দ্বিধা

জোহরা শিউলীঃকিরে অবেলায় এমন শুয়ে আছিস যে…’

দরজার ক্যাৎ ক্যাৎ শব্দের সঙ্গে সাথীর ক্যাটক্যাটে গলা।

মুখে কিছু বলে না অলি। মনে মনে বলে- ‘আমি শুয়ে থাকলে তোর কি সমস্যা?’

অভদ্রতা এড়াতে বাম কাঁধ পাশ করে ডান কাঁধে শোয়।

‘ক্লাসে যাসনি, না? লক্ষণ দেখে তো তাই মনে হচ্ছে। জ্বর-টর না তো?’ কপালে হাত ছোঁয়ায়।

উফ্ বালটার যন্ত্রণায় এখন আর শুয়ে থাকা যাবে না। একটু একা থাকার জন্য আজ ডিপার্টমেন্টে গেল না। পাঁচজনের রুমে কখনো একা হওয়া যায় না। তাই ক্লাস টাইমটাকেই বেছে নিল। এই সময়ে সবাই ক্লাসে চলে যায়। রুম তালা মারা থাকে। অলিরও ক্লাস ছিল আজ। কিন্তু যায়নি ইচ্ছে করেই। সবকিছু কেমন অস্বস্তি লাগছে। গা গুলাচ্ছে।

সকাল থেকেই একনাগাড়ে শুয়ে আছে সে। সাথী হচ্ছে রুমের কটকটি বেগম। ও এখন ঝিম মেরে পরে থাকলেও নানাভাবে সাথী তার পেটের ভিতরের কথা বের করতে চাইবে।

মন খারাপ কেন? ক্লাসে যাসনি কেন? সকাল থেকে কিছু খাসনি কেন?

কিছুর জবাব দিতে ইচ্ছে করছে না। নিশ্চুপ থেকে বাথরুমের দিকে এগোল। করিডোরের অনেকখানি হেঁটে যেতে হয় হলের কমন বাথরুমে। একটি ব্লকের দুইপাশে দুই বাথরুম। যেহেতু তাদের রুমটা মাঝখানে। অনেকটুকু হেঁটেই যেতে হয়। এই বাথরুমে যাবার সময়টুকুও অন্যদিন উপভোগ করে অলি। পাঁচতলা ভবনের চারতলা করিডোর থেকে হলের মাঠটা এত সুন্দর দেখা যায়। মাঠের বৃষ্টিবিলাস গাছটার ঝিরিঝিরি পাতা। কেমন যেন একটা ফুরফুরে আমেজ তৈরি করে। সেই সঙ্গে হলের বাগানের ডালিয়া-গাঁদা-গোলাপগুলো কেমন যেন হেসে হেসে স্বাগত জানায় তাকে, রুম থেকে বের হওয়ার জন্য। সকালের কুসুম কুসুম সূর্যটার সঙ্গে কথা বলতে বলতে এই ফুলগুলোর সঙ্গেও কিছুটা গল্প সেরে নেয় অলি। চায়ের কাপ হাতে। কানে হেডফোন। সকালটা তার সুন্দর করেই শুরু হয়। স্নাতকোত্তরে এসে কেন যেন তার মন খারাপ হয়ে যায়। প্রিয় হলটাকে ছেড়ে চলে যেতে হবে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এটা একটা মজা। বিশাল আবাসিক হল থাকে। হলে পুকুর থাকে। সবুজ লন থাকে। সবুজে সবুজে ছেঁয়ে থাকে। এই সবুজ, এই মায়া মায়া সবকিছুর জন্যই খারাপ লাগে অলির।

উপুর হয়ে কলের পানিতেই হাতমুখ ধোয় সে। বেশি করে পানির ঝাপটা দিয়ে। বেসিনে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না। এখানেই জামা-কাপড় ভিজিয়ে নিজেকে শুদ্ধ করে নিতে ইচ্ছে করছে। এক ঝটকার পানি দিয়ে যেমন তার মুখটা পরিষ্কার হচ্ছে। মনটা যদি হত। হয় না। মনের চাবি অন্য কারো হাতে। সেই হাতের দেখা মেলে না।

‘চা খাবি?’ -জানতে চায় সাথীর কাছে।

‘জিগাস কে? রুমে কেউ নাই। তুই আর আমি। এমন সুযোগ কি আসে? চা কেন তুই আর আমি যদি লেজবিয়ান হইতাম কয়েকটা চুমা-টুমাও খাইয়া ফেলতে পারতাম এহন।’ -চোখ টেপে সাথী।

