দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত হজ

আমিন মুনশি : হজের একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। হজের এ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব উপলব্ধি করলে এর তাৎপর্য, ফজিলত ও মূল উদ্দেশ্য বোঝা সহজ হয়। হজের মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি এখলাসের সাথে তাওহিদের ঘোষণা দিয়ে থাকেন। প্রতি বছর হজের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন করে স্মরণ করার জন্য এবং মানুষের মাঝে আবেগ, অনুভূতি ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টির জন্য পৃথিবীর দূর-দূরান্ত থেকে ঈমান, ইসলাম ও তাওহিদের প্রেমানুগ মানুষেরা পবিত্র বায়তুল্লাহতে জমায়েত হয়ে এমন সব কিছু করে থাকেন, যা মুসলিম জাতির পিতা ও পথ প্রদর্শক হজরত ইবরাহীম আ. করেছিলেন।

মুসলমানগণ দুই খণ্ড সাদা কাপড় পরিধান করে অত্যন্ত আবেগ ও উচ্ছ্বাসের সাথে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে থাকেন। কখনো সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী অংশে দৌড়ান। কখনো আরাফাতের বিশাল ময়দানে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনায় মশগুল থাকেন। কখনো মিনা ও মুজদালিফায় অবস্থান করেন। কোনো সময় জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করেন এবং কখনো কোরবানিগাহে পশুর গলায় ছুরি চালিয়ে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল ও ভালোবাসার শপথ গ্রহণ করে থাকেন। চলতে-ফিরতে, উঠতে-বসতে প্রতিক্ষণে মুমিনদের কণ্ঠে বায়তুল হারামের সমগ্র পরিবেশ মুখরিত হতে থাকে এ বাক্যের মাধ্যমে ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক! লাব্বাইকা লা-শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ানি’মাতা লাকাল মুলক লা-শারিকা লাকা।’ মূলত ঈমানদার ব্যক্তি নিজেকে পরিপূর্ণরূপে আল্লাহর ওপর সোপর্দ করার নামই হজ।

পবিত্র কুরআন ও হাদিসে হজের হিকমত, ইসলামী বিধানের মধ্যে হজের মর্যাদা এবং হজের মহত্ত্ব ও গুরুত্বের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘মানুষের ওপর আল্লাহর এ অধিকার যে, বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছার শক্তি ও সামর্থ্য যে রাখে সে যেন হজ করে এবং যে এ হুকুম অমান্য করে কুফরি আচরণ করবে, তার জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ বিশ্ব প্রকৃতির ওপর অবস্থানকারীদের মুখাপেক্ষী নন।’ (সূরা আল ইমরান : ৯৭)

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ না করা একটি কুফরি আচরণ। ঠিক যেভাবে কুরআনে নামাজ ত্যাগ করাকে এক স্থানে মুশরিকি কার্যকলাপ বলা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নামাজ কায়েম করো এবং মুশরিকদের মধ্যে শামিল হয়ো না।’ (সূরা রুম : ৩১) নবী করিম সা: এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তির কাছে হজের জরুরি খরচের অর্থসামগ্রী মজুদ আছে, যানবাহন আছে যার দ্বারা সে বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, তারপরও সে হজ করে না, তাহলে সে ইহুদি হয়ে মরুক অথবা খ্রিষ্টান হয়ে মরুক তাতে কিছু আসে যায় না। এ থেকে আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারি, সামর্থ্য থাকার পর যদি কেউ হজ না করে তাহলে তার আচরণকে কুফরি আচরণ বলা হয়েছে এবং তাকে ইহুদি-খ্রিষ্টানদের সাথে তুলনা করা হয়েছে। সুন্দর সুষ্ঠুভাবে হজ সম্পাদনকারী ব্যক্তিকে জন্মদিনের মতো নিষ্পাপ বলা হয়েছে।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বিপিএল লস প্রজেক্ট, আগামী বছর থাকবো কিনা চিন্তা করছি : নাফিসা

» এক গানেই ২ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিলেন জ্যাকলিন

» ঘুষের নাম বড় বাবু, স্কুল প্রতি ১০ হাজার টাকা

» পঙ্গু হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্সের মৃত্যু

» খালেদা জিয়া গ্রেনেড হামলার দায় এড়াতে পারেন না: প্রধানমন্ত্রী

» ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার দাবিতে নীলফামারীতে বিক্ষোভ সমাবেশ

