নীল চাঁদোয়া….

 
-মোঃ ফিরোজ খান
 
 
জীবন শুরু হয়েছে কদিনইবা হলো! অথচ শেষ কিনারে পৌঁছে যাওয়ার সময় বুঝি চলে আসল। একতাই শুধু ভেবে যাই মনের মানুষকে জীবন থেকে হারিয়ে মুহূর্ত চলে যায় ভালোবাসা বিহীন। কালো পাথরে চিত হয়ে শুয়ে থেকে সমুদ্রের গর্জন শুনতে শুনতে মনে হয়, মুহূর্ত বড় ক্ষয়িষ্ণু। তুখোড় হাওয়াতে অনুভূতির ফেনিল বুদ্বুদ স্রোত জন্মায়, জলের বুকে শুভ্র অস্তিত্বের ফনা তোলে, জলের বুকে আলোড়ন করে নিষ্ফল আঘাত করে বালিতে ও পাথরে। আবার ফিরে যায়। অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ হিসাবে বালির বুকে জন্ম নেয় সর্পিল আলপনা। আবার নতুন ঢেউ ওঠে। নতুন আন্দোলনে রোমাঞ্চিত হয় নোনা জল। আবার নতুন ধাক্কা,আগের আলপনা মুছে নতুন প্রতিলিপির জন্ম হয় নতুন রূপে নতুন সাজে।এইতো ভালোবাসা যে ভালোবাসা এক সময় হারিয়ে যায় দূরে বহুদূর।তখন শুধুমাত্র মনে হয় যখনই দূর গগনের পানে তাকিয়ে থেকে চাদেঁর আলো দেখি ঠিক যেনো হারিয়ে যাওয়া সেই মানুষটির প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।আজ শুধুমাত্র “আমার কাছে “নীল চাদোয়া”হয়েই বেঁচে আছে মরে গিয়েও।।
 
 
 
তবে আমার মতো সমুদ্র এতো কিছু ভাবেনা কিছুই বোধহয় দেখেনা। এতে হয়তোবা তার কিছু আসে যায়না। সে তার আপন মনে, আপন খেয়ালে নিজের কাজ করে যায় বিরামহীনভাবে। তার যাত্রা যে শুরু হয়েছে অনন্তকালের জন্য ।তার কাছে মানুষের গানিতিক প্যাকেজ ট্যুর বা কয়েক দিনের ভ্যাকেশন মাত্র।এটাই শুধুমাত্র একজন মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীর সমুদ্রের পার্থক্য। তবেমাঝে মাঝে মনে হয়, জীবনটা যদি সমুদ্রের মতো হতো? তাহলে নির্বিকার ভাবেই নিজের পথচলাকে সহজ করে তুলতে পারতাম? এবং নিজের খেয়াল-খুশিতে চলার স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারতাম? আর যদি বাইরের পৃথিবীর কারো প্রভাবই যদি না থাকতো?আবার আমার ঢেউ মুছে দিতো আপন খেয়ালে? চাওয়া পাওয়া, প্রত্যাশা, হতাশা, কিছুই না থাকলে কেমন হতো? প্রাপ্তির আকাঙ্খা নয়, আপন খেয়ালে পথচলার জন্য যদি পথচলা হতো? আমরা তবে কিছু পাওয়ার জন্য ইদুর দৌড়ে সামিল হতাম না। কারো চলে যাওয়া বা নতুন কারোকে পাবার জন্য আবেগে উদ্বেলিত হতাম না। আজ সত্যি আমি ভাবুক হয়ে উঠছি নাকি পাগল হয়ে যাচ্ছি মনের মানুষকে হারিয়ে তা যেনো বুঝে উঠতে পারছিনা।মানুষের অনুভূতি থাকতো, কিন্তু যদি সেই অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ না থাকতো।
 
 
 