‘হা হা হা…হো হো হো…’ মনের আকাশের অনেকটা অন্ধকার কেটে যায়। ‘ ভালোই বলছিস। এমন খালি তো আর রুম পাওয়া যায় না। সবসময় কেমন একটা গাদাগাদি। এইটুকু একটা রুমে পাঁচজন। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে একটু একা থাকতে। তখন আমি রোকেয়ার পাদদেশে নয়তো মাঠের ঘাসে যেয়ে বসি।’

‘রোকেয়া হলের ম্যাক্সিমাম মেয়েরই তো একই কাহিনী। তুই দেখবি সন্ধ্যার পর ভাস্কর্যের বেদিটায় যেসব মেয়েরা মন খারাপ করে বসে থাকে। ওদের হচ্ছে বয়ফ্রেন্ড আসতে দেরি করছে। কিংবা আসবে বলেও আসতে পারছে না। মন খারাপ থাকে। নয়তো কাঁদে। রাতের দিকে ফোনে কথা বলতে বলতে অনেকে হাউমাউ করে কাঁদে। মাইনষেরে কইয়া লাভ কি। আমার যহন মন খারাপ থাহে তহন একই কাজ আমিও করি। বেগম রোকেয়া মূর্তি না হইয়া যদি মানুষ হইত, আমগো কান্দা দেইখ্যা, মনে অয় সেও কানত। এই ছেড়িগুলা প্রেমের লাইগ্যা, প্রেমিকের লাইগ্যা কাইন্দা কুল পাইতাছে না। অথচ ওগো এহন মন দিয়ো পড়ালেহা করার কথা। আমগোও দুঃখ। বেগম রোকেয়ারও দুঃখ।’ -এক নিঃশ্বাসে এতগুলা কথা বলে যখন কথা শেষ করল, ওর দিকে তাকিয়েই হাসি পেল অলির।’

হেসেও দিল।

এই না হলে রুমমেট! হলমেট! ঘনকালো মনের আকাশটাকে কেমন রোদঝলমল করে দিল।

টোস্টের ডিব্বা খুলতে খুলতে গল্পের ঝাঁপি খোলার মতো করে বসল সাথী। ততক্ষণে চা বানানো হয়ে গেছে অলির । ধোঁয়া ওঠা চায়ের মধ্যে টোস্ট ভিজিয়ে ভিজিয়ে খাবে এবার তারা।

‘তা তুই ক্লাসে গেলি না ক্যান? ঝিমানি রানি হইয়া আছিলি ক্যা?’ -টোস্টে কামড় দিয়ে চোখ নাচিয়ে জানতে চায় সাথী।

সাথী আর অলি। ডিপার্টমেন্ট আলাদা হলেও একই বছরের তারা। সমবয়সী রুমমেট। তাই খাতিরটাও বেশি। সুখ-দুঃখের সব সময়ের।

‘আর বলিস না বাল। আব্বা-আম্মা বিয়া একটা ঠিক করতাছে।’ -আবার একটু মন খারাপ হয়ে যায় অলির।

‘কস কি? বিয়া ঠিক তো খুশির খবর। বিয়া মানেই জামাইয়ের লগে থাকতে পারবি। কুসুম কুসুম সুখ। হাসবি-খেলবি-বেড়াবি। বিয়া বালা জিনিস। কইরা ফেল। আমরাও একটু আমোদ-ফুর্তি করি। আমি শালা ইয়ারমেটের লগে প্রেম কইরা ধরা খাইছি। কবে চাকরি পাইব। কবে বিয়া করুম। ততদিনে যৌবন শুকাইয়া খেজুর অইয়া যাইব। খুশির খবরে তোর মুখ কালা কে? পোলা পছন্দ অয় নায়?’ -প্রশ্ন ছুড়ে দেয় সাথী।

‘না পোলা তো বুয়েটে পড়ত। আমাদের এলাকার প্রথম সারির ভালো ছাত্র ছিল। খুবই ভালো ছেলে। আমার অনেক পছন্দ। এই ছেলেরে বিয়া করার জন্য অনেক মেয়েই লাইনে আছে।’

‘ওরে শালা বোয়াল মাছ পাইছস দেহি’ -খুশি হয়ে ওঠে প্রিয় এই রুমমেট।

‘সমস্যা তো ছেলে না। ছেলের বাপ। ওই লোকরে আমার পছন্দ না।’

‘বিয়া করবি পোলারে। শুইবি পোলার লগে। শ্বশুররে আবার পছন্দ করতে অইব কে?’

