বাংলাদেশে রিকশা এলো কীভাবে?

কম দূরত্বের স্থানে বাহন হিসেবে রিকশা মন্দ নয়। ব্যক্তিগত ভ্রমণেও রিকশার গ্রহণযোগ্যতা আছে। তাই তো যুগ যুগ ধরে শহর বা শহরতলীতে রিকশা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে নাগরিক জীবনে দ্রুত যানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রিকশা অনেক পেছনে। ফলে যানজটের সৃষ্টিও হচ্ছে। সহজলভ্য এ বাহনটি একদিনেই আসেনি বাংলাদেশে। আজ জেনে নিন রিকশা আগমনের ইতিহাস।

রিকশার উৎপত্তি: ‘রিকশা’ শব্দটি জাপানি। মূল শব্দ ‘জিন রিকিশা’, যার অর্থ ‘মনুষ্য চালিত যন্ত্র’। রিকশার উৎপত্তি জাপানে। তবে জাপানি রিকশাগুলো তিন চাকার ছিল না। সেগুলো দুই চাকায় ভর করে চলত। একজন মানুষ তা টেনে নিয়ে যেতেন।

Rikshaw

আবিষ্কারের ইতিহাস: রিকশা আবিষ্কারের সঠিক ইতিহাস নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। তবে অধিকাংশের মতানুসারে, এটি ১৮৬৯ সালে জাপানে আবিষ্কৃত হয়। ১৮৬৯ সালে ইজুমি ইউসুকি, যিনি সুজুকি টোকোজিরো এবং তাকাইয়ামা কোসুকিকে সাথে নিয়ে যৌথভাবে এটি আবিষ্কার করেন।

ক্রমবিকাশ: জাপানে সৃষ্টি হয়ে রিকশা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দেশে। বিশেষ করে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। জাপানের দুই চাকার রিকশা থেকে তিন চাকার রিকশায় বিকশিত হয়। জাপানের রিকশাকে ‘হাতেটানা রিকশা’ বলা হয়। জাপানের পর বিশেষ করে ভারতে এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

Rikshaw

ভারতে রিকশা: ভারতে এখনো বিভিন্ন রকমের রিকশা দেখতে পাওয়া যায়। বিশেষ করে কলকাতা শহরে হাতেটানা রিকশা এখনো চলে। বিশের দশকে ভারতে ‘সাইকেল রিকশা’ প্রবর্তিত হয়। এ ধরনের রিকশাও অনেক দিন ধরে ব্যবহৃত হয়েছে।

বাংলাদেশে রিকশা: বাংলাদেশে রিকশা জাপান থেকে আসেনি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় অনেক পরেই এসেছে বাংলাদেশে। ঢাকায় রিকশার আগমন ঘটে ১৯৩০ সালের দিকে। যদিও ‘রিকশা’ বলতে হাতেটানা রিকশাকেই বোঝানো হতো। তবে বাংলাদেশে এসে এর ধরনও পাল্টাতে থাকে।

বাংলাদেশর ধরন: দেশভেদে এর গঠন ও ধরনে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। তাই বাংলাদেশে তিন চাকার রিকশা ব্যাপক পরিচিত। সাইকেলের আদলে বানানো রিকশায় পেছনে দুটি চাকা থাকে। সিটে দু’জন বসার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কখনো কখনো দুই জনের বেশি লোকও উঠে থাকেন।

Rikshaw

যন্ত্রচালিত রিকশা: পায়ে চালানো রিকশা থেকে একসময় যন্ত্রচালিত রিকশার উদ্ভব হয়। চালক শুধু হ্যান্ডেল ধরে বসে থাকেন। রিকশায় সংযুক্ত বিশেষ মটর রিকশাকে টেনে নিয়ে যায়। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ দ্বারাও এটি চালনার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

আলোচিত রিকশা: রিকশার কারণে ঢাকা শহর চলে আসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ঢাকাকে বলা হয়ে থাকে ‘রিকশার শহর’। যানজটের জন্য অভিযুক্ত করা হয় এ বাহনকে। তাই মূল সড়ক থেকে রিকশা সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।জাগোনিউজ

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ভারতে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ হল মোবাইল

» রাবি শিক্ষার্থীর ওপর দুর্বৃত্তদের হামলা, প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

» মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত বলেই নৃশংস ঘটনা ঘটছে

» নতুন মিশনে পপি

» নিষিদ্ধ জালে মাছ শিকার

» শাপলার বিকি বিল

» জুড়ীর গৌরীপুর সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ

» কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন দেড় যুগেও চালু হয়নি নিজস্ব ভবন

» প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

» জমি দখল করাই তাদের কাজ

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

বাংলাদেশে রিকশা এলো কীভাবে?