» নিসু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মনিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি লিটন ও সম্পাদক মোতাহারকে নাগরিক সংবর্ধনা

» জয়পুরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় স্কুলছাত্রের মৃত্যু

» শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে চেয়েছিলো তারা: চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি

» শ্রীপুরে সন্তানের অত্যাচারে বাড়ি ছাড়লেন মা, নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত হজ

আমিন মুনশি : হজের একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। হজের এ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব উপলব্ধি করলে এর তাৎপর্য, ফজিলত ও মূল উদ্দেশ্য বোঝা সহজ হয়। হজের মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি এখলাসের সাথে তাওহিদের ঘোষণা দিয়ে থাকেন। প্রতি বছর হজের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন করে স্মরণ করার জন্য এবং মানুষের মাঝে আবেগ, অনুভূতি ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টির জন্য পৃথিবীর দূর-দূরান্ত থেকে ঈমান, ইসলাম ও তাওহিদের প্রেমানুগ মানুষেরা পবিত্র বায়তুল্লাহতে জমায়েত হয়ে এমন সব কিছু করে থাকেন, যা মুসলিম জাতির পিতা ও পথ প্রদর্শক হজরত ইবরাহীম আ. করেছিলেন।

মুসলমানগণ দুই খণ্ড সাদা কাপড় পরিধান করে অত্যন্ত আবেগ ও উচ্ছ্বাসের সাথে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে থাকেন। কখনো সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী অংশে দৌড়ান। কখনো আরাফাতের বিশাল ময়দানে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনায় মশগুল থাকেন। কখনো মিনা ও মুজদালিফায় অবস্থান করেন। কোনো সময় জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করেন এবং কখনো কোরবানিগাহে পশুর গলায় ছুরি চালিয়ে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল ও ভালোবাসার শপথ গ্রহণ করে থাকেন। চলতে-ফিরতে, উঠতে-বসতে প্রতিক্ষণে মুমিনদের কণ্ঠে বায়তুল হারামের সমগ্র পরিবেশ মুখরিত হতে থাকে এ বাক্যের মাধ্যমে ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক! লাব্বাইকা লা-শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ানি’মাতা লাকাল মুলক লা-শারিকা লাকা।’ মূলত ঈমানদার ব্যক্তি নিজেকে পরিপূর্ণরূপে আল্লাহর ওপর সোপর্দ করার নামই হজ।

পবিত্র কুরআন ও হাদিসে হজের হিকমত, ইসলামী বিধানের মধ্যে হজের মর্যাদা এবং হজের মহত্ত্ব ও গুরুত্বের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘মানুষের ওপর আল্লাহর এ অধিকার যে, বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছার শক্তি ও সামর্থ্য যে রাখে সে যেন হজ করে এবং যে এ হুকুম অমান্য করে কুফরি আচরণ করবে, তার জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ বিশ্ব প্রকৃতির ওপর অবস্থানকারীদের মুখাপেক্ষী নন।’ (সূরা আল ইমরান : ৯৭)

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ না করা একটি কুফরি আচরণ। ঠিক যেভাবে কুরআনে নামাজ ত্যাগ করাকে এক স্থানে মুশরিকি কার্যকলাপ বলা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নামাজ কায়েম করো এবং মুশরিকদের মধ্যে শামিল হয়ো না।’ (সূরা রুম : ৩১) নবী করিম সা: এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তির কাছে হজের জরুরি খরচের অর্থসামগ্রী মজুদ আছে, যানবাহন আছে যার দ্বারা সে বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, তারপরও সে হজ করে না, তাহলে সে ইহুদি হয়ে মরুক অথবা খ্রিষ্টান হয়ে মরুক তাতে কিছু আসে যায় না। এ থেকে আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারি, সামর্থ্য থাকার পর যদি কেউ হজ না করে তাহলে তার আচরণকে কুফরি আচরণ বলা হয়েছে এবং তাকে ইহুদি-খ্রিষ্টানদের সাথে তুলনা করা হয়েছে। সুন্দর সুষ্ঠুভাবে হজ সম্পাদনকারী ব্যক্তিকে জন্মদিনের মতো নিষ্পাপ বলা হয়েছে।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com