সাথীর প্রশ্নে অনেকক্ষণ নীরব অলি। চায়ে শেষ চুমুক দেয়। বিছানা থেকে নামতে ইচ্ছে করছে না। উপুড় হয়ে নিজের ওই ছোট্ট জায়গাটার নির্দিষ্ট এক কোণায় চায়ের কাপ রাখে। দেয়ালে হেলান দিয়া বসে। পিঠে বালিশ। কোল-বালিশটা কোলেই। আরামপ্রিয় অলির এইটা খুব প্রিয় একটা বসা। খুব মন ভালো থাকলে সে এইভাবে বসে চা খায়। গল্পের বই পড়ে।

মন খারাপ থাকলেও এইভাবে বসে থাকে। চুপ করে।

বেশকিছুক্ষণ যেহেতু নীরব। মনটা তাহলে বেশিই খারাপ। ওকে আর ঘাটায় না সাথী। নীরব থাকে সে।

‘আমি না ক্লাস ফাইভে টেলেন্টপুলে বৃত্তি পাইছিলাম। থানাতে ফার্স্ট হইছিলাম।’ -এবার কথা শুরু করে সে। সাথীও ওর দিকে ঘুরে বসে। এবার সে মনোযোগি শ্রোতা। বন্ধুর মনের সঙ্গী।

‘যেদিন বৃত্তির রেজাল্ট দেয়, আমাদের বাসায় অনেক লোকের ভীড় হয়। যেহেতু আমরা কোর্য়াটারে থাকতাম। সবাই আমার এমন ভালো খবরে বাসায় আসে। এমনকি অফিস শেষে আব্বুর কলিগরাও। ক্লাস সিক্সেই আমি গায়ে-গতরে বেশ বড় হয়ে উঠেছিলাম। আমার অন্যান্য বান্ধবীর চেয়ে আমার ব্রেস্ট তাড়াতাড়ি বড় হয়। স্কার্ট কিংবা সামনে কুচি দেয়া ফ্রক বানিয়ে দিতেন আম্মু।’ যে ছেলের সঙ্গে বিয়ের কথা হচ্ছে, তার বাবা আব্বুর কলিগ। আমি থানায় ফার্স্ট হয়েছি শুনে আব্বুর অন্যান্য কলিগদের সঙ্গে তিনি আমাদের বাসায় আসলেন।’

কয়েক ঢোক চা খেয়ে নিল অলি। চা-টা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল। শেষ চুমুক দিয়ে হাতেই রাখে কাপটা। তারপর আবার শুরু করে।

‘সেদিন ড্রইংরুমে যখন সবাই মিষ্টি খাচ্ছিল, আমিও ছিলাম সেখানে। ওই চাচা আমাকে আদর করে সোফায় তার পাশে বসালেন। অনেকটা তার গা ঘেষে। ছোট্ট মনে আমার তেমন কোনো খারাপ ভাবনা আসেনি। কিন্তু আমার কাঁধে হাত দিয়ে দোয়া করার নাম করে পিঠ ঘুরিয়ে তিনি হাতটাকে আমার বুকের সঙ্গে লাগান। জামার কুচির নিচে বলে অন্য কেউ বুঝেনি। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম এটা হয়তো অনিচ্ছাকৃত। পরে দেখলাম বেশকয়েকবার তিনি সেখানে হাত রেখে চাপ দিচ্ছেন। আমি বুঝতে পেরে সরে এসেছিলাম। ওই রুম থেকে চলে এসেছিলাম। আমার এত আনন্দের একটা দিনে তিনি এমন কাজটা করলেন। ছোট্ট সেই মনটায় আমার তখন এত কষ্ট। কাউকে বলতে পারিনি। কেউ বিশ্বাস করবে না। আম্মাকে বললে আম্মা হয়তো উল্টা আমাকেই বকা দিতেন। পাঁচওয়াক্ত নামায পড়া কাউকে নিয়ে এমন বাজে কথা বলার জন্য। আমি কাউকে বলিনি। কিন্তু আমি ভুলেও যাইনি। ওইদিনের পর ওই চাচা, এমনকি তার পরিবারের কেউ আমাদের বাসায় আসলেই আমি গুটিয়ে থাকতাম। আর চিন্তা কর এখন তার ছেলের সঙ্গেই আমার বিয়ের কথা এগুচ্ছে। আমি কীভাবে এই বিয়েতে রাজি হই?’ -এক নিঃস্বাসে কথাগুলো শেষ করে অলি।

পোলার কোন সমস্যা নাই তো?

না ছেলেটা ভালো।

তাইলে আর কি সমস্যা?

