বিশ্ব মা দিবসে নিবেদিত পাঁচটি কবিতা

মাতৃছায়া, পরবাসে  
ফকির ইলিয়াস

যে সমুদ্রের কাছে গিয়ে বিলীন হয়ে যায় আমার সকল বাধ্যবাধকতা,
যে সূর্য প্রতিটি ভোরে আমার জন্য লিখে রাখে বিনম্র কবিতাগুচ্ছ
আমি তার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই দেখি,
দুটি হাত ডাকছে আমাকে,
‘খোকা আয়, কাছে আয়
আর কতো,পথের পরবাস !’

পথেই হারিয়ে গেছে আমার পথ। আর স্বপ্নগুলো নিরুদ্দেশ
হয়ে গেছে সেই কবে, তবুও মোহের শঙ্খ বাজাতে বাজাতে
আমি খুঁজেছি জলের ভবিষ্যত আর অশ্রুর আগামী।

শীঘ্রই ফিরে আসবো বলে যে অঙ্গীকার মাকে দিয়েছিলাম
– তা রাখতে পারিনি। পারিনি অনেক কিছুই,
হিসেবের খাতা ইষ্ট রিভারে ছুঁড়ে  ফেলে,
যোগ দিয়েছি মধ্যজুনের ম্যারাথনে। আর বলেছি
আমি কোনোকালেই অংকবিদ্যার ছাত্র ছিলাম না।

মা আমাকে বার বারই ক্ষমা করে দিয়েছেন।
আর বলেছেন- ‘যোগ বিয়োগ তোমাকে করতে হবে না খোকা!
তুমি ফিরে এসো।
যে মাটি আমি আঁকড়ে রেখেছি- তা গ্রহণ করো, আর সেই
চিহ্নসমূহ, জারুল গাছের ছায়ায় মিশে যাওয়া
সেইসব মার্বেলসন্ধ্যার আলো ……….

নীলপরী ও রাখাল বালক
কালাম আজাদ

সব বসন্ত বাতাসে নদী আপন গর্ভে
কাছে এসেও খুঁজে না পেয়ে জল-সেই নীলপরী
মৎস্যকন্যা’কে দোষারোপ করলো বটে
না পাবার যন্ত্রণায়, আমি জানি শুধু
সব নদী এখনো প্রবাহিত গৃহস্থ সুখে !

কিছু পথ ধরে আসা যাওয়া উড়িয়ে ধুলা, বৃথা রাখাল বালক
বাঁশরিয় মন ময়না ;
খই ছড়িয়ে গোমর ছিটিয়ে পবিত্র আকাশ
না না তাকাবো না বাঁশকাঠি ধান গোলায়
এবার মায়া রেখে যাক সন্তান
গৃহ কি গৃহ হয়ে আসে জীবনে !

 
কৃষিকলোনি
সুবীর সরকার

ধুলিয়ার রাস্তায় বাঘ এসেছিল
বাঘ মেখে নিচ্ছে জলের ছায়া
ভঙ্গি গুজে দিয়ে সাঁকো পারাপার
ভয়ভীতি এড়িয়েই বাঘ এসেছিল

চাঁদঢালা রাত,টর্চ জ্বালিয়ে
মঞ্চভাবনা।
শীতস্মৃতির সমাহার। বিষয়ের
ভাঁজ খুঁজছে ছিপছিপে ডাহুক

চোরা আগুনের তাপে দাউদাউ বন্দুক
হাটবাজার ঘুরছে মরিচের গুঁড়ো
কৃষিকলোনির বক্রতায় কথাভাষা
#
ধনুকটি সব পালটে বন্দুকনামা

মাটিমন্ত্র
শিফাত সালমান

একটু বৃষ্টি দিও মা, বলতেই এলো বৈশাখ
একটু ছায়া দিও, বলতেই
হেমন্ত আর শরত এসে ভুলিয়ে দিয়ে গেলো
বর্ষার সকল ঢেউস্মৃতি
আমরা জানলাম, এখানে কোনোদিনই
কোনো ভাঙনের অস্তিত্ব ছিল না।

আমরা বসন্তের ফুল হাতে সড়কে দাঁড়াতেই
মা বললেন- রেণুগুলো উড়িয়ে দে,
আমরা ঘুড়ি উড়ালাম। দেখলাম মায়ের দুটি
হাত আকাশের দিকে তোলা।
মা আমাদের জন্য আশীর্বাদ করছেন ।

মায়ের মোমবাতি
মাহফুজ অনিমেষ

সলতের আলোটা বাড়িয়ে দিলেই দূর হয়ে যায়
পাশের অন্ধকার।
কিছু ছায়া জমা হয় শিয়রে। বালিশের আস্তিনে
মায়ের হাতের পরশ লেগে থাকে।

কাল রাতে এই বালিশটা আমার জন্যই তৈরি
করে দিয়ে গিয়েছিলেন মা। বলেছিলেন- তুই
ঘুমিয়ে যা বাছা, কাল পরীক্ষা !

