নদীগর্ভে স্কুল ভবন, গাছতলায় পাঠদান

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কেতকীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাস খানেক আগেও এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা নতুন দোতলা ভবনে ক্লাস করত। নতুন ভবনের পাশের একতলা পুরনো ভবনটিতেও ছিল তাদের ক্লাস রুম। প্রশস্ত মাঠে ছিল খেলার সুযোগ। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে আসবাবপত্র, বেঞ্চ, টেবিল ও স্কুলের দুটি ভবনসহ খেলার মাঠটি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। একই চিত্র গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আরও ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ।

কেতকীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাধুরী আক্তার জানায়, স্কুলটি নদীতে বিলীন হওয়ায় লেখাপড়ায় মনোযোগ বসে না। একটি ছাপরা ঘরে কয়েকটি শ্রেণির ক্লাস একসঙ্গে হয়। ফলে শব্দের কারণে লেখাপড়া করতে কষ্ট হয়। এছাড়াও রোদ বৃষ্টিতে গাছ তলায় পাঠ দান অনেক কষ্টের।

অবিভাবক রশিদুল ইসলাম জানান, রোদ বৃষ্টি আর খোলা আকাশের নিচে স্কুলের শিক্ষার্থীরা লেখাপাড়ার মনোযোগী হতে পারছে না । আগামী বার্ষিক পরীক্ষায় তাদের রেজাল্ট আশানুরূপ হবে না। তাই সরকারে শুভ দৃষ্টি একান্ত জরুরি।

কেতকীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজিয়া খাতুন জানান, বিদ্যালয় ভবনের পাশে গাছতলা ও ছাপড়া ঘরে বসে ক্লাস নিতে হয়। ক্লাস নিতে গিয়ে মন খারাপ হয়, কষ্টে চোখে জল আসে। সামনে সমাপনী পরীক্ষা। কোলাহলপূর্ণ খোলা জায়গায় বসে ক্লাস নিতে নানা সমস্যায় পড়েন শিক্ষকরা। রোদ-বৃষ্টিতে এই সংকট আরও বাড়ে। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্কুলের ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানান তিনি।

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হোসেন আলী জানান, এ বছর বন্যা ও নদী ভাঙনের ফলে বিদ্যালয় ধসে ও জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে মানবিকতা বিবেচনা করে সংশিষ্ট এলাকাগুলোতে কেউ আগ্রহী হয়ে জমি দান করলে স্কুল ভবন তৈরি সহজ হতো। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ভয়াবহ বন্যায় গাইবান্ধায় ২২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ২০৮টিতে ক্লাস শুরু হয়। আর ১২টি বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় পাঁচটি, ফুলছড়ি উপজেলায় পাঁচটি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে শিক্ষা খাতে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।জাগোনিউজ

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» রাজশাহীতে ফেনসিডিলসহ ৪ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

» শহীদ আসাদ দিবসে ছাত্রলীগের শ্রদ্ধা

» একেএম আজিজ লক্ষ্মীপুরের শ্রেষ্ঠ ওসি

» গোপালগঞ্জ বশেমুরবিপ্রবিতে শিক্ষকদের লাঞ্ছনা, নিগ্রহ ও হুমকির প্রতিবাদে শিক্ষকদের মানববন্ধন

» গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসনের সব অফিস ২ ঘণ্টা কর্মচারী বিহীন

» গোপালগঞ্জ বশেমুরবিপ্রবি ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন : দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ

» মনঃকষ্টে কাদের

» সিটি নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষক থাকবে : মিলার

» অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে নারীসহ আটক ৮

» মুজিববর্ষ নিয়ে কটূক্তি, সাবেক মেয়র গ্রেফতার

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

নদীগর্ভে স্কুল ভবন, গাছতলায় পাঠদান

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কেতকীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাস খানেক আগেও এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা নতুন দোতলা ভবনে ক্লাস করত। নতুন ভবনের পাশের একতলা পুরনো ভবনটিতেও ছিল তাদের ক্লাস রুম। প্রশস্ত মাঠে ছিল খেলার সুযোগ। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে আসবাবপত্র, বেঞ্চ, টেবিল ও স্কুলের দুটি ভবনসহ খেলার মাঠটি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। একই চিত্র গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আরও ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ।

কেতকীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাধুরী আক্তার জানায়, স্কুলটি নদীতে বিলীন হওয়ায় লেখাপড়ায় মনোযোগ বসে না। একটি ছাপরা ঘরে কয়েকটি শ্রেণির ক্লাস একসঙ্গে হয়। ফলে শব্দের কারণে লেখাপড়া করতে কষ্ট হয়। এছাড়াও রোদ বৃষ্টিতে গাছ তলায় পাঠ দান অনেক কষ্টের।

অবিভাবক রশিদুল ইসলাম জানান, রোদ বৃষ্টি আর খোলা আকাশের নিচে স্কুলের শিক্ষার্থীরা লেখাপাড়ার মনোযোগী হতে পারছে না । আগামী বার্ষিক পরীক্ষায় তাদের রেজাল্ট আশানুরূপ হবে না। তাই সরকারে শুভ দৃষ্টি একান্ত জরুরি।

কেতকীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজিয়া খাতুন জানান, বিদ্যালয় ভবনের পাশে গাছতলা ও ছাপড়া ঘরে বসে ক্লাস নিতে হয়। ক্লাস নিতে গিয়ে মন খারাপ হয়, কষ্টে চোখে জল আসে। সামনে সমাপনী পরীক্ষা। কোলাহলপূর্ণ খোলা জায়গায় বসে ক্লাস নিতে নানা সমস্যায় পড়েন শিক্ষকরা। রোদ-বৃষ্টিতে এই সংকট আরও বাড়ে। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্কুলের ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানান তিনি।

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হোসেন আলী জানান, এ বছর বন্যা ও নদী ভাঙনের ফলে বিদ্যালয় ধসে ও জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে মানবিকতা বিবেচনা করে সংশিষ্ট এলাকাগুলোতে কেউ আগ্রহী হয়ে জমি দান করলে স্কুল ভবন তৈরি সহজ হতো। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ভয়াবহ বন্যায় গাইবান্ধায় ২২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ২০৮টিতে ক্লাস শুরু হয়। আর ১২টি বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় পাঁচটি, ফুলছড়ি উপজেলায় পাঁচটি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে শিক্ষা খাতে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।জাগোনিউজ

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com