জীবন চলতো আপন গতিতে। কে জানে? হয়তো আমার জীবনের দ্বীপশিখা নেভার সময় হয়ে আসছে । তবে জানিনা এই জীবনের গতি প্রগতির সম্পর্কে আমি জানিনা কেনো,জীবন এতোটা কষ্টের হয়ে থাকে।আজ সমুদ্রের সামনে এসে বসলে মনে হয় সমুদ্রের কোনো দুখ কষ্ট নেই, কতো কিছু বিরামহীনভাবে চলছে উজান ভাটির মাঝেও।এই বিশাল সমুদ্রের হয়তোবা কোনো পার্থিব চাওয়া নেই, না আনন্দ, কষ্ট, সব অনুভূতি বড়ই ম্লান হয়ে গিয়েছে। ভালোবাসার জন্য অনেক ভাবনা আমাকে বিষ্ময় করে তুলছে দিন দিন,ধীরে ধীরে আমার মাথা নত হয়ে আসছে। সত্যিই ভালোবাসা তুমি ছিলে রত্নের চেয়েও দামী।শুধু ধন-সম্পদ থাকলে জীবন পরিপূর্ণ হয়ে উঠেনা।জীবনের সম্পূর্ণ পরিবর্তন তখনই একজন মানুষের প্রতি লক্ষ্য করা যায় যখন প্রিয় একজন মানুষ থাকে জীবনের সঙ্গে সুখে দুখে জড়িয়ে। প্রশান্তি ও স্বাধীনতায় জীবন কেবল তখনই ফুলের মতো ফুটে উঠে।
 
 
 
শুধু উন্মাদনায় ঢেউভেঙে স্নান হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়লে চলবেনা নিজেকে সবল ও সতেজ রাখতে শতভাগ কষ্টের মোকাবেলা করে জীবনের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির কথাকে ভেবে পূণরায় লক্ষ্যে পৌঁছনোর চেষ্টা রাখতে হবে।মানসিকতা ঠিক রেখেই ভালোবাসার কষ্টকে জয় করে নতুন ভাবে জীবন পরিচালনা করতে চেষ্টা করতে হবে। আকাশে সবসময় মেঘ থাকেনা আবার সবসময় জড় বয়েনা,একসময় আকাশও আলোকিত হয়ে পৃথিবীর বুকে আলো ছড়িয়ে দেয়।ঠিক জীবনকে আমরা এভাবেই মানিয়ে নিতে সবসময় চেষ্টা করবো তাহলে এক সময় সকল জালা যন্ত্রণা কেটে যাবে জীবন হবে তখনই পরিপূর্ণ।
 
ঠুনকো ইগো আর আমিত্বকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর ক্ষমতা আমাদের সকলেরই আছে। স্বকীয় গতি,ফেনিল উস্বাস, মানুষের বিশালতাকে সবসময় সবাল রাখবে এটাই সত্য ও সঠিক।শুধুমাত্র একজন ভালোবাসার মানুষ পারে শতভাগ সতেজ ও সবল রাখতে তার ভালোবাসার মানুষকে।তোমার জীবন সত্যিই আজ অনেক অনেক সুখের তাইতো তুমি দেখা দিয়ে যাও সবসময় ঐ আকাশের মাঝেই চাদেঁর আলো হয়ে,তাইতো তোমার আলোয় আলোকিত হয়ে আছে আমার পোড়া মনটা।তোমার সাথে আমি কখনোই অন্য কারো সঙ্গে কোনো ভাবেই কোনো দিক দিয়ে তুলনা করতে পারবোনা কখনো।তোমার তুলনায় শুধুমাত্র তুমিই থাকবে বেঁচে আমার জীবনের সাথে মিলেমিশে।আমার পথ চলায় আমি সবসময় তোমাকে অনুসরণ করবো এতে করে আমি অনুপ্রানিত হবো অনেক বেশি। আমি বেঁচে থাকবো তবে পরিশুদ্ধ ভাবেই জীবনকে নিতে চাইবো একটু সামাজিক ভাবে সাজিয়ে নিতে।
 
