বন্ডের ভয়ঙ্কর অনিয়মে মেঘনা গ্রুপ

১ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হয়। তবে মেঘনা গ্রুপের ক্ষমতার দাপটে অনিয়ম উদ্্ঘাটন না করেই প্রতিষ্ঠানটিকে অডিট থেকে খালাস দিতে বাধ্য হয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন অডিট হয় না মেঘনা গ্রুপের দুই বন্ড লাইসেন্সধারী কোম্পানি ইউনাইটেড ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও মেঘনা শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ডকইয়ার্ড লিমিটেডের। ফলে কোটি কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি সহজেই আড়াল করতে সক্ষম হচ্ছে মেঘনা গ্রুপ। আরেক বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান তানভির পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট এর অডিট সম্পন্ন হয়। তবে মেঘনা গ্রুপের ক্ষমতার দাপটে কোনো অনিয়ম শনাক্ত না করেই তানভির পলিমারকে খালাস দেওয়া হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানায়, ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেড শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিশ্ববাজার থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানির পর পরিশোধন করে ‘ফ্রেশ সুগার’ নামে প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করে থাকে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এই প্যাকেটজাত ও বাজারজাতকরণের আড়ালে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামালের অপব্যবহার করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি শুল্ক ফাঁকি দিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে অবৈধভাবে কাঁচামাল অপসারণ করেছে। এ বিষয়ে চলতি বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি এনবিআরে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রায় ১০ কোটি টাকার কাঁচামাল অবৈধভাবে অপসারণের জন্য মজুদ করে রাখা হয়েছে, যার প্রমাণ পেয়েছে কাস্টমস। এর মধ্যে শুল্ককর প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শুল্ককর পরিশোধ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ মেঘনাঘাটে অবস্থিত ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেড ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় শিল্পের বিকাশে প্রণোদনা প্রদানের অংশ হিসেবে ২০০৭ সালে ইউনাইটেড সুগারকে বন্ড লাইসেন্স দেওয়া হয়। বন্ড সুবিধায় একসঙ্গে কাঁচামাল এনে প্রতিষ্ঠানটির বন্ড কমিশনারেটের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে তা পরিশোধন করার কথা। ওই সময় শর্ত দেওয়া হয়, শুল্ককর পরিশোধ করে তবেই এসব কাঁচামাল ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি শর্ত না মেনে অবৈধভাবে কাঁচামাল অপসারণ করে আসছিল। এ অভিযোগে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেড পরিদর্শন করে।

পরিদর্শনের পর বন্ডেড ওয়্যারহাউসে বন্ড রেজিস্টার অপেক্ষা ২ হাজার ৫৬৫ টন কাঁচামাল বেশি পাওয়া যায়। শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে অপসারণের জন্য এসব কাঁচামাল মজুদ করা হয়। এসব কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যার ওপর প্রযোজ্য শুল্ককর প্রায় ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা। প্রিভেনটিভ টিম এ নিয়ে প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে কাঁচামাল অপসারণ করছে কি না তা খতিয়ে দেখার সুপারিশ করা হয়। শুল্ককর পরিশোধ ও কাঁচামাল মজুদ বিষয়ে বন্ড কমিশনারেট থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে দাবিনামা-সংবলিত কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়। জানা গেছে, ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেড ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ছয়টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে ১৪ হাজার ৫৭৭ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে। ৮ ডিসেম্বর বন্ড কমিশনারেট থেকে ছাড়পত্র (রিলিজ অর্ডার) নিয়ে কাঁচামাল অপসারণ শুরু হয়। এর মধ্যে প্রিভেনটিভ টিম বন্ডেড ওয়্যারহাউস পরিদর্শন করে দেখতে পায়, ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেড শুল্ককর ফাঁকি দিতে অবৈধভাবে কাঁচামাল মজুদ করেছে। পরে এ নিয়ে শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা বন্ড কমিশনারেট ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেডকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদ- প্রদান করে। এ অর্থদ- প্রযোজ্য শুল্ককরের অতিরিক্ত হিসেবে পরিশোধ করার কথা বলা হয়। ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেড একই কায়দায় আরও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করছে কি না এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির বন্ডিং কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাজারে বিশৃঙ্খলা ও একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে ভুল বুঝিয়ে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনে বন্ড সুবিধা নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। ভোগ্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের হোতা মেঘনা গ্রুপ বন্ড সুবিধাকে কেন্দ্র করে নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। ফলে ভোগ্যপণ্যের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিশৃঙ্খলা ও বাজার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের নামে দেশি ভোগ্যপণ্য উৎপাদনে বন্ড সুবিধা কোনো বিশেষ মহল পেলে বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। এমন প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহকে দেশি ভোগ্যপণ্য (হোম কনজাম্পশন) উৎপাদনের জন্য বন্ড লাইসেন্স প্রদানের তাগিদ দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে ২০ জুন পত্র প্রেরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-১ মো. জিয়াউল হক। তার স্বাক্ষর করা পত্রে বলা হয়, অর্থনৈতিক অঞ্চলের যে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান ভোগের জন্য দেশি পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বন্ড লাইসেন্স গ্রহণ করে শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়াই কাঁচামাল আমদানি করতে পারবে।

এদিকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানসমূহকে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনে বন্ড লাইসেন্স প্রদানের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন ব্যবসায়ী নেতারা। কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের বন্ড সুবিধায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে। আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে একটি গোষ্ঠী বিদেশে অর্থ পাচার করতে পারে। এতে ভোগ্যপণ্যের বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। সরকারকে দীর্ঘ মেয়াদে বেকায়দায় ফেলতে একটি বিশেষ মহল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অন্যান্য সরকারি দফতরকে ভুল বুঝিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা তৈরির নীল নকশা করছে। এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ  বলেন, ‘ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হতে পারে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্টদের মনে রাখা উচিত, ভোগ্যপণ্যের বাজার একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এখানে কোনো বিশেষ মহলের স্বার্থে বিশেষ সুবিধা দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে বিশৃঙ্খলা কারও কাম্য নয়। আশা করছি এনবিআর অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সবকিছু পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।’ এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন  বলেন, দেশীয় বাজারের জন্য ভোগ্যপণ্য উৎপাদনে বন্ড সুবিধা প্রদানের প্রয়োজন নেই। এতে ব্যবসায় অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। এখানে সমতা অবশ্যই দরকার। এটা না হলে ভোগ্যপণ্যের বাজার মনোপলি বা একচেটিয়া হয়ে যাবে।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» গরু চোরাচালানিদের নিষ্ঠুর কৌশল সুড়ঙ্গ ও ভেলা

» অ্যান্ড্রয়েডে আসছে হোয়াটসঅ্যাপ পেমেন্ট

» শিক্ষকদের দাবি প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে ১০ ধরনের বৈষম্য

» নির্বাচকদের হাতে মাশরাফির ভাগ্য

» ভ্যাটফাঁকি ঠেকাতে ইসিআর মেশিনের বদলে ইএফডি চালু করা হচ্ছে আগামী মার্চ মাসে

» আড়াইহাজারে ইউপি সদস্যের বাড়িতে দুই গরু চোরকে গণধোলাই

» বইমেলায় ধানমন্ডি-৩২ সড়কের ৬৭৭ নম্বর বাড়ির জানালায় বঙ্গবন্ধু

» কলকাতার পর এবার সিপিএলে দল কিনল পাঞ্জাবও

» ইয়াবা আসছেই

» নিজের নামে হাসপাতাল খুলে নিজেই বিশেষজ্ঞ!

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

বন্ডের ভয়ঙ্কর অনিয়মে মেঘনা গ্রুপ

১ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হয়। তবে মেঘনা গ্রুপের ক্ষমতার দাপটে অনিয়ম উদ্্ঘাটন না করেই প্রতিষ্ঠানটিকে অডিট থেকে খালাস দিতে বাধ্য হয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন অডিট হয় না মেঘনা গ্রুপের দুই বন্ড লাইসেন্সধারী কোম্পানি ইউনাইটেড ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও মেঘনা শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ডকইয়ার্ড লিমিটেডের। ফলে কোটি কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি সহজেই আড়াল করতে সক্ষম হচ্ছে মেঘনা গ্রুপ। আরেক বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান তানভির পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট এর অডিট সম্পন্ন হয়। তবে মেঘনা গ্রুপের ক্ষমতার দাপটে কোনো অনিয়ম শনাক্ত না করেই তানভির পলিমারকে খালাস দেওয়া হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানায়, ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেড শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিশ্ববাজার থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানির পর পরিশোধন করে ‘ফ্রেশ সুগার’ নামে প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করে থাকে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এই প্যাকেটজাত ও বাজারজাতকরণের আড়ালে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামালের অপব্যবহার করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি শুল্ক ফাঁকি দিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে অবৈধভাবে কাঁচামাল অপসারণ করেছে। এ বিষয়ে চলতি বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি এনবিআরে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রায় ১০ কোটি টাকার কাঁচামাল অবৈধভাবে অপসারণের জন্য মজুদ করে রাখা হয়েছে, যার প্রমাণ পেয়েছে কাস্টমস। এর মধ্যে শুল্ককর প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শুল্ককর পরিশোধ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ মেঘনাঘাটে অবস্থিত ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেড ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় শিল্পের বিকাশে প্রণোদনা প্রদানের অংশ হিসেবে ২০০৭ সালে ইউনাইটেড সুগারকে বন্ড লাইসেন্স দেওয়া হয়। বন্ড সুবিধায় একসঙ্গে কাঁচামাল এনে প্রতিষ্ঠানটির বন্ড কমিশনারেটের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে তা পরিশোধন করার কথা। ওই সময় শর্ত দেওয়া হয়, শুল্ককর পরিশোধ করে তবেই এসব কাঁচামাল ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি শর্ত না মেনে অবৈধভাবে কাঁচামাল অপসারণ করে আসছিল। এ অভিযোগে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেড পরিদর্শন করে।

