ভিতরের শত্রু

‘ভাইসব! কবিতা নামে চার বছরের একটি শিশু হারিয়ে গেছে। তার বাবার নাম কোরবান আলি। কেউ তার সন্ধান পেলে খবর দিন।’ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বটতলাহাটের কালীগঞ্জ ফুলবাগান থেকে ফুটফুটে শিশু কবিতা নিখোঁজ হয়। তার সন্ধানে শহর ও তার আশপাশ এলাকায় চলছে মাইকিং। মাইকিং করছিলেন শিশুটির চাচা শিহাব ও সাগর। কিন্তু পুলিশ, র‌্যাব আর মাইকিং করেও কবিতার কোনো খোঁজ মিলছে না। প্রিয় সন্তানকে না পেয়ে বাবা কোরবান আলী পাগলপ্রায়। মা পড়েছেন বিছানায়। সবাই যে যার মতো করে খোঁজ করছেন। নির্ঘুম রাত কাটে কোরবান আলীর পরিবারের। সাতসকালেই ফোন আসে কোরবান আলীর কাছে। ‘আপনার মেয়ে আমাদের কাছে। পাঁচ লাখ টাকা দিলে কবিতাকে ফেরত দেওয়া হবে। অন্যথায় কবিতাকে ফেরত পাওয়ার আশা ছেড়ে দিলেই ভালো হবে।’ ফোন কলারের এমন কথায় ভয় পেলেও সন্তান ফিরে পাওয়ার আশা দেখতে পান তিনি। কোরবান আলী তার খালাতো ভাই শিহাব ও সাগরের সঙ্গে বিষয়টি পরামর্শ করেন। শিহাব ও সাগর অপহরণকারীদের কথায় রাজি হতে বলেন। অপহরণকারীরা আবারও ফোন দিলে কোরবান আলী টাকা দেবে বলে কথা দেন। সেদিনই বিকাশে ২৫ হাজার টাকা পাঠান অপহরণকারীদের দেওয়া কয়েকটি নম্বরে। কিন্তু কবিতাকে ফেরত পাওয়ার বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য দিচ্ছে না তারা। এদিকে নিয়মিত মাইকিং করেই যাচ্ছে শিহাব আর সাগর। কিন্তু সন্ধান নেই কবিতার। দিশাহারা কোরবান আলী। তিনি শিহাবকে নিয়ে থানা পুলিশ র‌্যাবের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছেন। র‌্যাব কর্মকর্তাদের কাছে তারা অনুরোধ করেন, যে কোনোভাবেই যেন অপহরণকারীদের গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাবের কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করেন। কোরবান আলীর কাছে আবারও ফোন আসে। মুক্তিপণের টাকার জন্য চাপ দেয়। এবার কোরবান আলী র‌্যাবের কাছে গিয়ে অপহরণকারীদের সেই ফোন নম্বর দিয়ে আসেন। র‌্যাব অপহরণকারীদের ফোন নম্বর নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে থাকে। ট্র্যাকিং করতে থাকে নম্বরটি।

পেরিয়ে গেছে পাঁচ দিন। কবিতার সন্ধানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের লোকজন নানাভাবে কাজ করছেন। শিহাব, সাগর র‌্যাব কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তাদের আবারও অনুরোধ জানান, যেন কবিতাকে খুঁজে পায় তারা।

র‌্যাব কর্মকর্তারা অপহরণকারীদের ফোন ট্র্যাকিং করতে গিয়ে পেয়ে যায় একটি পরিচিত নম্বর। তারা নাম্বারটি বার বার মিলিয়ে নিশ্চিত হয়, এই নাম্বারটি কোরবান আলীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একজনের। আর তিনি হলেন কোরবান আলীর আপন খালাত ভাই শিহাবের। যিনি ব্যাকুল হয়ে নিখোঁজের মাইকিং করছেন দিন-রাত। র‌্যাব কার্যালয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন। তদন্তে নতুন মোড় পায়।