কোনও একদিন অভুক্ত আকাশ প্রশান্তির মাঝে খুঁজে পাবে হলুদ চোখের কিছু কিন্ত তবে সে হয়তোবা ভালোবাসার মানুষ হবেনা।জীবন সঙ্গী যখনই জীবন থেকে হারিয়ে যাবে তখন প্রেম কিন্তু হারিয়ে যায়না কভু শববাহী দের বিদায়ের পর একা একা তবুও হারানো ভালোবাসার মানুষের কথা ভেবেই নোনা জল ফেলে সেই হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার মানুষের ছবি আকাতে মন চাইবে সবসময়।এ শুধু কোনো হারানো বিকেলের গল্প নয়, এ যে আমার ভালোবাসার মানুষ হারিয়ে আমার মনের কথাই বলছি আমি আমার লেখার মাঝে।ভালোবাসার সমস্ত প্রশ্নের শেষে ভাষাহীন নির্বাক থাকাটা ও ভালোবাসার অন‍্যন‍্য এক দিকনির্দেশনা।সত্যিকার ভালোবাসা বোধহয় এভাবেই জীবন থেকে অনেক দূরে চলে যায়। মনে হচ্ছে ভালোবাসা দূরে সরে গিয়েছে,আসলেও কি কখনও ভালোবাসা দূরে চলে যায়?।
 
 
 
নাকি জীবনের সঙ্গে সঙ্গী হয়ে মিলেমিশে থাকে জীবনের প্রদীপ শিকা নিভে যাওয়ার আগ পর্যন্ত।সম্ভবত আমি আজও মনের অজান্তেই আমার ভালোবাসা আমি খুঁজে বেড়াই নিরবে নিরবতা মেনে নিয়ে।সম্পর্ক ও ভালোবাসা কখনই পুরানো হয়না বরং নতুন রূপে ফিরে আসেন নতুন সাজেই।আমি আমার ভাবনা টাকেই আকড়ে ধরে আছি এই প্রকৃতির মাঝে সময়ের সাথেই মিল রেখে যেনো ধীরে ধীরে পায়ের নীচের মাটিটুকু সরে যাচ্ছে। ঠিক এভাবেই আমার ভালোবাসা আমার কাছ থেকে বিছিন্ন হয়ে গিয়েছে। আমি যেনো এখন আর কিছু মানতে এবং বুঝে উঠতে পারছিনা কিছুই যেনো হাতড়ে পাইনা নিজের হাতের কাছে।নমাঝে মধ্যে আমি আমার চোখ দুটি বন্ধ করে ভাবি সেই দিনগুলো যখন দুজনে ছিলাম চাদনী রাতে সেই নদীর পারে বসে আর দূর আকাশের মিটমিট করে থাকা তারকারা আমাদের বলে যাচ্ছে তোমাদের ভালোবাসার আলোয় আলোকিত করে রাখতেই আমরা জ্বলে থাকবো সবসময়। 
 
আজ ভালোবাসা যেনো নিগূঢ় শব্দে খান খান হয়ে গেছে আয়নার মতোই?মেঘেদের মন্দ্রধ্বনিতে সংযত আকাশের বুকেও অঙ্গার জন্মায়।ঠিক ভালোবাসা আমাকে এভাবেই ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে ভাঙ্গা আয়নার মতোই।
আমিও চলে যাবো আর চলে যদি যেতেই হয় তো মেঘেদের কাছেই যাবো তাহলে ঝড় বৃষ্টি হয়ে ঝড়বো এই পৃথিবীর বুকে তাহলেই আমার ভালোবাসা ফুটে থাকবে এই দেশের সবুজের মাঝেই।।চলে গিয়ে অনেক ভালো করেছো তুমি তাইতো ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে আমিও আসবো তোমার কাছে তুমি তখন থাকবেনা আর ঐ দূর আকাশের “নীল চাদোয়া হয়ে”তুমি থাকবে আমার ভালোবাসার পরম সুখের একজন হয়েই।আমরা আমাদের ভালোবাকে রাখবো সবসময় আমাদের দুবুকের ভাজে অনন্তকাল,আজীবনের জন্যে পরিশেষে তোমার আমার সেই পছন্দের গানের কিছু কথা লিখে আমি লেখার সমাপ্তি টানবো।
 
