নুসরাত হত্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ জড়িত আরো ১২ জন

ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আরো অন্তত ১২ জন জড়িত। রোববার মামলার অন্যতম দুই সন্দেহভাজন আসামী নুরুদ্দিন এবং শাহাদত হোসেন শামীম আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে তাদের নাম উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের নামও রয়েছে। বাকিদের বেশিরভাগই ওই মাদ্রাসার আলিম ও ফাজিল শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনায় জড়িত ছিলেন মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষকও। এর ফলে অন্তত ২৫ জন এই মামলায় আসামি হতে যাচ্ছেন।

রোববার দীর্ঘ ৯ ঘন্টা ধরে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালদের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন তাদের দু’জনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।। এদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে এজাহারভুক্ত আসামি নুরুদ্দিন ও শাহাদাত পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

জবানবন্দি প্রদান শেষ হলে রাত ১টা ৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন এন্ড অপারেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহেরুল হক চৌহান এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় পিআইবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা-পিবিআই’র পরিদর্শক মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান, পিবিআই এ মামলার দায়িত্ব পাওয়ার চারদিনের মধ্যে (১০-১৪ এপ্রিল) ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছেন তাদেরকে আইনের আমলে নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত দীর্ঘ সময় ধরে তাদের দুজনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

দুই আসামী স্বতঃস্ফূর্তভাবে আদালতের নিকট জবানবন্দি দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, দুই আসামি পুরো বিষয়টি খোলাসা করেছেন। কারা কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, কী প্রক্রিয়ায় ঘটিয়েছেন তা বিস্তারিত বলেছেন। কিন্তু মামলার তদন্তের স্বার্থে সবকিছু এখনই বলা যাবে না। আসামিরা অপরাধ স্বীকার করেছেন। তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তারা জেলখানা থেকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার হুকুম পেয়েছেন।

তাহেরুল হক চৌহান বলেন, এ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ১৩ জনের নাম পাওয়া গেছে। এছাড়াও, বিক্ষিপ্তভাবে আরও কিছু নাম এসেছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবো।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত যে চারজন তাদের সবাইকে আমরা গ্রেপ্তার করতে পারিনি। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। যেকোনো সময় আপনাদের একটি ভালো খবর দিতে পারবো।

এর আগে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে এজাহারভূক্ত আসামিসহ মোট ১৩ জন হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত বলে জানান পুলিশের এই ইউনিটের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। পিবিআই-এর ফেনীর দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান রাতে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে নুরুদ্দিন ও শাহাদাত অনেক তথ্য দিয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে তারা কিভাবে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কীভাবে কী করে তা বিস্তারিত বলেছে।

পিবিআই-এর এই কর্মকর্তা বলেন, নুরুদ্দিন ও শাহাদাত আরো কিছু নাম বলেছে। আমরা তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করছি না। এসব তথ্য যাচাই বাছাই করে বাকিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

এদিকে তদন্ত সূত্র জানায়, যৌন হয়রানির মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের সহায়তায় নুরুদ্দিন ও শাহাদাত মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু করে। এজন্য আরেক এজাহারভুক্ত আসামি আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর তাদের ১০ হাজার টাকাও দিয়েছিল। এছাড়া মাদ্রাসার আরেক শিক্ষকও আন্দোলন ও নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য ৫ হাজার টাকা দেন।

সরাসরি হত্যাকান্ডে অংশ নেয়া শাহাদাত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর সে দৌঁড়ে নিচে নেমে উত্তর দিকের প্রাচীর টপকে বের হয়ে যায়। এর মিনিট খানেকের মধ্যে নিরাপদ স্থানে গিয়ে সে রুহুল আমিনকে ফোনে আগুন দেয়ার বিষয়টি জানায়। সে সময় রুহুল আমিন বলে, আমি জানি। তোমরা চলে যাও।

শাহাদাত বলেছে, নুসরাতের দায়ের করা মামলার পর রুহুল আমিন থানা ম্যানেজ করার দায়িত্ব নিয়েছিল। এজন্য সে অধ্যক্ষ সিরাজের পরিবারের কাছ থেকে টাকাও নেয়।

নুসরাতের প্রতি নিজেরও ক্ষোভ থাকার কথা উল্লেখ করে শাহাদাত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে বলেছে, দেড় মাস আগেও সে নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নুসরাত তাকে প্রত্যাখান করার পাশাপাশি অপমানও করে। এ কারণে সে নিজেও নুসরাতের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল। যার ফলে অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

