ফুলপুরে পানির দরে বিক্রি হয়েছে কোরবানির চামড়া, মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

মোঃ খলিলুর রহমান,ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃময়মনসিংহের ফুলপুরে পানির দরে বিক্রি হয়েছে কোরবানির চামড়া। কম দামে বিক্রি হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। অর্ধেক দামে চামড়া বিক্রি করে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। ঈদ উল আযহার সকালে পশু কোরবানির পর পরই ফুলপুর পৌর এলাকার পাড়া মহল্লায় ও ইউনিয়নের গ্রাম-গঞ্জে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পিস হিসেবে গরু ও খাসির চামড়া সংগ্রহ করেন। একেকটি গরুর চামড়া আকার ভেদে ২’শ থেকে ৬/৭শ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করেছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এক ব্যবসায়ী বলেন, ৬শ টাকা দিয়ে কিনে নিলাম, কিন্ত বিক্রি করলাম ৪’শ টাকা।

এদিকে, ঈদের দিন বিকাল থেকেই ফুলপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ছোট ট্রলী, ভ্যানে ও রিক্সায় করে কাঁচা চামড়া নিয়ে আসতে শুরু করেন ফুলপুর বাসষ্ট্যান্ড অস্থায়ী চামড়ার হাটে। ফুলপুরের এই চামড়ার হাটে  পানির দরে বিক্রি করতে হয়েছে  কোরবানির চামড়া। পানির দরে চামড়া বিক্রি হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। ট্যানারী প্রতিনিধি ও আড়ৎদাররা সিন্ডিকেট করে  কোরবানীর পশুর চামড়া কম দামে কিনছেন অভিযোগ মৌসুমী ব্যবসায়ীদের।
এবছর ঢাকার বাইরে প্রতিবর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ধরা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।কিন্তু ফুলপুরে তা কেউ মানেনি।

ঈদের রাতে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ডে চামড়ার হাটে গেলে চামড়া ব্যবসায়ী সুমন মিয়া জানান, খাশির চামড়া ১০ থেকে ৩০ টাকায কিনা হচ্ছে। আর গরুর চামড়া প্রতিটি ৫০ থেকে ৩’শ টাকায় কিনতাছি। বৈঠামারী গ্রামের রাকিবুল ইসলাম মাহফুজ বলেন, আমরা সাত জনে মিলে ৬৫ হাজার টাকায় একটি গরু কোরবানী করেছিলাম। পরে এর চামড়া নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও কেউ চামড়া নিতে চায় না। অবশেষে একজন পাইকারের নিকট যাইস্যা বিক্রি করেছি। ঈদের দিন সোমবার রাতে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চামড়া বাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় চামড়ার দর খুবই কম। রূপসী বাঁশাটী, বালিয়া, বওলা ও পাগলা গ্রামে খবর নিয়ে জানা যায়, ওইসব এলাকায় চামড়ার দর বাসস্ট্যান্ডের চেয়েও কম। উপজেলার পারতলা গ্রামের আবুল কাসেম ৪টি গরুর চামড়া নিয়ে আমুয়াকান্দা ব্রিজের গোড়ায় অসহায়ের মত বসে আছেন। তিনি জানান, ২ ঘন্টা ধরে বসে আছি। আমার ৪টা চামড়া ৫’শ টেহার উপরে কেউই দাম কয় না। তবে জামিয়া মাদানিয়া দারুল উলূম গোদারিয়ার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল খালেক জানিয়েছেন তাদের ৫৩টি চামড়া প্রতিটি ৬শ টাকা করে বিক্রি করেছেন। আর খাশী বিক্রি করেছেন ৩০ টাকা করে।
চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ৫’শ টেহার উপরে অহন কোন চামড়া কিনছি না। ছাগল খাশীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাগল খাশী আমরা কিনি না।
হালুয়াঘাট উপজেলার নড়াইল গ্রামের মোশাররফ হোসেন রিপন বলেন, আমরা ৫ জনে একটা গরু কোরবানী দিছি। চামড়া বিক্রি করে ভাগে পাইছি মাত্র ১০০ টাকা। অন্তত ১০ টা মাদ্রাসা থেকে চামড়ার টাকা চাইয়া গেছে। আর আশপাশের গরিবরা তো আছেই। অহন কারে কইথ্যে দিব, বলেন? আমুযাকান্দা গ্রামের মোতালেব চামড়ার দর পতনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চামড়ার দর পতনের কারণে মাদ্রাসার এতিম অনাথ ও নিঃস্ব গরিবরা বঞ্চিত হবে। বিষয়টি বিবেচনার জন্য তিনি সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বিপিএল লস প্রজেক্ট, আগামী বছর থাকবো কিনা চিন্তা করছি : নাফিসা

» এক গানেই ২ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিলেন জ্যাকলিন

» ঘুষের নাম বড় বাবু, স্কুল প্রতি ১০ হাজার টাকা

» পঙ্গু হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্সের মৃত্যু

» খালেদা জিয়া গ্রেনেড হামলার দায় এড়াতে পারেন না: প্রধানমন্ত্রী

» ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার দাবিতে নীলফামারীতে বিক্ষোভ সমাবেশ