পরিদর্শনের পর বন্ডেড ওয়্যারহাউসে বন্ড রেজিস্টার অপেক্ষা ২ হাজার ৫৬৫ টন কাঁচামাল বেশি পাওয়া যায়। শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে অপসারণের জন্য এসব কাঁচামাল মজুদ করা হয়। এসব কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যার ওপর প্রযোজ্য শুল্ককর প্রায় ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা। প্রিভেনটিভ টিম এ নিয়ে প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে কাঁচামাল অপসারণ করছে কি না তা খতিয়ে দেখার সুপারিশ করা হয়। শুল্ককর পরিশোধ ও কাঁচামাল মজুদ বিষয়ে বন্ড কমিশনারেট থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে দাবিনামা-সংবলিত কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়। জানা গেছে, ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেড ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ছয়টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে ১৪ হাজার ৫৭৭ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে। ৮ ডিসেম্বর বন্ড কমিশনারেট থেকে ছাড়পত্র (রিলিজ অর্ডার) নিয়ে কাঁচামাল অপসারণ শুরু হয়। এর মধ্যে প্রিভেনটিভ টিম বন্ডেড ওয়্যারহাউস পরিদর্শন করে দেখতে পায়, ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেড শুল্ককর ফাঁকি দিতে অবৈধভাবে কাঁচামাল মজুদ করেছে। পরে এ নিয়ে শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা বন্ড কমিশনারেট ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেডকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদ- প্রদান করে। এ অর্থদ- প্রযোজ্য শুল্ককরের অতিরিক্ত হিসেবে পরিশোধ করার কথা বলা হয়। ইউনাইটেড সুগার মিলস লিমিটেড একই কায়দায় আরও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করছে কি না এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির বন্ডিং কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাজারে বিশৃঙ্খলা ও একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে ভুল বুঝিয়ে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনে বন্ড সুবিধা নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। ভোগ্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের হোতা মেঘনা গ্রুপ বন্ড সুবিধাকে কেন্দ্র করে নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। ফলে ভোগ্যপণ্যের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিশৃঙ্খলা ও বাজার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের নামে দেশি ভোগ্যপণ্য উৎপাদনে বন্ড সুবিধা কোনো বিশেষ মহল পেলে বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। এমন প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহকে দেশি ভোগ্যপণ্য (হোম কনজাম্পশন) উৎপাদনের জন্য বন্ড লাইসেন্স প্রদানের তাগিদ দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে ২০ জুন পত্র প্রেরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-১ মো. জিয়াউল হক। তার স্বাক্ষর করা পত্রে বলা হয়, অর্থনৈতিক অঞ্চলের যে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান ভোগের জন্য দেশি পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বন্ড লাইসেন্স গ্রহণ করে শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়াই কাঁচামাল আমদানি করতে পারবে।

এদিকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানসমূহকে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনে বন্ড লাইসেন্স প্রদানের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন ব্যবসায়ী নেতারা। কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের বন্ড সুবিধায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে। আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে একটি গোষ্ঠী বিদেশে অর্থ পাচার করতে পারে। এতে ভোগ্যপণ্যের বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। সরকারকে দীর্ঘ মেয়াদে বেকায়দায় ফেলতে একটি বিশেষ মহল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অন্যান্য সরকারি দফতরকে ভুল বুঝিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা তৈরির নীল নকশা করছে। এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ  বলেন, ‘ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হতে পারে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্টদের মনে রাখা উচিত, ভোগ্যপণ্যের বাজার একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এখানে কোনো বিশেষ মহলের স্বার্থে বিশেষ সুবিধা দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে বিশৃঙ্খলা কারও কাম্য নয়। আশা করছি এনবিআর অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সবকিছু পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।’ এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন  বলেন, দেশীয় বাজারের জন্য ভোগ্যপণ্য উৎপাদনে বন্ড সুবিধা প্রদানের প্রয়োজন নেই। এতে ব্যবসায় অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। এখানে সমতা অবশ্যই দরকার। এটা না হলে ভোগ্যপণ্যের বাজার মনোপলি বা একচেটিয়া হয়ে যাবে।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com