ধুর মনের মধ্যে কেমন কিন্তু কিন্তু করে। আমি আসলে পারব না।

‘শোন তুই আমার ক্লাসমেট উপমারে চিনস না? ওর আপন চাচা ওরে রেপ করার চেষ্টা করছিল। ও যহন ক্লাস টু-তে পড়ত। ছোট মানুষ বুঝতে পারে নাই চাচা কি করে। ব্যথা পাইয়া যহন চিৎকার দেয় তহন দুই-একজন দেইখ্যা ফালায়। ওর বাপ-মা আর কহনো ওই চাচার লগে সম্পর্ক রাখে নাই। কিন্তু ছোট্ট মাইয়াডা ছোট থাইক্যা কত বড় একটা দুঃখের ঘটনা বইয়া বেড়াইতাছে দেখ। আপন চাচা তারে এমন করতে চাইছিল। তোরটা তো আরো বহু দূরের ঘটনা।’

নিজের মন সায় দিচ্ছিল না। তারপরও অলির মুখে ছেলেটা ভালো বলার পর মনে হইল পজেটিভ কিছু বোঝানো দরকার।

সাথী আবার শুরু করে- ‘আর আমি যদি আমার নিজের কথা কইতে চাই। আমার যখন পাঁচ বছর বয়স, তখন আমার ভাইদের যে গৃহশিক্ষক পড়াইতো তার কাছে আমিও খেলার ছলে পড়তে বইতাম। খেলতে খেলতে পড়তে চাইতাম বইলা আম্মা তারে কইল আমারেও পড়াইতে। দুই-তিনবছর মনে হয় পড়াইছে। একদিন আমার ভাইদের স্কুল থাইক্কা আসার আগে উনি পড়াইতে আইসা পড়ছে। দুপুরবেলা। আম্মা ঘুমাইতাছিল। আমি তো লক্ষ্মী বাচ্চার মতো বই-খাতা লইয়া ডাইনিংরুমে যাইয়া বইছি। দশ-পনেরো মিনিটের মতো হালকা পড়াইয়া ওই স্যার হঠাৎ কইরা আমার প্যান্টের ভিতরে হাত ঢুকাইয়া দিল। বোঝ অবস্থা। ছোট্ট মানুষ বুঝে উঠতে পারি নাই। অহনও বাসাত গেলে হারামজাদা আয়ে বাসায়। আমি সামনে যাই না। এগো চেহারা দেখতে অয় অহনও। তোর তো এমন কারো লগে বিয়া অইতাছে না। সব ব্যাটারাই আসলে খারাপ। ছোঁকছুঁইক্কা। তুই যেহেতু জানস পোলার চরিত্র বালা। তো বিয়া কইরালা। শ্বশুররে বেশি পুছবি না। সংসার তো করবি পোলার লগে।’

‘তারপরও। আমি পারব না। বিয়ের পর ওই দেখাসাক্ষাৎ হবে আর আমার ছোটবেলার সেই ঘটনা চোখের সামনে ভাসবে। এত দুঃসহ মনের ব্যথা আমি কেন বয়ে বেড়াব? ছোটকাল থেকে বয়ে বেড়িয়েছি। আর এখন এই ক্ষত-ঘা কেন আর খোঁচাবো।’ -সেটা ভালো বলছিস। কি দরকার হৃদয় খোড়ার। তুই বরং তোর মাকে বুঝিয়ে বল। কাহিনীটা ঠান্ডা মাথায় বোঝালে খালাম্মা নিশ্চয় ওই বেটার ছেলের সাথে তোরে বিয়া দিব না।

‘ধুর আমার মারে তুই চিনস না। ছেলে ইঞ্জিনিয়ার। দেখতে ভালো। ফ্যামিলি ভালো। আর কোনোদিকে তাকাবে না। আমি যদি বলি এই সমস্যা ভাববে বিয়ে ভাঙার জন্য এমন বাজে কথা বলছি। আম্মা খুব একরোখা। জোর কইরা এইখানে বিয়ে দিবেই।’

ক্যাটক্যাট করা সাথী। সারাক্ষণ মুখে কথার বলক পারা সাথী হঠাৎ নীরব হয়ে যায়।

নীরব হয়ে যায় অলিও।

এর মাঝে বেজে ওঠে অলির ফোনটা। আম্মার সেভ করা নাম্বার থেকে অনর্গল কল। ফোনের দিকে নির্লিপ্ত তাকিয়ে থাকে সে। বাংলা ট্রিবিউন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কুরআন তিলাওয়াতকারীর মা-বাবাকে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন

» শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে পাঞ্জাবের ১৪ রানে জয়

» ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের তফসিল ঘোষণা, নির্বাচন ৫ মে

» প্রাথমিকের ফল পুনঃনিরীক্ষণ ফেল থেকে পাস ৮ হাজার শিক্ষার্থী

» অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রির প্রতিবাদে যাত্রীকে পিটিয়ে জখম