অন্যদিকে জবানবন্দিতে আসামি নুরুদ্দিন জানায়, তার সঙ্গে অধ্যক্ষ সিরাজের ভালো সম্পর্ক ছিল। গত ৪ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে ফেনী কারাগারে দেখা শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদেরসহ আরো কয়েকজন। সেখানে মামলা দায়ের করার কারণে নুসরাতকে কঠিন সাজা দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ সিরাজের অনুমতি চায়। এসময় শামীম নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার প্রস্তাব দেন। তখন অধ্যক্ষ সিরাজ তাতে সায় দেন এবং এই কাজ হাসিলের জন্য তার অনুসারীদের পরামর্শও দেন।

নুরুদ্দিন তার জবানবন্দিতে আরো বলেন, এতে শামীম বেশী উৎসহ বোধ করেন। কারণ সে রাফিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত ও অপমানিত হয়েছে। সে নিজেও তার বন্ধুকে রাফির এই অপমানের প্রতিশোধ নিতে অনেক দিন ধরেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।

নুরুদ্দিনের জবানবন্দিতে আরো জানা যায়, সে ও তার সহযোগীরা ওস্তাদের (সিরাজ উদ দৌলা) নির্দেশনা পাওয়ার পর ৫ এপ্রিল মাদ্রাসার পাশের পশ্চিম হোস্টেলে বৈঠকে বসে। সেই বৈঠকে গোনীয়তা রক্ষা করে কীভাবে হত্যা করা হবে এই নিয়ে ও তারা এক বিশদ পরিকল্পনা করা হয়। পরের দিন ৬ এপ্রিল তারা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। তবে ঘটনার সময় সে ভবনের নিচে ছিল। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অধ্যক্ষ সিরাজের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি গিয়ে নুসরাতকে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। মূলত এই পপিই হলো নুসরাতের জবানবন্দিতে বলে উল্লিখিত আলোচিত শম্পা। পুলিশ ও নুসরাতের পরিবারকে বিভ্রান্ত করতে শম্পা নামে কল্পিত চরিত্রের গল্প ফাঁদে নুরুদ্দিন। ওই সময় ছাদে কামরুন নাহার মণি ছিল। সে এবং হাফেজ আবদুল কাদেরসহ অপর পাঁচজন আগে থেকেই গেটে পাহারা দিচ্ছিল।

নুরুদ্দিন জানিয়েছে, অধ্যক্ষ সিরাজ নানা সময়ে ছাত্রীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের যৌন হয়রানি করতো।

প্রসঙ্গত, ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত আক্তার রাফিকে যৌন হয়রানি করেছিল ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজুদৌলা। এ ঘটনায় নুসরাত থানায় অভিযোগ করলে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতের যৌন হয়রানির মামলা তুলে না নেয়ায় তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। মাদরাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই ভবনের তিনতলায় যান। সেখানে মুখোশরা ৪/৫ জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। সে অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় জীবনের সঙ্গে লড়াই করে হেরে যান তিনি। গত ১০ই এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে বিকালে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চর চান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

এর আগে ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

এসব ঘটনায় গত ১১ এপ্রিল রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে নূর উদ্দিন ও ১২ এপ্রিল সকালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে শাহাদাত হোসেন শামীমকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। নূর উদ্দিন নুসরাত হত্যা মামলার ২নং ও শাহাদাত হোসেন শামীম ৩নং আসামি।

সোনাগাজীর চাঞ্চল্যকর নুসরাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ছয় আসামি ছাড়াও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে ৯ এপ্রিল জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালত নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও শহিদুল ইসলামকে পাঁচদিন করে রিমান্ড দেন।

১০ এপ্রিল অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদদৌলাকে সাতদিন, আবছার উদ্দিন ও আরিফুল ইসলামকে পাঁচদিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন একই আদালতের বিচারক। এছাড়াও, ১১ এপ্রিল উম্মে সুলতানা পপি ও যোবায়ের হোসেনকে পাঁচদিন করে রিমান্ড আদেশ দেওয়া হয়। ১৩ এপ্রিল মামলার আরেক আসামি জাবেদ হোসেনকে ৭ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইন।

এদিকে নুসরাত জাহান রাফির বাবা একেএম মুসা ও মা শিরিনা আক্তারসহ দুই ভাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সোমবার সাক্ষাতের সময় শেখ হাসিনা নুসরাতের পরিবারের প্রতি সান্ত্বনা ও গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, দুষ্কৃতকারীরা কেউই আইনের হাত থেকে কোনোভাবেই রেহাই পাবে না। প্রধানমন্ত্রী তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এসময় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বাংলার আম দুধের সেই ‘নাইওর’ কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে সেই ঐতিহ্য

» মণিরামপুর উপজেলা শ্রমিকলীগ নেতার বাড়িতে বোমা হামলা, এলাকায় আতঙ্ক

» ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে জাপার শীর্ষ নেতাদের বৈঠক