কম দূরত্বের স্থানে বাহন হিসেবে রিকশা মন্দ নয়। ব্যক্তিগত ভ্রমণেও রিকশার গ্রহণযোগ্যতা আছে। তাই তো যুগ যুগ ধরে শহর বা শহরতলীতে রিকশা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে নাগরিক জীবনে দ্রুত যানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রিকশা অনেক পেছনে। ফলে যানজটের সৃষ্টিও হচ্ছে। সহজলভ্য এ বাহনটি একদিনেই আসেনি বাংলাদেশে। আজ জেনে নিন রিকশা আগমনের ইতিহাস।

রিকশার উৎপত্তি: ‘রিকশা’ শব্দটি জাপানি। মূল শব্দ ‘জিন রিকিশা’, যার অর্থ ‘মনুষ্য চালিত যন্ত্র’। রিকশার উৎপত্তি জাপানে। তবে জাপানি রিকশাগুলো তিন চাকার ছিল না। সেগুলো দুই চাকায় ভর করে চলত। একজন মানুষ তা টেনে নিয়ে যেতেন।

Rikshaw

আবিষ্কারের ইতিহাস: রিকশা আবিষ্কারের সঠিক ইতিহাস নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। তবে অধিকাংশের মতানুসারে, এটি ১৮৬৯ সালে জাপানে আবিষ্কৃত হয়। ১৮৬৯ সালে ইজুমি ইউসুকি, যিনি সুজুকি টোকোজিরো এবং তাকাইয়ামা কোসুকিকে সাথে নিয়ে যৌথভাবে এটি আবিষ্কার করেন।

ক্রমবিকাশ: জাপানে সৃষ্টি হয়ে রিকশা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দেশে। বিশেষ করে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। জাপানের দুই চাকার রিকশা থেকে তিন চাকার রিকশায় বিকশিত হয়। জাপানের রিকশাকে ‘হাতেটানা রিকশা’ বলা হয়। জাপানের পর বিশেষ করে ভারতে এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

Rikshaw

ভারতে রিকশা: ভারতে এখনো বিভিন্ন রকমের রিকশা দেখতে পাওয়া যায়। বিশেষ করে কলকাতা শহরে হাতেটানা রিকশা এখনো চলে। বিশের দশকে ভারতে ‘সাইকেল রিকশা’ প্রবর্তিত হয়। এ ধরনের রিকশাও অনেক দিন ধরে ব্যবহৃত হয়েছে।

বাংলাদেশে রিকশা: বাংলাদেশে রিকশা জাপান থেকে আসেনি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় অনেক পরেই এসেছে বাংলাদেশে। ঢাকায় রিকশার আগমন ঘটে ১৯৩০ সালের দিকে। যদিও ‘রিকশা’ বলতে হাতেটানা রিকশাকেই বোঝানো হতো। তবে বাংলাদেশে এসে এর ধরনও পাল্টাতে থাকে।

বাংলাদেশর ধরন: দেশভেদে এর গঠন ও ধরনে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। তাই বাংলাদেশে তিন চাকার রিকশা ব্যাপক পরিচিত। সাইকেলের আদলে বানানো রিকশায় পেছনে দুটি চাকা থাকে। সিটে দু’জন বসার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কখনো কখনো দুই জনের বেশি লোকও উঠে থাকেন।

Rikshaw

যন্ত্রচালিত রিকশা: পায়ে চালানো রিকশা থেকে একসময় যন্ত্রচালিত রিকশার উদ্ভব হয়। চালক শুধু হ্যান্ডেল ধরে বসে থাকেন। রিকশায় সংযুক্ত বিশেষ মটর রিকশাকে টেনে নিয়ে যায়। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ দ্বারাও এটি চালনার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

আলোচিত রিকশা: রিকশার কারণে ঢাকা শহর চলে আসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ঢাকাকে বলা হয়ে থাকে ‘রিকশার শহর’। যানজটের জন্য অভিযুক্ত করা হয় এ বাহনকে। তাই মূল সড়ক থেকে রিকশা সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।জাগোনিউজ

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com