» কক্সবাজারে কোচিং সেন্টারে অমানবিকতার শিকার কিশোর

» হাজীগঞ্জে বিদ্যুৎপৃষ্টে দাখিল পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

» সমৃদ্ধির পথে দেশ, কমেনি বৈষম্য

» আজ দিনভর ব্যস্ত সময় কাটা‌বেন প্রধানমন্ত্রী

» মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনারের মেয়াদ বাড়লো দুই বছর

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

দ্বিধা

জোহরা শিউলীঃকিরে অবেলায় এমন শুয়ে আছিস যে…’

দরজার ক্যাৎ ক্যাৎ শব্দের সঙ্গে সাথীর ক্যাটক্যাটে গলা।

মুখে কিছু বলে না অলি। মনে মনে বলে- ‘আমি শুয়ে থাকলে তোর কি সমস্যা?’

অভদ্রতা এড়াতে বাম কাঁধ পাশ করে ডান কাঁধে শোয়।

‘ক্লাসে যাসনি, না? লক্ষণ দেখে তো তাই মনে হচ্ছে। জ্বর-টর না তো?’ কপালে হাত ছোঁয়ায়।

উফ্ বালটার যন্ত্রণায় এখন আর শুয়ে থাকা যাবে না। একটু একা থাকার জন্য আজ ডিপার্টমেন্টে গেল না। পাঁচজনের রুমে কখনো একা হওয়া যায় না। তাই ক্লাস টাইমটাকেই বেছে নিল। এই সময়ে সবাই ক্লাসে চলে যায়। রুম তালা মারা থাকে। অলিরও ক্লাস ছিল আজ। কিন্তু যায়নি ইচ্ছে করেই। সবকিছু কেমন অস্বস্তি লাগছে। গা গুলাচ্ছে।

সকাল থেকেই একনাগাড়ে শুয়ে আছে সে। সাথী হচ্ছে রুমের কটকটি বেগম। ও এখন ঝিম মেরে পরে থাকলেও নানাভাবে সাথী তার পেটের ভিতরের কথা বের করতে চাইবে।

মন খারাপ কেন? ক্লাসে যাসনি কেন? সকাল থেকে কিছু খাসনি কেন?

কিছুর জবাব দিতে ইচ্ছে করছে না। নিশ্চুপ থেকে বাথরুমের দিকে এগোল। করিডোরের অনেকখানি হেঁটে যেতে হয় হলের কমন বাথরুমে। একটি ব্লকের দুইপাশে দুই বাথরুম। যেহেতু তাদের রুমটা মাঝখানে। অনেকটুকু হেঁটেই যেতে হয়। এই বাথরুমে যাবার সময়টুকুও অন্যদিন উপভোগ করে অলি। পাঁচতলা ভবনের চারতলা করিডোর থেকে হলের মাঠটা এত সুন্দর দেখা যায়। মাঠের বৃষ্টিবিলাস গাছটার ঝিরিঝিরি পাতা। কেমন যেন একটা ফুরফুরে আমেজ তৈরি করে। সেই সঙ্গে হলের বাগানের ডালিয়া-গাঁদা-গোলাপগুলো কেমন যেন হেসে হেসে স্বাগত জানায় তাকে, রুম থেকে বের হওয়ার জন্য। সকালের কুসুম কুসুম সূর্যটার সঙ্গে কথা বলতে বলতে এই ফুলগুলোর সঙ্গেও কিছুটা গল্প সেরে নেয় অলি। চায়ের কাপ হাতে। কানে হেডফোন। সকালটা তার সুন্দর করেই শুরু হয়। স্নাতকোত্তরে এসে কেন যেন তার মন খারাপ হয়ে যায়। প্রিয় হলটাকে ছেড়ে চলে যেতে হবে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এটা একটা মজা। বিশাল আবাসিক হল থাকে। হলে পুকুর থাকে। সবুজ লন থাকে। সবুজে সবুজে ছেঁয়ে থাকে। এই সবুজ, এই মায়া মায়া সবকিছুর জন্যই খারাপ লাগে অলির।

উপুর হয়ে কলের পানিতেই হাতমুখ ধোয় সে। বেশি করে পানির ঝাপটা দিয়ে। বেসিনে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না। এখানেই জামা-কাপড় ভিজিয়ে নিজেকে শুদ্ধ করে নিতে ইচ্ছে করছে। এক ঝটকার পানি দিয়ে যেমন তার মুখটা পরিষ্কার হচ্ছে। মনটা যদি হত। হয় না। মনের চাবি অন্য কারো হাতে। সেই হাতের দেখা মেলে না।