তবে কেন? র‌্যাব কার্যালয়ে শিহাবের উপস্থিতি নিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তার মাথায় নতুন প্রশ্ন। তবে কি শিহাব তাদের মুভমেন্ট জানতে আসত কৌশলে! যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনোভাবেই তাকে সন্দেহ না করে। আর তাদের মুভমেন্ট বা তদন্ত সম্পর্কেও হালনাগাদ থাকা। নিজেকে সেইফে রাখা? র‌্যাব কর্মকর্তারা এবার একটু নড়েচড়ে বসলেন। কোনোভাবেই সময় দেওয়া যাবে না। তাকে দ্রুত কবজায় নিতে হবে। নতুবা পালিয়ে যেতে পারে। র‌্যাব এবার অভিযান চালায়। দুপুরে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় শিহাবকে। একই সময়ে র‌্যাবের অপর একটি দল পাশের গ্রামে অভিযান চালায় সাগরের বাসায়। কিন্তু চতুর সাগর র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালাতে থাকে। র‌্যাবও পিছু নেয়। সাগর একপর্যায়ে গোমস্থাপুরের একটি রেলব্রিজে উঠে দৌড়াতে থাকে। একপর্যায়ে সাগর নদীতে ঝাঁপ দেয়। র‌্যাব নদীর দুই ধারে ব্যারিকেড দেয়। দীর্ঘ সময় সাঁতার কেটে ক্লান্ত হয়ে পড়ে সাগর। একপর্যায়ে তাকে তীরে আসতেই হয়। কিন্তু তীরে আছে র‌্যাবের দল। ধরা দেয় সাগর। গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত শিহাব-সাগর মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে যায়। গ্রেফতারকৃত দুজনকে র‌্যাব দফতরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখনো সবার মনেই একটি বিষয় দোল খাচ্ছিল। কবিতা কোথায়? র‌্যাব কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রশ্ন রাখেন কর্মকর্তারা, কবিতা কোথায় বল? কোথায় লুকিয়ে রেখেছিস? শিহাব দেখায় সাগরকে, আর সাগর দেখায় শিহাবকে। একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে সেই ভয়ঙ্কর তথ্য। কবিতা নেই, তাকে হত্যা করেছি। শিহাবের মুখ থেকে প্রথম বেরিয়ে আসে এ তথ্য। র‌্যাব কর্মকর্তারা হতাশ! ক্ষুব্ধ। শিহাব বলে, ‘পাঁচ লাখ টাকার জন্য আপন খালাতো ভাই কোরবান আলীর চার বছরের কন্যা কবিতাকে অপহরণের সিদ্ধান্ত নিই। সকালে বাসার সামনে খেলছিল কবিতা। ভাবলাম এটাই সুযোগ। সাগরকে নিয়ে কবিতাকে তুলে নিয়ে আসি। ভেবেছি তাকে আটকে রেখে টাকা আদায় করব। কিন্তু কবিতা কান্নাকাটি করায় আমরা ভাবতে পারছিলাম না কী করব। ও আমাদের চিনেও ফেলেছিল। তাই কবিতাকে বাসার ছাদে নিয়ে একটি রান্নাঘরের ভিতর নিয়ে যাই। সেখানে শ্বাসরোধ করে হত্যা করি। পরে লাশটি নিয়ে আমার বড়ভাই জহিরের বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে আসি। কিন্তু দুই দিন পর দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। এতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সেখান থেকে লাশটি তুলে নিয়ে আসি। সেখান থেকে লাশ তুলে একটি ট্রাভেল ব্যাগে করে নিয়ে পোলডাঙ্গা স্কুল সংলগ্ন মনসুরের চাতালের পেছনে মাটির নিচে পুঁতে রাখি। আমাকে যেন কেউ সন্দেহ না করে, সেজন্য আমি সাগরকে নিয়ে কবিতা নিখোঁজের মাইকিং করি।’ কবিতাকে হত্যার পর থেকেই আমরা কোরবান আলীর কাছে মুক্তিপণের টাকা দাবি করতে থাকি, জানায় অপর খুনি সাগর। র‌্যাব তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর সেদিনই কবিতার লাশ মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পৌর এলাকার বটতলাহাট সংলগ্ন কালীগঞ্জ ফুলবাগানের চার বছরের নিষ্পাপ শিশুকন্যা কবিতা হত্যা মামলায় দুই খুনি শিহাব ও সাগরকে মৃত্যুদন্ড দেয় আদালত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ কবিতা খানম চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এ আদেশ প্রদান করেন। ঘটনার চার মাস পর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলার রায় প্রদান করা হয়। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরের শিহাব আর সাগর ছিল ঘরের ভিতরের শত্রু। বাইরের শত্রু থেকে নিজেদের কখনো কখনো রক্ষা করা গেলেও ভিতরের শত্রুরা হয় সব সময় ভয়ঙ্কর। যে কারণে প্রতিটি মানুষকেই এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। যে ধরনের সম্পকই হোক না কেন, নিজের ঘরে প্রবেশ করানোর আগে বার বার চিন্তা করতে হবে। আর ঘরে ছোট শিশু সন্তান থাকলে ভাবনার ধরনটা আরও গভীর হতে হবে। বাবা-মায়ের সচেতনতার অভাবে চার বছরের শিশুকে নির্মমভাবে খুনের শিকার হতে হলো।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» অবিরল

» হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে প্রবাসীকে হত্যা করল স্ত্রী-সন্তানরা

» শাহজালালে ৬০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার জব্দ

» ইনস্টাগ্রামে ‘নেমট্যাগ’ করবেন যেভাবে

» এফআর টাওয়ারের পাশের ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ২ ইউনিট

» দেবের সব ছবিতে আমাকে নিতেই হবে এটা ভুল: রুক্মিণী

» থানায় মারধরের পর সিগারেটের ছ্যাকা, ওসির বিরুদ্ধে মামলা

» ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি, সবাইকে ধরব: প্রধানমন্ত্রী

» ক্যাসিনো চলে জানতেন না মেনন

» গ্রেফতার হচ্ছেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট!

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

ভিতরের শত্রু

‘ভাইসব! কবিতা নামে চার বছরের একটি শিশু হারিয়ে গেছে। তার বাবার নাম কোরবান আলি। কেউ তার সন্ধান পেলে খবর দিন।’ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বটতলাহাটের কালীগঞ্জ ফুলবাগান থেকে ফুটফুটে শিশু কবিতা নিখোঁজ হয়। তার সন্ধানে শহর ও তার আশপাশ এলাকায় চলছে মাইকিং। মাইকিং করছিলেন শিশুটির চাচা শিহাব ও সাগর। কিন্তু পুলিশ, র‌্যাব আর মাইকিং করেও কবিতার কোনো খোঁজ মিলছে না। প্রিয় সন্তানকে না পেয়ে বাবা কোরবান আলী পাগলপ্রায়। মা পড়েছেন বিছানায়। সবাই যে যার মতো করে খোঁজ করছেন। নির্ঘুম রাত কাটে কোরবান আলীর পরিবারের। সাতসকালেই ফোন আসে কোরবান আলীর কাছে। ‘আপনার মেয়ে আমাদের কাছে। পাঁচ লাখ টাকা দিলে কবিতাকে ফেরত দেওয়া হবে। অন্যথায় কবিতাকে ফেরত পাওয়ার আশা ছেড়ে দিলেই ভালো হবে।’ ফোন কলারের এমন কথায় ভয় পেলেও সন্তান ফিরে পাওয়ার আশা দেখতে পান তিনি। কোরবান আলী তার খালাতো ভাই শিহাব ও সাগরের সঙ্গে বিষয়টি পরামর্শ করেন। শিহাব ও সাগর অপহরণকারীদের কথায় রাজি হতে বলেন। অপহরণকারীরা আবারও ফোন দিলে কোরবান আলী টাকা দেবে বলে কথা দেন। সেদিনই বিকাশে ২৫ হাজার টাকা পাঠান অপহরণকারীদের দেওয়া কয়েকটি নম্বরে। কিন্তু কবিতাকে ফেরত পাওয়ার বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য দিচ্ছে না তারা। এদিকে নিয়মিত মাইকিং করেই যাচ্ছে শিহাব আর সাগর। কিন্তু সন্ধান নেই কবিতার। দিশাহারা কোরবান আলী। তিনি শিহাবকে নিয়ে থানা পুলিশ র‌্যাবের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছেন। র‌্যাব কর্মকর্তাদের কাছে তারা অনুরোধ করেন, যে কোনোভাবেই যেন অপহরণকারীদের গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাবের কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করেন। কোরবান আলীর কাছে আবারও ফোন আসে। মুক্তিপণের টাকার জন্য চাপ দেয়। এবার কোরবান আলী র‌্যাবের কাছে গিয়ে অপহরণকারীদের সেই ফোন নম্বর দিয়ে আসেন। র‌্যাব অপহরণকারীদের ফোন নম্বর নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে থাকে। ট্র্যাকিং করতে থাকে নম্বরটি।