“সেই গানটি”
 
“”নীল চাঁদোয়া।।
 
আকাশটাকে আজ লাগছে যেন
মাঝে মাঝে কিছু কিছু তাঁরা বোনা বৃষ্টি ধোয়া।।
 
জড়োয়ার ঘোমটা পড়ে ফুলের বাসরে
সেজেছে সুন্দরী রাত জোছনা শিশিরে।
এই মিষ্টি রাতে আমি চাই তোমার ছোয়া।।
 
মধুয়ার গন্ধ ধরে রাতের আঁচলে
বসেছে মনের ময়ুর চোখের কাজলে।
ঐ বৃষ্টি থেকে আমি চাইপ্রেম ছোয়া।।
নীল চাঁদোয়া………।
 
এইতো ভালোবাসা, এইতো ভালোবাসার কষ্ট,তবুও আজ জীবন ধন‍্য,তবুও জীবন পরিপূর্ণ।শুধুমাত্র তুমি হাড়িয়ে গিয়েছো বলেই আমার ভালোবাসা আজও আমাকে নতুন ভাবে স্বপ্ন দেখায়,নতুন করে বাঁচতে প্রেরনা দিয়ে যায় প্রতিটি মূহুর্তে।।ভালো থেকো ভালোবাসা, এটাই আমার ভালোবাসার আসল ও সত্য কথা।।
 
লেখক সাংবাদিক
মো:ফিরোজ খান
জেলা ঢাকা বাংলাদেশ
Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বিজয় মানে ১৬ই ডিসেম্বর

» বাঙ্গালী জাতির জন্য বানিয়াচঙ্গ উপজেলাবাসী জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায় বানিয়াচঙ্গ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস :: স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ

» চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধ

» বরগুনায় গণপূর্তের জমিতে দরপত্র ছাড়াই পৌরসভার সড়ক নির্মাণ

» উঠে আসছে না নতুন নেতৃত্ব কেন্দ্রে কর্তৃত্ব হারাচ্ছে সিলেট আওয়ামী লীগ

» মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় স্মৃতি

» মহান বিজয় দিবস আজ

» বিজয়ের স্মৃতি ও বঙ্গবন্ধু

» টানটান উত্তেজনা আওয়ামী লীগে

» ‘মুজিববর্ষে’ বাজারে আসছে ২০০ টাকার নোট

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

নীল চাঁদোয়া….

 
-মোঃ ফিরোজ খান
 
 
জীবন শুরু হয়েছে কদিনইবা হলো! অথচ শেষ কিনারে পৌঁছে যাওয়ার সময় বুঝি চলে আসল। একতাই শুধু ভেবে যাই মনের মানুষকে জীবন থেকে হারিয়ে মুহূর্ত চলে যায় ভালোবাসা বিহীন। কালো পাথরে চিত হয়ে শুয়ে থেকে সমুদ্রের গর্জন শুনতে শুনতে মনে হয়, মুহূর্ত বড় ক্ষয়িষ্ণু। তুখোড় হাওয়াতে অনুভূতির ফেনিল বুদ্বুদ স্রোত জন্মায়, জলের বুকে শুভ্র অস্তিত্বের ফনা তোলে, জলের বুকে আলোড়ন করে নিষ্ফল আঘাত করে বালিতে ও পাথরে। আবার ফিরে যায়। অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ হিসাবে বালির বুকে জন্ম নেয় সর্পিল আলপনা। আবার নতুন ঢেউ ওঠে। নতুন আন্দোলনে রোমাঞ্চিত হয় নোনা জল। আবার নতুন ধাক্কা,আগের আলপনা মুছে নতুন প্রতিলিপির জন্ম হয় নতুন রূপে নতুন সাজে।এইতো ভালোবাসা যে ভালোবাসা এক সময় হারিয়ে যায় দূরে বহুদূর।তখন শুধুমাত্র মনে হয় যখনই দূর গগনের পানে তাকিয়ে থেকে চাদেঁর আলো দেখি ঠিক যেনো হারিয়ে যাওয়া সেই মানুষটির প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।আজ শুধুমাত্র “আমার কাছে “নীল চাদোয়া”হয়েই বেঁচে আছে মরে গিয়েও।।
 