» নিসু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মনিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি লিটন ও সম্পাদক মোতাহারকে নাগরিক সংবর্ধনা

» জয়পুরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় স্কুলছাত্রের মৃত্যু

» শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে চেয়েছিলো তারা: চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি

» শ্রীপুরে সন্তানের অত্যাচারে বাড়ি ছাড়লেন মা, নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

ফুলপুরে পানির দরে বিক্রি হয়েছে কোরবানির চামড়া, মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

মোঃ খলিলুর রহমান,ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃময়মনসিংহের ফুলপুরে পানির দরে বিক্রি হয়েছে কোরবানির চামড়া। কম দামে বিক্রি হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। অর্ধেক দামে চামড়া বিক্রি করে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। ঈদ উল আযহার সকালে পশু কোরবানির পর পরই ফুলপুর পৌর এলাকার পাড়া মহল্লায় ও ইউনিয়নের গ্রাম-গঞ্জে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পিস হিসেবে গরু ও খাসির চামড়া সংগ্রহ করেন। একেকটি গরুর চামড়া আকার ভেদে ২’শ থেকে ৬/৭শ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করেছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এক ব্যবসায়ী বলেন, ৬শ টাকা দিয়ে কিনে নিলাম, কিন্ত বিক্রি করলাম ৪’শ টাকা।

এদিকে, ঈদের দিন বিকাল থেকেই ফুলপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ছোট ট্রলী, ভ্যানে ও রিক্সায় করে কাঁচা চামড়া নিয়ে আসতে শুরু করেন ফুলপুর বাসষ্ট্যান্ড অস্থায়ী চামড়ার হাটে। ফুলপুরের এই চামড়ার হাটে  পানির দরে বিক্রি করতে হয়েছে  কোরবানির চামড়া। পানির দরে চামড়া বিক্রি হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। ট্যানারী প্রতিনিধি ও আড়ৎদাররা সিন্ডিকেট করে  কোরবানীর পশুর চামড়া কম দামে কিনছেন অভিযোগ মৌসুমী ব্যবসায়ীদের।
এবছর ঢাকার বাইরে প্রতিবর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ধরা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।কিন্তু ফুলপুরে তা কেউ মানেনি।

ঈদের রাতে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ডে চামড়ার হাটে গেলে চামড়া ব্যবসায়ী সুমন মিয়া জানান, খাশির চামড়া ১০ থেকে ৩০ টাকায কিনা হচ্ছে। আর গরুর চামড়া প্রতিটি ৫০ থেকে ৩’শ টাকায় কিনতাছি। বৈঠামারী গ্রামের রাকিবুল ইসলাম মাহফুজ বলেন, আমরা সাত জনে মিলে ৬৫ হাজার টাকায় একটি গরু কোরবানী করেছিলাম। পরে এর চামড়া নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও কেউ চামড়া নিতে চায় না। অবশেষে একজন পাইকারের নিকট যাইস্যা বিক্রি করেছি। ঈদের দিন সোমবার রাতে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চামড়া বাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় চামড়ার দর খুবই কম। রূপসী বাঁশাটী, বালিয়া, বওলা ও পাগলা গ্রামে খবর নিয়ে জানা যায়, ওইসব এলাকায় চামড়ার দর বাসস্ট্যান্ডের চেয়েও কম। উপজেলার পারতলা গ্রামের আবুল কাসেম ৪টি গরুর চামড়া নিয়ে আমুয়াকান্দা ব্রিজের গোড়ায় অসহায়ের মত বসে আছেন। তিনি জানান, ২ ঘন্টা ধরে বসে আছি। আমার ৪টা চামড়া ৫’শ টেহার উপরে কেউই দাম কয় না। তবে জামিয়া মাদানিয়া দারুল উলূম গোদারিয়ার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল খালেক জানিয়েছেন তাদের ৫৩টি চামড়া প্রতিটি ৬শ টাকা করে বিক্রি করেছেন। আর খাশী বিক্রি করেছেন ৩০ টাকা করে।
চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ৫’শ টেহার উপরে অহন কোন চামড়া কিনছি না। ছাগল খাশীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাগল খাশী আমরা কিনি না।
হালুয়াঘাট উপজেলার নড়াইল গ্রামের মোশাররফ হোসেন রিপন বলেন, আমরা ৫ জনে একটা গরু কোরবানী দিছি। চামড়া বিক্রি করে ভাগে পাইছি মাত্র ১০০ টাকা। অন্তত ১০ টা মাদ্রাসা থেকে চামড়ার টাকা চাইয়া গেছে। আর আশপাশের গরিবরা তো আছেই। অহন কারে কইথ্যে দিব, বলেন? আমুযাকান্দা গ্রামের মোতালেব চামড়ার দর পতনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চামড়ার দর পতনের কারণে মাদ্রাসার এতিম অনাথ ও নিঃস্ব গরিবরা বঞ্চিত হবে। বিষয়টি বিবেচনার জন্য তিনি সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com