পেরিয়ে গেছে পাঁচ দিন। কবিতার সন্ধানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের লোকজন নানাভাবে কাজ করছেন। শিহাব, সাগর র‌্যাব কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তাদের আবারও অনুরোধ জানান, যেন কবিতাকে খুঁজে পায় তারা।

র‌্যাব কর্মকর্তারা অপহরণকারীদের ফোন ট্র্যাকিং করতে গিয়ে পেয়ে যায় একটি পরিচিত নম্বর। তারা নাম্বারটি বার বার মিলিয়ে নিশ্চিত হয়, এই নাম্বারটি কোরবান আলীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একজনের। আর তিনি হলেন কোরবান আলীর আপন খালাত ভাই শিহাবের। যিনি ব্যাকুল হয়ে নিখোঁজের মাইকিং করছেন দিন-রাত। র‌্যাব কার্যালয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন। তদন্তে নতুন মোড় পায়।

তবে কেন? র‌্যাব কার্যালয়ে শিহাবের উপস্থিতি নিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তার মাথায় নতুন প্রশ্ন। তবে কি শিহাব তাদের মুভমেন্ট জানতে আসত কৌশলে! যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনোভাবেই তাকে সন্দেহ না করে। আর তাদের মুভমেন্ট বা তদন্ত সম্পর্কেও হালনাগাদ থাকা। নিজেকে সেইফে রাখা? র‌্যাব কর্মকর্তারা এবার একটু নড়েচড়ে বসলেন। কোনোভাবেই সময় দেওয়া যাবে না। তাকে দ্রুত কবজায় নিতে হবে। নতুবা পালিয়ে যেতে পারে। র‌্যাব এবার অভিযান চালায়। দুপুরে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় শিহাবকে। একই সময়ে র‌্যাবের অপর একটি দল পাশের গ্রামে অভিযান চালায় সাগরের বাসায়। কিন্তু চতুর সাগর র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালাতে থাকে। র‌্যাবও পিছু নেয়। সাগর একপর্যায়ে গোমস্থাপুরের একটি রেলব্রিজে উঠে দৌড়াতে থাকে। একপর্যায়ে সাগর নদীতে ঝাঁপ দেয়। র‌্যাব নদীর দুই ধারে ব্যারিকেড দেয়। দীর্ঘ সময় সাঁতার কেটে ক্লান্ত হয়ে পড়ে সাগর। একপর্যায়ে তাকে তীরে আসতেই হয়। কিন্তু তীরে আছে র‌্যাবের দল। ধরা দেয় সাগর। গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত শিহাব-সাগর মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে যায়। গ্রেফতারকৃত দুজনকে র‌্যাব দফতরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখনো সবার মনেই একটি বিষয় দোল খাচ্ছিল। কবিতা কোথায়? র‌্যাব কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রশ্ন রাখেন কর্মকর্তারা, কবিতা কোথায় বল? কোথায় লুকিয়ে রেখেছিস? শিহাব দেখায় সাগরকে, আর সাগর দেখায় শিহাবকে। একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে সেই