‘চা খাবি?’ -জানতে চায় সাথীর কাছে।

‘জিগাস কে? রুমে কেউ নাই। তুই আর আমি। এমন সুযোগ কি আসে? চা কেন তুই আর আমি যদি লেজবিয়ান হইতাম কয়েকটা চুমা-টুমাও খাইয়া ফেলতে পারতাম এহন।’ -চোখ টেপে সাথী।

‘হা হা হা…হো হো হো…’ মনের আকাশের অনেকটা অন্ধকার কেটে যায়। ‘ ভালোই বলছিস। এমন খালি তো আর রুম পাওয়া যায় না। সবসময় কেমন একটা গাদাগাদি। এইটুকু একটা রুমে পাঁচজন। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে একটু একা থাকতে। তখন আমি রোকেয়ার পাদদেশে নয়তো মাঠের ঘাসে যেয়ে বসি।’

‘রোকেয়া হলের ম্যাক্সিমাম মেয়েরই তো একই কাহিনী। তুই দেখবি সন্ধ্যার পর ভাস্কর্যের বেদিটায় যেসব মেয়েরা মন খারাপ করে বসে থাকে। ওদের হচ্ছে বয়ফ্রেন্ড আসতে দেরি করছে। কিংবা আসবে বলেও আসতে পারছে না। মন খারাপ থাকে। নয়তো কাঁদে। রাতের দিকে ফোনে কথা বলতে বলতে অনেকে হাউমাউ করে কাঁদে। মাইনষেরে কইয়া লাভ কি। আমার যহন মন খারাপ থাহে তহন একই কাজ আমিও করি। বেগম রোকেয়া মূর্তি না হইয়া যদি মানুষ হইত, আমগো কান্দা দেইখ্যা, মনে অয় সেও কানত। এই ছেড়িগুলা প্রেমের লাইগ্যা, প্রেমিকের লাইগ্যা কাইন্দা কুল পাইতাছে না। অথচ ওগো এহন মন দিয়ো পড়ালেহা করার কথা। আমগোও দুঃখ। বেগম রোকেয়ারও দুঃখ।’ -এক নিঃশ্বাসে এতগুলা কথা বলে যখন কথা শেষ করল, ওর দিকে তাকিয়েই হাসি পেল অলির।’

হেসেও দিল।

এই না হলে রুমমেট! হলমেট! ঘনকালো মনের আকাশটাকে কেমন রোদঝলমল করে দিল।

টোস্টের ডিব্বা খুলতে খুলতে গল্পের ঝাঁপি খোলার মতো করে বসল সাথী। ততক্ষণে চা বানানো হয়ে গেছে অলির । ধোঁয়া ওঠা চায়ের মধ্যে টোস্ট ভিজিয়ে ভিজিয়ে খাবে এবার তারা।

‘তা তুই ক্লাসে গেলি না ক্যান? ঝিমানি রানি হইয়া আছিলি ক্যা?’ -টোস্টে কামড় দিয়ে চোখ নাচিয়ে জানতে চায় সাথী।

সাথী আর অলি। ডিপার্টমেন্ট আলাদা হলেও একই বছরের তারা। সমবয়সী রুমমেট। তাই খাতিরটাও বেশি। সুখ-দুঃখের সব সময়ের।

‘আর বলিস না বাল। আব্বা-আম্মা বিয়া একটা ঠিক করতাছে।’ -আবার একটু মন খারাপ হয়ে যায় অলির।

‘কস কি? বিয়া ঠিক তো খুশির খবর। বিয়া মানেই জামাইয়ের লগে থাকতে পারবি। কুসুম কুসুম সুখ। হাসবি-খেলবি-বেড়াবি। বিয়া বালা জিনিস। কইরা ফেল। আমরাও একটু আমোদ-ফুর্তি করি। আমি শালা ইয়ারমেটের লগে প্রেম কইরা ধরা খাইছি। কবে চাকরি পাইব। কবে বিয়া করুম। ততদিনে যৌবন শুকাইয়া খেজুর অইয়া যাইব। খুশির খবরে তোর মুখ কালা কে? পোলা পছন্দ অয় নায়?’ -প্রশ্ন ছুড়ে দেয় সাথী।

‘না পোলা তো বুয়েটে পড়ত। আমাদের এলাকার প্রথম সারির ভালো ছাত্র ছিল। খুবই ভালো ছেলে। আমার অনেক পছন্দ। এই ছেলেরে বিয়া করার জন্য অনেক মেয়েই লাইনে আছে।’

‘ওরে শালা বোয়াল মাছ পাইছস দেহি’ -খুশি হয়ে ওঠে প্রিয় এই রুমমেট।

‘সমস্যা তো ছেলে না। ছেলের বাপ। ওই লোকরে আমার পছন্দ না।’

‘বিয়া করবি পোলারে। শুইবি পোলার লগে। শ্বশুররে আবার পছন্দ করতে অইব কে?’

