৫ সালে খুন হয় পুলিশের এএসআই হানিফ মিয়া ও ক্রিকেটার ফালান মিয়া। ২০০৮ সালে খুন হন আব্দুর রহমান, ২০১১ সালে হত্যার শিকার হয় র‌্যাবের সোর্স খোরশেদ মিয়া। ২০১৬ সালের ১২ মার্চ প্রজন্মলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে হত্যার শিকার হয় আসলাম হোসেন নামে এক স্কুল ছাত্র, গত ১৭ মাস আগে ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর থানা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হাসান মুহুরিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৬ জুন খুন হন নিহত হাসান মুহুরির স্ত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার কুট্রি।

পুলিশ সদস্য হানিফ মিয়া ছাড়া বাকি পুরনো সব হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত স্বাক্ষীবলের অভাবেই মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে বলে এলাকাবাসী মনে করেন।

সূত্রে জানা যায়, চনপাড়ায় রয়েছে ৪০ জনের মতো ভাড়াটে কিলার। রূপগঞ্জের আলোচিত সব খুনের সঙ্গে চনপাড়ার কিলাররা জড়িত রয়েছে। এ বস্তিতে আসতো নারায়ণগঞ্জের একসময়কার শীর্ষ সন্ত্রাসী কামরুজ্জামান কামু, আনোয়ার। ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী টোকাই সাগর, মুরগী মিলন, পিচ্চি হান্নানসহ অনেকে। ৭৪’-র পরবর্তী রূপগঞ্জের আলোচিত ৪২ হত্যাকাণ্ডের ২৯টি সংঘটিত হয়েছে এ বস্তিতে বসবাসরত কিলারদের মাধ্যমে।

চাঞ্চল্যকর শিল্পপতি রাসেল ভূইয়া, খালেদ বিন জামাল, তারেক বিন জামাল, ছাত্রদল নেতা শফিকুল ইসলাম, কাঞ্চনের মোক্তার হোসেন, ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন, উপশহরের ঠিকাদার বেলায়েত হোসেনসহ আলোচিত অধিকাংশ হত্যা মামলার আসামি চনপাড়া বস্তি এলাকার।

সোর্সদের দাপটে অতিষ্ঠ

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশের সোর্সদের কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। এসব সোর্সরা বিনা দোষে সাধারণ মানুষকে ফাসিয়ে দিচ্ছে। চনপাড়ার অবৈধ ব্যবসাকে ঘিরে গড়ে ওঠেছে এসব সোর্স। এদের মাধ্যমেই থানা পুলিশ টাকা আদায় করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, চনপাড়া নানা অপরাধের এলাকা এটা সত্য। তবে খুব শীঘ্রই অভিযান চালিয়ে অপরাধ নির্মূল করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, আমার জানা নেই। তবে শুনেছি এটা ক্রাইম জোন। যৌথ অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» হাতীবান্ধায় বন্যার্তদের পাশে উজ্জ্বল  পাটোয়ারী 

» গ্রামীন জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার উন্নয়নে কমিউনিটি রেডিও শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত

» লটারীর মাধ্যমে ভাগ্য খুলছে ৫১২ কৃষকের

» শিবগঞ্জ সীমান্তে ফেনসিডিলসহ আটক ১

» তাহিরপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের ত্রাণসামগ্রী ও জরুরী ওষুধপত্র বিতরণ

» ভারতীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দেবী শেঠীর নারায়ণা হেলথের তথ্যসেবা কেন্দ্র এখন খুলনায়

» বৃষ্টি আসলেই লালমনিরহাট পৌরবাসী ভোগান্তিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়

» ময়মনসিংহে বোন হত্যার দায়ে ভাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

» শৈলকুপায় বাদাম বিক্রেতা বৃদ্ধ প্রতিবন্ধীর পাশে ইউএনও উসমান গনি

» মণিরামপুরে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, দিশেহারা সীমিত আয়ের মানুষ

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

ভয়ঙ্কর চনপাড়া!