আমার জীবনের পরীক্ষা আজও শেষ হয়নি।
জানি, মা যে মোমবাতিটি জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন
আমি তার সলতে হয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছি শুধু।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» একটি দল শুধুই সরকারের সমালোচনা করছে:নানক

» মাসুদ রানা ছবির বাজেট ৮৩ কোটি টাকা

» গণপিটুনি ও ধর্ষণ বিএনপি-জামায়াতের নিখুঁত ষড়যন্ত্র : আইনমন্ত্রী

» হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ থেকে প্রিয়া সাহা বহিষ্কার

» নির্ধারিত স্থানের বাইরে কোরবানি পশুর হাট নয় : ডিএমপি কমিশনার

» রিফাত হত্যা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে রিশান ফরাজী

» আ.লীগ বিরোধীদের তালিকায় মন্ত্রী-এমপির সংখ্যাই বেশি

» ছেলেধরা সন্দেহে ৯৯৯ কল দিন, গণপিটুনি নয়

» পচা-মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে জুস

» ৪৮ ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

বিশ্ব মা দিবসে নিবেদিত পাঁচটি কবিতা

মাতৃছায়া, পরবাসে  
ফকির ইলিয়াস

যে সমুদ্রের কাছে গিয়ে বিলীন হয়ে যায় আমার সকল বাধ্যবাধকতা,
যে সূর্য প্রতিটি ভোরে আমার জন্য লিখে রাখে বিনম্র কবিতাগুচ্ছ
আমি তার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই দেখি,
দুটি হাত ডাকছে আমাকে,
‘খোকা আয়, কাছে আয়
আর কতো,পথের পরবাস !’

পথেই হারিয়ে গেছে আমার পথ। আর স্বপ্নগুলো নিরুদ্দেশ
হয়ে গেছে সেই কবে, তবুও মোহের শঙ্খ বাজাতে বাজাতে
আমি খুঁজেছি জলের ভবিষ্যত আর অশ্রুর আগামী।

শীঘ্রই ফিরে আসবো বলে যে অঙ্গীকার মাকে দিয়েছিলাম
– তা রাখতে পারিনি। পারিনি অনেক কিছুই,
হিসেবের খাতা ইষ্ট রিভারে ছুঁড়ে  ফেলে,
যোগ দিয়েছি মধ্যজুনের ম্যারাথনে। আর বলেছি
আমি কোনোকালেই অংকবিদ্যার ছাত্র ছিলাম না।

মা আমাকে বার বারই ক্ষমা করে দিয়েছেন।
আর বলেছেন- ‘যোগ বিয়োগ তোমাকে করতে হবে না খোকা!
তুমি ফিরে এসো।
যে মাটি আমি আঁকড়ে রেখেছি- তা গ্রহণ করো, আর সেই
চিহ্নসমূহ, জারুল গাছের ছায়ায় মিশে যাওয়া
সেইসব মার্বেলসন্ধ্যার আলো ……….

নীলপরী ও রাখাল বালক
কালাম আজাদ

সব বসন্ত বাতাসে নদী আপন গর্ভে
কাছে এসেও খুঁজে না পেয়ে জল-সেই নীলপরী
মৎস্যকন্যা’কে দোষারোপ করলো বটে
না পাবার যন্ত্রণায়, আমি জানি শুধু
সব নদী এখনো প্রবাহিত গৃহস্থ সুখে !

কিছু পথ ধরে আসা যাওয়া উড়িয়ে ধুলা, বৃথা রাখাল বালক
বাঁশরিয় মন ময়না ;
খই ছড়িয়ে গোমর ছিটিয়ে পবিত্র আকাশ
না না তাকাবো না বাঁশকাঠি ধান গোলায়
এবার মায়া রেখে যাক সন্তান
গৃহ কি গৃহ হয়ে আসে জীবনে !

 
কৃষিকলোনি
সুবীর সরকার

ধুলিয়ার রাস্তায় বাঘ এসেছিল
বাঘ মেখে নিচ্ছে জলের ছায়া
ভঙ্গি গুজে দিয়ে সাঁকো পারাপার
ভয়ভীতি এড়িয়েই বাঘ এসেছিল

চাঁদঢালা রাত,টর্চ জ্বালিয়ে
মঞ্চভাবনা।
শীতস্মৃতির সমাহার। বিষয়ের
ভাঁজ খুঁজছে ছিপছিপে ডাহুক

চোরা আগুনের তাপে দাউদাউ বন্দুক
হাটবাজার ঘুরছে মরিচের গুঁড়ো
কৃষিকলোনির বক্রতায় কথাভাষা
#
ধনুকটি সব পালটে বন্দুকনামা

মাটিমন্ত্র
শিফাত সালমান

একটু বৃষ্টি দিও মা, বলতেই এলো বৈশাখ
একটু ছায়া দিও, বলতেই
হেমন্ত আর শরত এসে ভুলিয়ে দিয়ে গেলো
বর্ষার সকল ঢেউস্মৃতি
আমরা জানলাম, এখানে কোনোদিনই
কোনো ভাঙনের অস্তিত্ব ছিল না।

আমরা বসন্তের ফুল হাতে সড়কে দাঁড়াতেই
মা বললেন- রেণুগুলো উড়িয়ে দে,
আমরা ঘুড়ি উড়ালাম। দেখলাম মায়ের দুটি
হাত আকাশের দিকে তোলা।
মা আমাদের জন্য আশীর্বাদ করছেন ।

মায়ের মোমবাতি
মাহফুজ অনিমেষ

সলতের আলোটা বাড়িয়ে দিলেই দূর হয়ে যায়
পাশের অন্ধকার।
কিছু ছায়া জমা হয় শিয়রে। বালিশের আস্তিনে
মায়ের হাতের পরশ লেগে থাকে।

কাল রাতে এই বালিশটা আমার জন্যই তৈরি
করে দিয়ে গিয়েছিলেন মা। বলেছিলেন- তুই
ঘুমিয়ে যা বাছা, কাল পরীক্ষা !

আমার জীবনের পরীক্ষা আজও শেষ হয়নি।
জানি, মা যে মোমবাতিটি জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন
আমি তার সলতে হয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছি শুধু।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com