» বিএনপি নিজেরাই নিজেদের অবৈধ বলছে: তথ্যমন্ত্রী

» পরিবাগে বহুতল ভবনে আগুন

» বাহুবলে প্রাথমিক বৃত্তিতে ব্যাপক দুর্নীতি : নিজ সন্তানের খাতা নিজেই দেখলেন শিক্ষক 

» কয়েক হাজার টাকায় বাঁচতে পারে নুরানির জীবন

» কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘হারিকেন’

» হানিফ পরিবহনের চাপায় মণিরামপুরের দুই মেধাবী স্কুল ছাত্র নিহত, কাঠের গুড়ি ফেলে ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ

» টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

নুসরাত হত্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ জড়িত আরো ১২ জন

ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আরো অন্তত ১২ জন জড়িত। রোববার মামলার অন্যতম দুই সন্দেহভাজন আসামী নুরুদ্দিন এবং শাহাদত হোসেন শামীম আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে তাদের নাম উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের নামও রয়েছে। বাকিদের বেশিরভাগই ওই মাদ্রাসার আলিম ও ফাজিল শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনায় জড়িত ছিলেন মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষকও। এর ফলে অন্তত ২৫ জন এই মামলায় আসামি হতে যাচ্ছেন।

রোববার দীর্ঘ ৯ ঘন্টা ধরে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালদের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন তাদের দু’জনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।। এদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে এজাহারভুক্ত আসামি নুরুদ্দিন ও শাহাদাত পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

জবানবন্দি প্রদান শেষ হলে রাত ১টা ৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন এন্ড অপারেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহেরুল হক চৌহান এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় পিআইবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা-পিবিআই’র পরিদর্শক মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান, পিবিআই এ মামলার দায়িত্ব পাওয়ার চারদিনের মধ্যে (১০-১৪ এপ্রিল) ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছেন তাদেরকে আইনের আমলে নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত দীর্ঘ সময় ধরে তাদের দুজনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

দুই আসামী স্বতঃস্ফূর্তভাবে আদালতের নিকট জবানবন্দি দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, দুই আসামি পুরো বিষয়টি খোলাসা করেছেন। কারা কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, কী প্রক্রিয়ায় ঘটিয়েছেন তা বিস্তারিত বলেছেন। কিন্তু মামলার তদন্তের স্বার্থে সবকিছু এখনই বলা যাবে না। আসামিরা অপরাধ স্বীকার করেছেন। তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তারা জেলখানা থেকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার হুকুম পেয়েছেন।

তাহেরুল হক চৌহান বলেন, এ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ১৩ জনের নাম পাওয়া গেছে। এছাড়াও, বিক্ষিপ্তভাবে আরও কিছু নাম এসেছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবো।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত যে চারজন তাদের সবাইকে আমরা গ্রেপ্তার করতে পারিনি। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। যেকোনো সময় আপনাদের একটি ভালো খবর দিতে পারবো।

এর আগে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে এজাহারভূক্ত আসামিসহ মোট ১৩ জন হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত বলে জানান পুলিশের এই ইউনিটের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। পিবিআই-এর ফেনীর দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান রাতে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে নুরুদ্দিন ও শাহাদাত অনেক তথ্য দিয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে তারা কিভাবে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কীভাবে কী করে তা বিস্তারিত বলেছে।

পিবিআই-এর এই কর্মকর্তা বলেন, নুরুদ্দিন ও শাহাদাত আরো কিছু নাম বলেছে। আমরা তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করছি না। এসব তথ্য যাচাই বাছাই করে বাকিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

এদিকে তদন্ত সূত্র জানায়, যৌন হয়রানির মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের সহায়তায় নুরুদ্দিন ও শাহাদাত মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু করে। এজন্য আরেক এজাহারভুক্ত আসামি আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর তাদের ১০ হাজার টাকাও দিয়েছিল। এছাড়া মাদ্রাসার আরেক শিক্ষকও আন্দোলন ও নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য ৫ হাজার টাকা দেন।

সরাসরি হত্যাকান্ডে অংশ নেয়া শাহাদাত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর সে দৌঁড়ে নিচে নেমে উত্তর দিকের প্রাচীর টপকে বের হয়ে যায়। এর মিনিট খানেকের মধ্যে নিরাপদ স্থানে গিয়ে সে রুহুল আমিনকে ফোনে আগুন দেয়ার বিষয়টি জানায়। সে সময় রুহুল আমিন বলে, আমি জানি। তোমরা চলে যাও।

শাহাদাত বলেছে, নুসরাতের দায়ের করা মামলার পর রুহুল আমিন থানা ম্যানেজ করার দায়িত্ব নিয়েছিল। এজন্য সে অধ্যক্ষ সিরাজের পরিবারের কাছ থেকে টাকাও নেয়।