 
 
তবে আমার মতো সমুদ্র এতো কিছু ভাবেনা কিছুই বোধহয় দেখেনা। এতে হয়তোবা তার কিছু আসে যায়না। সে তার আপন মনে, আপন খেয়ালে নিজের কাজ করে যায় বিরামহীনভাবে। তার যাত্রা যে শুরু হয়েছে অনন্তকালের জন্য ।তার কাছে মানুষের গানিতিক প্যাকেজ ট্যুর বা কয়েক দিনের ভ্যাকেশন মাত্র।এটাই শুধুমাত্র একজন মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীর সমুদ্রের পার্থক্য। তবেমাঝে মাঝে মনে হয়, জীবনটা যদি সমুদ্রের মতো হতো? তাহলে নির্বিকার ভাবেই নিজের পথচলাকে সহজ করে তুলতে পারতাম? এবং নিজের খেয়াল-খুশিতে চলার স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারতাম? আর যদি বাইরের পৃথিবীর কারো প্রভাবই যদি না থাকতো?আবার আমার ঢেউ মুছে দিতো আপন খেয়ালে? চাওয়া পাওয়া, প্রত্যাশা, হতাশা, কিছুই না থাকলে কেমন হতো? প্রাপ্তির আকাঙ্খা নয়, আপন খেয়ালে পথচলার জন্য যদি পথচলা হতো? আমরা তবে কিছু পাওয়ার জন্য ইদুর দৌড়ে সামিল হতাম না। কারো চলে যাওয়া বা নতুন কারোকে পাবার জন্য আবেগে উদ্বেলিত হতাম না। আজ সত্যি আমি ভাবুক হয়ে উঠছি নাকি পাগল হয়ে যাচ্ছি মনের মানুষকে হারিয়ে তা যেনো বুঝে উঠতে পারছিনা।মানুষের অনুভূতি থাকতো, কিন্তু যদি সেই অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ না থাকতো।
 
 
 
জীবন চলতো আপন গতিতে। কে জানে? হয়তো আমার জীবনের দ্বীপশিখা নেভার সময় হয়ে আসছে । তবে জানিনা এই জীবনের গতি প্রগতির সম্পর্কে আমি জানিনা কেনো,জীবন এতোটা কষ্টের হয়ে থাকে।আজ সমুদ্রের সামনে এসে বসলে মনে হয় সমুদ্রের কোনো দুখ কষ্ট নেই, কতো কিছু বিরামহীনভাবে চলছে উজান ভাটির মাঝেও।এই বিশাল সমুদ্রের হয়তোবা কোনো পার্থিব চাওয়া নেই, না আনন্দ, কষ্ট, সব অনুভূতি বড়ই ম্লান হয়ে গিয়েছে। ভালোবাসার জন্য অনেক ভাবনা আমাকে বিষ্ময় করে তুলছে দিন দিন,ধীরে ধীরে আমার মাথা নত হয়ে আসছে। সত্যিই ভালোবাসা তুমি ছিলে রত্নের চেয়েও দামী।শুধু ধন-সম্পদ থাকলে জীবন পরিপূর্ণ হয়ে উঠেনা।জীবনের সম্পূর্ণ পরিবর্তন তখনই একজন মানুষের প্রতি লক্ষ্য করা যায় যখন প্রিয় একজন মানুষ থাকে জীবনের সঙ্গে সুখে দুখে জড়িয়ে। প্রশান্তি ও স্বাধীনতায় জীবন কেবল তখনই ফুলের মতো ফুটে উঠে।
 
 
 
