বাহুবলে প্রাথমিক বৃত্তিতে ব্যাপক দুর্নীতি : নিজ সন্তানের খাতা নিজেই দেখলেন শিক্ষক 

আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার্থীর খাতা ও নম্বরফর্দে ভুয়া নম্বর প্রদান করা হয়েছে এবং নম্বর কাটাকাটি করে বৃদ্ধি করা হয়েছে মর্মে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রিয়াদ নামক একজন পরীক্ষার্থীর অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাহুবল বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, ২০১৮ সালের উপজেলার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ৫ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সন্তান বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেন।

(স্কুলের সাময়িক পরীক্ষা এবং মডেল টেস্ট পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী ৪০০ নম্বরের বেশি পায়নি তারা সমাপনী পরীক্ষায় প্রায় ৬০০ নম্বর পেয়েছে।)

অভিযোগ রয়েছে পরীক্ষক ও নিরীক্ষককে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে শিক্ষকরা তাদের সন্তানদের বৃত্তি ফাইনাল করেন।

স্কুলের সাময়িক পরীক্ষা এবং মডেল টেস্ট পরীক্ষায় যারা ৪শ নাম্বারের বেশি পায়নি সেই ছাত্ররা হলেন :-

১ :- মাহমদুল হক (পশ্চিম ভাদেশ্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়) রোল নং- ৩৪০৬ তার পিতা পশ্চিম ভাদেশ্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
২ :- উন্মে ফারিহা চেীধুরী ( সুজন বিদ্যাপিট) রোল নং- ১৮২২, তার মা উপজেলার হরাইটেকা স্কুলের শিক্ষিকা রাজিয়া খাতুন,
৩ :- সানিয়া আল নওশীন (বাহুবল আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়) রোল নং -১৫৮৬, তার পিতা ফয়জাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল আলম,
৪ :- দীপ শিখা দেবী পূজা (বাহুবল আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়) রোল নং -১৫৯১
৫ :- দ্বীপরাজ নাথ কৃষ্ণ (বাহুবল আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়) রোল নং -১৫৬৩ তাদের মা আদিত্যপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত বৃত্তি পরীক্ষার খাতা স্ব স্ব উপজেলার শিক্ষকগণ নিজে মূল্যায়ন করার কারনেই তাদের পছন্দমত শিক্ষার্থীদের মার্ক কাটাছেড়া করে বেশি পাইয়ে দিয়েছে।

এমনকি নিজের সন্তানের খাতা নিজেই দেখেছেন পশ্চিম ভাদেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হক।
গত বছর প্রাইমারীতে বৃত্তি পাওয়ার হার ছিল নগন্য, কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের শিক্ষার্থীরাই প্রথম হয়েছে বারবার।
এ বছরই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সন্তানরাই বেশি বৃত্তি পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
বিষয়টির তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার ভূমি রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। প্রাথমিক তদন্তে কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা হক বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে আমি বিষয়টি নিয়ে খুব গুরুত্ব সহকারে দেখব ।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» এইচএসসিতে সেরা বীরমুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন কলেজ

» রাজশাহীতে জাল রুপি তৈরির কারখানা

» শিবগঞ্জে দূর্গম এলকায় ব্রীজসহ সংযোগ রাস্তা নির্মান হওয়ায় লক্ষাধিক মানুক উপকৃত

» ঠাকুরগাঁওয়ে বাফুফে’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন

» ফুলপুরে বন্যার পানি দেখতে গিয়ে স্রোতের  কবলে পড়ে মাদ্রাসা ছাত্রী নিহত 

» প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার সুমনের মামলা খারিজ

» ছেলেধরা সন্দেহে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধাকে গণপিটুনি

» জ্বালাও-পোড়াওয়ের কারণে বিএনপি এখন একটি জনধিকৃত দল : তথ্যমন্ত্রী

» প্রিয়া সাহার অভিযোগ নিয়ে যা বললেন জয়

» বিয়ে করেই হানিমুনে কক্সবাজার নাঈম-সারিকা

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

বাহুবলে প্রাথমিক বৃত্তিতে ব্যাপক দুর্নীতি : নিজ সন্তানের খাতা নিজেই দেখলেন শিক্ষক 

আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার্থীর খাতা ও নম্বরফর্দে ভুয়া নম্বর প্রদান করা হয়েছে এবং নম্বর কাটাকাটি করে বৃদ্ধি করা হয়েছে মর্মে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রিয়াদ নামক একজন পরীক্ষার্থীর অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাহুবল বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, ২০১৮ সালের উপজেলার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ৫ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সন্তান বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেন।

(স্কুলের সাময়িক পরীক্ষা এবং মডেল টেস্ট পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী ৪০০ নম্বরের বেশি পায়নি তারা সমাপনী পরীক্ষায় প্রায় ৬০০ নম্বর পেয়েছে।)

অভিযোগ রয়েছে পরীক্ষক ও নিরীক্ষককে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে শিক্ষকরা তাদের সন্তানদের বৃত্তি ফাইনাল করেন।

স্কুলের সাময়িক পরীক্ষা এবং মডেল টেস্ট পরীক্ষায় যারা ৪শ নাম্বারের বেশি পায়নি সেই ছাত্ররা হলেন :-

১ :- মাহমদুল হক (পশ্চিম ভাদেশ্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়) রোল নং- ৩৪০৬ তার পিতা পশ্চিম ভাদেশ্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
২ :- উন্মে ফারিহা চেীধুরী ( সুজন বিদ্যাপিট) রোল নং- ১৮২২, তার মা উপজেলার হরাইটেকা স্কুলের শিক্ষিকা রাজিয়া খাতুন,
৩ :- সানিয়া আল নওশীন (বাহুবল আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়) রোল নং -১৫৮৬, তার পিতা ফয়জাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল আলম,
৪ :- দীপ শিখা দেবী পূজা (বাহুবল আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়) রোল নং -১৫৯১
৫ :- দ্বীপরাজ নাথ কৃষ্ণ (বাহুবল আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়) রোল নং -১৫৬৩ তাদের মা আদিত্যপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত বৃত্তি পরীক্ষার খাতা স্ব স্ব উপজেলার শিক্ষকগণ নিজে মূল্যায়ন করার কারনেই তাদের পছন্দমত শিক্ষার্থীদের মার্ক কাটাছেড়া করে বেশি পাইয়ে দিয়েছে।

এমনকি নিজের সন্তানের খাতা নিজেই দেখেছেন পশ্চিম ভাদেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হক।
গত বছর প্রাইমারীতে বৃত্তি পাওয়ার হার ছিল নগন্য, কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের শিক্ষার্থীরাই প্রথম হয়েছে বারবার।
এ বছরই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সন্তানরাই বেশি বৃত্তি পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
বিষয়টির তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার ভূমি রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। প্রাথমিক তদন্তে কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা হক বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে আমি বিষয়টি নিয়ে খুব গুরুত্ব সহকারে দেখব ।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com