সাথীর প্রশ্নে অনেকক্ষণ নীরব অলি। চায়ে শেষ চুমুক দেয়। বিছানা থেকে নামতে ইচ্ছে করছে না। উপুড় হয়ে নিজের ওই ছোট্ট জায়গাটার নির্দিষ্ট এক কোণায় চায়ের কাপ রাখে। দেয়ালে হেলান দিয়া বসে। পিঠে বালিশ। কোল-বালিশটা কোলেই। আরামপ্রিয় অলির এইটা খুব প্রিয় একটা বসা। খুব মন ভালো থাকলে সে এইভাবে বসে চা খায়। গল্পের বই পড়ে।

মন খারাপ থাকলেও এইভাবে বসে থাকে। চুপ করে।

বেশকিছুক্ষণ যেহেতু নীরব। মনটা তাহলে বেশিই খারাপ। ওকে আর ঘাটায় না সাথী। নীরব থাকে সে।

‘আমি না ক্লাস ফাইভে টেলেন্টপুলে বৃত্তি পাইছিলাম। থানাতে ফার্স্ট হইছিলাম।’ -এবার কথা শুরু করে সে। সাথীও ওর দিকে ঘুরে বসে। এবার সে মনোযোগি শ্রোতা। বন্ধুর মনের সঙ্গী।

‘যেদিন বৃত্তির রেজাল্ট দেয়, আমাদের বাসায় অনেক লোকের ভীড় হয়। যেহেতু আমরা কোর্য়াটারে থাকতাম। সবাই আমার এমন ভালো খবরে বাসায় আসে। এমনকি অফিস শেষে আব্বুর কলিগরাও। ক্লাস সিক্সেই আমি গায়ে-গতরে বেশ বড় হয়ে উঠেছিলাম। আমার অন্যান্য বান্ধবীর চেয়ে আমার ব্রেস্ট তাড়াতাড়ি বড় হয়। স্কার্ট কিংবা সামনে কুচি দেয়া ফ্রক বানিয়ে দিতেন আম্মু।’ যে ছেলের সঙ্গে বিয়ের কথা হচ্ছে, তার বাবা আব্বুর কলিগ। আমি থানায় ফার্স্ট হয়েছি শুনে আব্বুর অন্যান্য কলিগদের সঙ্গে তিনি আমাদের বাসায় আসলেন।’

কয়েক ঢোক চা খেয়ে নিল অলি। চা-টা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল। শেষ চুমুক দিয়ে হাতেই রাখে কাপটা। তারপর আবার শুরু করে।

‘সেদিন ড্রইংরুমে যখন সবাই মিষ্টি খাচ্ছিল, আমিও ছিলাম সেখানে। ওই চাচা আমাকে আদর করে সোফায় তার পাশে বসালেন। অনেকটা তার গা ঘেষে। ছোট্ট মনে আমার তেমন কোনো খারাপ ভাবনা আসেনি। কিন্তু আমার কাঁধে হাত দিয়ে দোয়া করার নাম করে পিঠ ঘুরিয়ে তিনি হাতটাকে আমার বুকের সঙ্গে লাগান। জামার কুচির নিচে বলে অন্য কেউ বুঝেনি। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম এটা হয়তো অনিচ্ছাকৃত। পরে দেখলাম বেশকয়েকবার তিনি সেখানে হাত রেখে চাপ দিচ্ছেন। আমি বুঝতে পেরে সরে এসেছিলাম। ওই রুম থেকে চলে এসেছিলাম। আমার এত আনন্দের একটা দিনে তিনি এমন কাজটা করলেন। ছোট্ট সেই মনটায় আমার তখন এত কষ্ট। কাউকে বলতে পারিনি। কেউ বিশ্বাস করবে না। আম্মাকে বললে আম্মা হয়তো উল্টা আমাকেই বকা দিতেন। পাঁচওয়াক্ত নামায পড়া কাউকে নিয়ে এমন বাজে কথা বলার জন্য। আমি কাউকে বলিনি। কিন্তু আমি ভুলেও যাইনি। ওইদিনের পর ওই চাচা, এমনকি তার পরিবারের কেউ আমাদের বাসায় আসলেই আমি গুটিয়ে থাকতাম। আর চিন্তা কর এখন তার ছেলের সঙ্গেই আমার বিয়ের কথা এগুচ্ছে। আমি কীভাবে এই বিয়েতে রাজি হই?’ -এক নিঃস্বাসে কথাগুলো শেষ করে অলি।

পোলার কোন সমস্যা নাই তো?