শুধু উন্মাদনায় ঢেউভেঙে স্নান হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়লে চলবেনা নিজেকে সবল ও সতেজ রাখতে শতভাগ কষ্টের মোকাবেলা করে জীবনের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির কথাকে ভেবে পূণরায় লক্ষ্যে পৌঁছনোর চেষ্টা রাখতে হবে।মানসিকতা ঠিক রেখেই ভালোবাসার কষ্টকে জয় করে নতুন ভাবে জীবন পরিচালনা করতে চেষ্টা করতে হবে। আকাশে সবসময় মেঘ থাকেনা আবার সবসময় জড় বয়েনা,একসময় আকাশও আলোকিত হয়ে পৃথিবীর বুকে আলো ছড়িয়ে দেয়।ঠিক জীবনকে আমরা এভাবেই মানিয়ে নিতে সবসময় চেষ্টা করবো তাহলে এক সময় সকল জালা যন্ত্রণা কেটে যাবে জীবন হবে তখনই পরিপূর্ণ।
 
ঠুনকো ইগো আর আমিত্বকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর ক্ষমতা আমাদের সকলেরই আছে। স্বকীয় গতি,ফেনিল উস্বাস, মানুষের বিশালতাকে সবসময় সবাল রাখবে এটাই সত্য ও সঠিক।শুধুমাত্র একজন ভালোবাসার মানুষ পারে শতভাগ সতেজ ও সবল রাখতে তার ভালোবাসার মানুষকে।তোমার জীবন সত্যিই আজ অনেক অনেক সুখের তাইতো তুমি দেখা দিয়ে যাও সবসময় ঐ আকাশের মাঝেই চাদেঁর আলো হয়ে,তাইতো তোমার আলোয় আলোকিত হয়ে আছে আমার পোড়া মনটা।তোমার সাথে আমি কখনোই অন্য কারো সঙ্গে কোনো ভাবেই কোনো দিক দিয়ে তুলনা করতে পারবোনা কখনো।তোমার তুলনায় শুধুমাত্র তুমিই থাকবে বেঁচে আমার জীবনের সাথে মিলেমিশে।আমার পথ চলায় আমি সবসময় তোমাকে অনুসরণ করবো এতে করে আমি অনুপ্রানিত হবো অনেক বেশি। আমি বেঁচে থাকবো তবে পরিশুদ্ধ ভাবেই জীবনকে নিতে চাইবো একটু সামাজিক ভাবে সাজিয়ে নিতে।
 
কোনও একদিন অভুক্ত আকাশ প্রশান্তির মাঝে খুঁজে পাবে হলুদ চোখের কিছু কিন্ত তবে সে হয়তোবা ভালোবাসার মানুষ হবেনা।জীবন সঙ্গী যখনই জীবন থেকে হারিয়ে যাবে তখন প্রেম কিন্তু হারিয়ে যায়না কভু শববাহী দের বিদায়ের পর একা একা তবুও হারানো ভালোবাসার মানুষের কথা ভেবেই নোনা জল ফেলে সেই হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার মানুষের ছবি আকাতে মন চাইবে সবসময়।এ শুধু কোনো হারানো বিকেলের গল্প নয়, এ যে আমার ভালোবাসার মানুষ হারিয়ে আমার মনের কথাই বলছি আমি আমার লেখার মাঝে।ভালোবাসার সমস্ত প্রশ্নের শেষে ভাষাহীন নির্বাক থাকাটা ও ভালোবাসার অন‍্যন‍্য এক দিকনির্দেশনা।সত্যিকার ভালোবাসা বোধহয় এভাবেই জীবন থেকে অনেক দূরে চলে যায়। মনে হচ্ছে ভালোবাসা দূরে সরে গিয়েছে,আসলেও কি কখনও ভালোবাসা দূরে চলে যায়?।
 
 
 