ভয়ঙ্কর তথ্য। কবিতা নেই, তাকে হত্যা করেছি। শিহাবের মুখ থেকে প্রথম বেরিয়ে আসে এ তথ্য। র‌্যাব কর্মকর্তারা হতাশ! ক্ষুব্ধ। শিহাব বলে, ‘পাঁচ লাখ টাকার জন্য আপন খালাতো ভাই কোরবান আলীর চার বছরের কন্যা কবিতাকে অপহরণের সিদ্ধান্ত নিই। সকালে বাসার সামনে খেলছিল কবিতা। ভাবলাম এটাই সুযোগ। সাগরকে নিয়ে কবিতাকে তুলে নিয়ে আসি। ভেবেছি তাকে আটকে রেখে টাকা আদায় করব। কিন্তু কবিতা কান্নাকাটি করায় আমরা ভাবতে পারছিলাম না কী করব। ও আমাদের চিনেও ফেলেছিল। তাই কবিতাকে বাসার ছাদে নিয়ে একটি রান্নাঘরের ভিতর নিয়ে যাই। সেখানে শ্বাসরোধ করে হত্যা করি। পরে লাশটি নিয়ে আমার বড়ভাই জহিরের বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে আসি। কিন্তু দুই দিন পর দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। এতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সেখান থেকে লাশটি তুলে নিয়ে আসি। সেখান থেকে লাশ তুলে একটি ট্রাভেল ব্যাগে করে নিয়ে পোলডাঙ্গা স্কুল সংলগ্ন মনসুরের চাতালের পেছনে মাটির নিচে পুঁতে রাখি। আমাকে যেন কেউ সন্দেহ না করে, সেজন্য আমি সাগরকে নিয়ে কবিতা নিখোঁজের মাইকিং করি।’ কবিতাকে হত্যার পর থেকেই আমরা কোরবান আলীর কাছে মুক্তিপণের টাকা দাবি করতে থাকি, জানায় অপর খুনি সাগর। র‌্যাব তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর সেদিনই কবিতার লাশ মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পৌর এলাকার বটতলাহাট সংলগ্ন কালীগঞ্জ ফুলবাগানের চার বছরের নিষ্পাপ শিশুকন্যা কবিতা হত্যা মামলায় দুই খুনি শিহাব ও সাগরকে মৃত্যুদন্ড দেয় আদালত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ কবিতা খানম চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এ আদেশ প্রদান করেন। ঘটনার চার মাস পর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলার রায় প্রদান করা হয়। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরের শিহাব আর সাগর ছিল ঘরের ভিতরের শত্রু। বাইরের শত্রু থেকে নিজেদের কখনো কখনো রক্ষা করা গেলেও ভিতরের শত্রুরা হয় সব সময় ভয়ঙ্কর। যে কারণে প্রতিটি মানুষকেই এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। যে ধরনের সম্পকই হোক না কেন, নিজের ঘরে প্রবেশ করানোর আগে বার বার চিন্তা করতে হবে। আর ঘরে ছোট শিশু সন্তান থাকলে ভাবনার ধরনটা আরও গভীর হতে হবে। বাবা-মায়ের সচেতনতার অভাবে চার বছরের শিশুকে নির্মমভাবে খুনের শিকার হতে হলো।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com