না ছেলেটা ভালো।

তাইলে আর কি সমস্যা?

ধুর মনের মধ্যে কেমন কিন্তু কিন্তু করে। আমি আসলে পারব না।

‘শোন তুই আমার ক্লাসমেট উপমারে চিনস না? ওর আপন চাচা ওরে রেপ করার চেষ্টা করছিল। ও যহন ক্লাস টু-তে পড়ত। ছোট মানুষ বুঝতে পারে নাই চাচা কি করে। ব্যথা পাইয়া যহন চিৎকার দেয় তহন দুই-একজন দেইখ্যা ফালায়। ওর বাপ-মা আর কহনো ওই চাচার লগে সম্পর্ক রাখে নাই। কিন্তু ছোট্ট মাইয়াডা ছোট থাইক্যা কত বড় একটা দুঃখের ঘটনা বইয়া বেড়াইতাছে দেখ। আপন চাচা তারে এমন করতে চাইছিল। তোরটা তো আরো বহু দূরের ঘটনা।’

নিজের মন সায় দিচ্ছিল না। তারপরও অলির মুখে ছেলেটা ভালো বলার পর মনে হইল পজেটিভ কিছু বোঝানো দরকার।

সাথী আবার শুরু করে- ‘আর আমি যদি আমার নিজের কথা কইতে চাই। আমার যখন পাঁচ বছর বয়স, তখন আমার ভাইদের যে গৃহশিক্ষক পড়াইতো তার কাছে আমিও খেলার ছলে পড়তে বইতাম। খেলতে খেলতে পড়তে চাইতাম বইলা আম্মা তারে কইল আমারেও পড়াইতে। দুই-তিনবছর মনে হয় পড়াইছে। একদিন আমার ভাইদের স্কুল থাইক্কা আসার আগে উনি পড়াইতে আইসা পড়ছে। দুপুরবেলা। আম্মা ঘুমাইতাছিল। আমি তো লক্ষ্মী বাচ্চার মতো বই-খাতা লইয়া ডাইনিংরুমে যাইয়া বইছি। দশ-পনেরো মিনিটের মতো হালকা পড়াইয়া ওই স্যার হঠাৎ কইরা আমার প্যান্টের ভিতরে হাত ঢুকাইয়া দিল। বোঝ অবস্থা। ছোট্ট মানুষ বুঝে উঠতে পারি নাই। অহনও বাসাত গেলে হারামজাদা আয়ে বাসায়। আমি সামনে যাই না। এগো চেহারা দেখতে অয় অহনও। তোর তো এমন কারো লগে বিয়া অইতাছে না। সব ব্যাটারাই আসলে খারাপ। ছোঁকছুঁইক্কা। তুই যেহেতু জানস পোলার চরিত্র বালা। তো বিয়া কইরালা। শ্বশুররে বেশি পুছবি না। সংসার তো করবি পোলার লগে।’

‘তারপরও। আমি পারব না। বিয়ের পর ওই দেখাসাক্ষাৎ হবে আর আমার ছোটবেলার সেই ঘটনা চোখের সামনে ভাসবে। এত দুঃসহ মনের ব্যথা আমি কেন বয়ে বেড়াব? ছোটকাল থেকে বয়ে বেড়িয়েছি। আর এখন এই ক্ষত-ঘা কেন আর খোঁচাবো।’ -সেটা ভালো বলছিস। কি দরকার হৃদয় খোড়ার। তুই বরং তোর মাকে বুঝিয়ে বল। কাহিনীটা ঠান্ডা মাথায় বোঝালে খালাম্মা নিশ্চয় ওই বেটার ছেলের সাথে তোরে বিয়া দিব না।

‘ধুর আমার মারে তুই চিনস না। ছেলে ইঞ্জিনিয়ার। দেখতে ভালো। ফ্যামিলি ভালো। আর কোনোদিকে তাকাবে না। আমি যদি বলি এই সমস্যা ভাববে বিয়ে ভাঙার জন্য এমন বাজে কথা বলছি। আম্মা খুব একরোখা। জোর কইরা এইখানে বিয়ে দিবেই।’

ক্যাটক্যাট করা সাথী। সারাক্ষণ মুখে কথার বলক পারা সাথী হঠাৎ নীরব হয়ে যায়।

নীরব হয়ে যায় অলিও।

এর মাঝে বেজে ওঠে অলির ফোনটা। আম্মার সেভ করা নাম্বার থেকে অনর্গল কল। ফোনের দিকে নির্লিপ্ত তাকিয়ে থাকে সে। বাংলা ট্রিবিউন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com