নাকি জীবনের সঙ্গে সঙ্গী হয়ে মিলেমিশে থাকে জীবনের প্রদীপ শিকা নিভে যাওয়ার আগ পর্যন্ত।সম্ভবত আমি আজও মনের অজান্তেই আমার ভালোবাসা আমি খুঁজে বেড়াই নিরবে নিরবতা মেনে নিয়ে।সম্পর্ক ও ভালোবাসা কখনই পুরানো হয়না বরং নতুন রূপে ফিরে আসেন নতুন সাজেই।আমি আমার ভাবনা টাকেই আকড়ে ধরে আছি এই প্রকৃতির মাঝে সময়ের সাথেই মিল রেখে যেনো ধীরে ধীরে পায়ের নীচের মাটিটুকু সরে যাচ্ছে। ঠিক এভাবেই আমার ভালোবাসা আমার কাছ থেকে বিছিন্ন হয়ে গিয়েছে। আমি যেনো এখন আর কিছু মানতে এবং বুঝে উঠতে পারছিনা কিছুই যেনো হাতড়ে পাইনা নিজের হাতের কাছে।নমাঝে মধ্যে আমি আমার চোখ দুটি বন্ধ করে ভাবি সেই দিনগুলো যখন দুজনে ছিলাম চাদনী রাতে সেই নদীর পারে বসে আর দূর আকাশের মিটমিট করে থাকা তারকারা আমাদের বলে যাচ্ছে তোমাদের ভালোবাসার আলোয় আলোকিত করে রাখতেই আমরা জ্বলে থাকবো সবসময়। 
 
আজ ভালোবাসা যেনো নিগূঢ় শব্দে খান খান হয়ে গেছে আয়নার মতোই?মেঘেদের মন্দ্রধ্বনিতে সংযত আকাশের বুকেও অঙ্গার জন্মায়।ঠিক ভালোবাসা আমাকে এভাবেই ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে ভাঙ্গা আয়নার মতোই।
আমিও চলে যাবো আর চলে যদি যেতেই হয় তো মেঘেদের কাছেই যাবো তাহলে ঝড় বৃষ্টি হয়ে ঝড়বো এই পৃথিবীর বুকে তাহলেই আমার ভালোবাসা ফুটে থাকবে এই দেশের সবুজের মাঝেই।।চলে গিয়ে অনেক ভালো করেছো তুমি তাইতো ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে আমিও আসবো তোমার কাছে তুমি তখন থাকবেনা আর ঐ দূর আকাশের “নীল চাদোয়া হয়ে”তুমি থাকবে আমার ভালোবাসার পরম সুখের একজন হয়েই।আমরা আমাদের ভালোবাকে রাখবো সবসময় আমাদের দুবুকের ভাজে অনন্তকাল,আজীবনের জন্যে পরিশেষে তোমার আমার সেই পছন্দের গানের কিছু কথা লিখে আমি লেখার সমাপ্তি টানবো।
 
“সেই গানটি”
 
“”নীল চাঁদোয়া।।
 
আকাশটাকে আজ লাগছে যেন
মাঝে মাঝে কিছু কিছু তাঁরা বোনা বৃষ্টি ধোয়া।।
 
জড়োয়ার ঘোমটা পড়ে ফুলের বাসরে
সেজেছে সুন্দরী রাত জোছনা শিশিরে।
এই মিষ্টি রাতে আমি চাই তোমার ছোয়া।।
 
মধুয়ার গন্ধ ধরে রাতের আঁচলে
বসেছে মনের ময়ুর চোখের কাজলে।
ঐ বৃষ্টি থেকে আমি চাইপ্রেম ছোয়া।।
নীল চাঁদোয়া………।
 
এইতো ভালোবাসা, এইতো ভালোবাসার কষ্ট,তবুও আজ জীবন ধন‍্য,তবুও জীবন পরিপূর্ণ।শুধুমাত্র তুমি হাড়িয়ে গিয়েছো বলেই আমার ভালোবাসা আজও আমাকে নতুন ভাবে স্বপ্ন দেখায়,নতুন করে বাঁচতে প্রেরনা দিয়ে যায় প্রতিটি মূহুর্তে।।ভালো থেকো ভালোবাসা, এটাই আমার ভালোবাসার আসল ও সত্য কথা।।
 
লেখক সাংবাদিক
মো:ফিরোজ খান
জেলা ঢাকা বাংলাদেশ
Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com