খুন-খারাবি নিত্য সঙ্গী। ঘরে ঘরে মাদক। বাল্যবিয়ে অধিক বিবাহ তো রয়েছেই। লোকে বলে তা হলো অপরাধের স্বর্গ রাজ্য চনপাড়া বস্তি। ২৬ জুন খুন হয়ে গেলো কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য বিউটি আক্তার কুট্টি। কুট্টি কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য ছিলেন।

স্থানীয় অধিপত্য বিস্তার ও মাদকের কারণেই তাকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে বলে স্থানীয় প্রশাসনের ধারনা। মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় এরপূর্বে ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর মাদক ব্যবসায়ীরা বিউটি আক্তার কুট্টির স্বামী হাসান মহুরীরকেও কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি একটি ক্রাইম জোন। যেখানে রয়েছে আলাদিনের চেরাগ! অবৈধ ব্যবসার বদৌলতে অনেকে হয়েছেন রাতারাতি কোটিপতি। গড়ে ওঠেছে ইয়াবা তৈরির কারখানা। রয়েছে মাদকের জাল। এছাড়া মুক্তা ব্যবসা, সাপের বিষের ব্যবসা, খয়ের পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী গ্রুপ থেকে শুরু করে কি নেই এখানে। গা শিউরে উঠার মতো কাহিনী রয়েছে চনপাড়ায়। সংস্কৃতি কর্মী সাজিয়ে নারী পাচারের ঘটনাও ঘটছে চনপাড়ায়। অনুসন্ধানে মিলেছে এমন সব চমকপ্রদ তথ্য।

চনপাড়া জুড়ে মাদকের জাল

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, চনপাড়া জুড়েই রয়েছে মাদকের জাল। সরকার আসে, সরকার যায়। কিন্তু চনপাড়ার মাদক ব্যবসা বন্ধ হয় না। চনপাড়াকে সবাই মাদকের হাট বলেই জানে। চনপাড়ায় রয়েছে ২০০ মাদক ব্যবসায়ী। আর মাদক সেবী রয়েছে কয়েক হাজার।

সংস্কৃতি কর্মী সাজিয়ে সুন্দরী মেয়েদের পাচার

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিবছর চনপাড়া পূর্ণবাসন এলাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ জন সুন্দরী মেয়েকে সংস্কৃতি কর্মী সাজিয়ে তিন থেকে ছয় মাসের ভিসায় কলকাতা, সিঙ্গাপুর, সৌদি, বাহরাইন, কাতার, দুবাই, আরব-আমিরাত, পাকিস্তান ও আফ্রিকায় পাঠানো হয়। এতে বুঝার কোনো উপায় থাকে না। সুন্দরী মেয়েদের ভালো কাজের কথা বলে পাঠানো হয়।

খয়ের-মলম ও ছিনতাইকারী গ্রুপ

চনপাড়ায় রয়েছে খয়ের-মলম ও ছিনতাকারী গ্রুপ। এরা রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অপকর্ম করে বেড়ায়। প্রায় ৪০টি টিম রয়েছে খয়ের-মলম পার্টির। আর ছিনতাকারী গ্রুপ রয়েছে ২৫টি।

ইয়াবা তৈরির কারখানা

অনুসন্ধানে জানা যায়, চনপাড়ায় ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে ওঠেছে। ইয়াবা কারবারির ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়, চনপাড়ায় ইয়াবা পাচার কাজে ব্যবহার করা হয় নারীদের। এসব নারীরা গোপনাঙ্গের ভেতরে ইয়াবা প্রবেশ করিয়ে নিয়ে আসছে। চনপাড়ার নারী ভ্যাম্পায়াররা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে গোপনাঙ্গে ইয়াবা পাচারের প্রশিক্ষণ রপ্ত করে আসে। বর্তমানে চনপাড়ার তিন ডজন নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে গোপনাঙ্গে করে ইয়াবা পাচারের কাজ করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশিক্ষণরত এক নারী কারবারি বলেন, গোপনাঙ্গে ৬০০ ইয়াবা রাখার ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। আকারে ছোট হওয়ায় কনডমে ভরে মুড়িয়ে নারীদের গোপনাঙ্গে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এতে কোন সমস্যা হয় না।