নুসরাতের প্রতি নিজেরও ক্ষোভ থাকার কথা উল্লেখ করে শাহাদাত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে বলেছে, দেড় মাস আগেও সে নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নুসরাত তাকে প্রত্যাখান করার পাশাপাশি অপমানও করে। এ কারণে সে নিজেও নুসরাতের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল। যার ফলে অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

অন্যদিকে জবানবন্দিতে আসামি নুরুদ্দিন জানায়, তার সঙ্গে অধ্যক্ষ সিরাজের ভালো সম্পর্ক ছিল। গত ৪ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে ফেনী কারাগারে দেখা শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদেরসহ আরো কয়েকজন। সেখানে মামলা দায়ের করার কারণে নুসরাতকে কঠিন সাজা দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ সিরাজের অনুমতি চায়। এসময় শামীম নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার প্রস্তাব দেন। তখন অধ্যক্ষ সিরাজ তাতে সায় দেন এবং এই কাজ হাসিলের জন্য তার অনুসারীদের পরামর্শও দেন।

নুরুদ্দিন তার জবানবন্দিতে আরো বলেন, এতে শামীম বেশী উৎসহ বোধ করেন। কারণ সে রাফিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত ও অপমানিত হয়েছে। সে নিজেও তার বন্ধুকে রাফির এই অপমানের প্রতিশোধ নিতে অনেক দিন ধরেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।

নুরুদ্দিনের জবানবন্দিতে আরো জানা যায়, সে ও তার সহযোগীরা ওস্তাদের (সিরাজ উদ দৌলা) নির্দেশনা পাওয়ার পর ৫ এপ্রিল মাদ্রাসার পাশের পশ্চিম হোস্টেলে বৈঠকে বসে। সেই বৈঠকে গোনীয়তা রক্ষা করে কীভাবে হত্যা করা হবে এই নিয়ে ও তারা এক বিশদ পরিকল্পনা করা হয়। পরের দিন ৬ এপ্রিল তারা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। তবে ঘটনার সময় সে ভবনের নিচে ছিল। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অধ্যক্ষ সিরাজের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি গিয়ে নুসরাতকে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। মূলত এই পপিই হলো নুসরাতের জবানবন্দিতে বলে উল্লিখিত আলোচিত শম্পা। পুলিশ ও নুসরাতের পরিবারকে বিভ্রান্ত করতে শম্পা নামে কল্পিত চরিত্রের গল্প ফাঁদে নুরুদ্দিন। ওই সময় ছাদে কামরুন নাহার মণি ছিল। সে এবং হাফেজ আবদুল কাদেরসহ অপর পাঁচজন আগে থেকেই গেটে পাহারা দিচ্ছিল।

নুরুদ্দিন জানিয়েছে, অধ্যক্ষ সিরাজ নানা সময়ে ছাত্রীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের যৌন হয়রানি করতো।

প্রসঙ্গত, ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত আক্তার রাফিকে যৌন হয়রানি করেছিল ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজুদৌলা। এ ঘটনায় নুসরাত থানায় অভিযোগ করলে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতের যৌন হয়রানির মামলা তুলে না নেয়ায় তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। মাদরাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই ভবনের তিনতলায় যান। সেখানে মুখোশরা ৪/৫ জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। সে অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় জীবনের সঙ্গে লড়াই করে হেরে যান তিনি। গত ১০ই এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে বিকালে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চর চান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

এর আগে ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

এসব ঘটনায় গত ১১ এপ্রিল রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে নূর উদ্দিন ও ১২ এপ্রিল সকালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে শাহাদাত হোসেন শামীমকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। নূর উদ্দিন নুসরাত হত্যা মামলার ২নং ও শাহাদাত হোসেন শামীম ৩নং আসামি।

সোনাগাজীর চাঞ্চল্যকর নুসরাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ছয় আসামি ছাড়াও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে ৯ এপ্রিল জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালত নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও শহিদুল ইসলামকে পাঁচদিন করে রিমান্ড দেন।

১০ এপ্রিল অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদদৌলাকে সাতদিন, আবছার উদ্দিন ও আরিফুল ইসলামকে পাঁচদিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন একই আদালতের বিচারক। এছাড়াও, ১১ এপ্রিল উম্মে সুলতানা পপি ও যোবায়ের হোসেনকে পাঁচদিন করে রিমান্ড আদেশ দেওয়া হয়। ১৩ এপ্রিল মামলার আরেক আসামি জাবেদ হোসেনকে ৭ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইন।

এদিকে নুসরাত জাহান রাফির বাবা একেএম মুসা ও মা শিরিনা আক্তারসহ দুই ভাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সোমবার সাক্ষাতের সময় শেখ হাসিনা নুসরাতের পরিবারের প্রতি সান্ত্বনা ও গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, দুষ্কৃতকারীরা কেউই আইনের হাত থেকে কোনোভাবেই রেহাই পাবে না। প্রধানমন্ত্রী তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এসময় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com