৪৪ বছরে ১৭ খুন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চনপাড়া পূর্নবাসনে গত ৪৪ বছরে ১৭টি ভয়াবহ খুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। ১৯৭৬ সালে বাদশা মিয়া খুনের মধ্য দিয়ে চনপাড়ায় খুনের শিল্পায়ন শুরু হয়। ১৯৭৯ সালে খুনের শিকার হন খয়ের পার্টির সদস্য হাফেজ আলী, ১৯৮২ সালে খুন হন পারভেজ মিয়া, ১৯৯৪ সালে খুনের শিকার হয় চাঁন মিয়া, ২০০৩ সালে ফিরোজ সরকার, ২০০৪ সালে ফারুক মিয়া। ২০০৫ সালে খুন হয় পুলিশের এএসআই হানিফ মিয়া ও ক্রিকেটার ফালান মিয়া। ২০০৮ সালে খুন হন আব্দুর রহমান, ২০১১ সালে হত্যার শিকার হয় র‌্যাবের সোর্স খোরশেদ মিয়া। ২০১৬ সালের ১২ মার্চ প্রজন্মলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে হত্যার শিকার হয় আসলাম হোসেন নামে এক স্কুল ছাত্র, গত ১৭ মাস আগে ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর থানা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হাসান মুহুরিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৬ জুন খুন হন নিহত হাসান মুহুরির স্ত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার কুট্রি।

পুলিশ সদস্য হানিফ মিয়া ছাড়া বাকি পুরনো সব হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত স্বাক্ষীবলের অভাবেই মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে বলে এলাকাবাসী মনে করেন।

সূত্রে জানা যায়, চনপাড়ায় রয়েছে ৪০ জনের মতো ভাড়াটে কিলার। রূপগঞ্জের আলোচিত সব খুনের সঙ্গে চনপাড়ার কিলাররা জড়িত রয়েছে। এ বস্তিতে আসতো নারায়ণগঞ্জের একসময়কার শীর্ষ সন্ত্রাসী কামরুজ্জামান কামু, আনোয়ার। ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী টোকাই সাগর, মুরগী মিলন, পিচ্চি হান্নানসহ অনেকে। ৭৪’-র পরবর্তী রূপগঞ্জের আলোচিত ৪২ হত্যাকাণ্ডের ২৯টি সংঘটিত হয়েছে এ বস্তিতে বসবাসরত কিলারদের মাধ্যমে।

চাঞ্চল্যকর শিল্পপতি রাসেল ভূইয়া, খালেদ বিন জামাল, তারেক বিন জামাল, ছাত্রদল নেতা শফিকুল ইসলাম, কাঞ্চনের মোক্তার হোসেন, ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন, উপশহরের ঠিকাদার বেলায়েত হোসেনসহ আলোচিত অধিকাংশ হত্যা মামলার আসামি চনপাড়া বস্তি এলাকার।

সোর্সদের দাপটে অতিষ্ঠ

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশের সোর্সদের কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। এসব সোর্সরা বিনা দোষে সাধারণ মানুষকে ফাসিয়ে দিচ্ছে। চনপাড়ার অবৈধ ব্যবসাকে ঘিরে গড়ে ওঠেছে এসব সোর্স। এদের মাধ্যমেই থানা পুলিশ টাকা আদায় করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, চনপাড়া নানা অপরাধের এলাকা এটা সত্য। তবে খুব শীঘ্রই অভিযান চালিয়ে অপরাধ নির্মূল করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, আমার জানা নেই। তবে শুনেছি এটা ক্রাইম জোন। যৌথ অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com