তালিকায় নাম নেই ভাতাও নেই বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধার

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর:লক্ষ্মীপুরে আবুল কালাম আজাদ নামক এক ব্যক্তি নিজেকে সনদপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করে বলেন- ‘আমি চলতে ফিরতে পারি না, নিজের থাকার জায়গা নেই। মৃত স্ত্রীর বাপের বাড়িতে থাকি। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাই না, শালা সম্বন্ধিরা বলে ঘর ভেঙে চলে যেতে। এখন আমি এই বয়সে কোথায় যাব?’
এমনি করুণ স্বরে কথাগুলো বলছেন লক্ষীপুরের বর্তমান চন্দ্রগঞ্জ থানার দত্তপাড়া ইউনিয়নের শহিদপুর গ্রামের মৃত মোঃ আবুল কালাম আজাদ। 7ছেলে 6 মেয়ে থাকলেও সন্তানেরা যে যার মতো সংসার পেতেছেন। মুক্তিযোদ্ধা  আবুল-কালাম-আজাদ থাকেন শ্বশুরবাড়ি অর্থাৎ সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাপের বাড়িতে।
আবুল কালাম আজাদ কর্মজীবনের 27 জানুয়ারি 1970 থেকে 31 ডিসেম্বর 1998 পর্যন্ত সেনাবাহিনীর অর্ডন্যান্স কোরে সরকারি স্টোর ম্যানেজার (ইউ এস এম) পদে চাকরি করেছেন। চাকুরীতে থাকাকালীন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন বলে আবুল কালাম আজাদ জানান। তিনি এ মর্মে তদানিন্তন সেনা অফিসার স্বাক্ষরিত দুইখানা প্রত্যয়ন পত্র দেখান। মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশ নিয়েছেন মর্মে প্রথম প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেন অর্ডন্যান্স ডেপো চট্টগ্রাম সেনানিবাস। দ্বিতীয় প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেন সেন্ট্রাল অর্ডন্যান্স ডেপো ঢাকা( ই ও সি ও ওসিভ) নুরুল আমিন। তারা উভয় প্রত্যয়ন করেন যে চাকরিতে থাকাকালীন আবুল-কালাম-আজাদ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
বিভিন্ন সমস্যা পারিবারিক জটিলতায় আবুল কালাম আজাদ কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি মর্মে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম ওঠাতে পারেননি বলে তিনি জানিয়েছেন।
এনিয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার তোফায়েল আহমেদ বলেন- যদি সে কাগজপত্র দেখাতে পারে, সনদ থাকে তাহলে তো তালিকায় নাম উঠতে এত কঠিন কিছু নয়। এখানে আবুল কালাম আজাদের অবহেলা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জেলা প্রশাসক ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন -‘যদি তিনি সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা হয়ে থাকেন, কাগজপত্র সনদ থাকে তাহলে তাকে তালিকা নাম উঠাতে ও ভাতা পেতে সহযোগিতা করা হবে।’
Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সরকারি সব কাজে স্বচ্ছতার ও দায়িত্বশীলতার কোনো বিকল্প নেই: স্পিকার

» এটা কি কোনো প্রধানমন্ত্রীর কথা হলো: কাদের সিদ্দিকী

» এমপি রতনের আশীর্বাদ: ধর্মপাশার মোবারকের হাতে আলাদিনের চেরাগ

» রাজধানীর গাছ ব্যানার বিজ্ঞাপনের পেরেকে ক্ষত বিক্ষত

» বিএনপির রাজনীতি পেঁয়াজের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছে: ড. হাছান মাহমুদ

» বাড়ি ক্রয় থেকে ম্যানেজমেন্ট পরামর্শ দিচ্ছে ‘নেক্সট ড্রিম এলএলসি’

» কমার্স কলেজের সামনে কাভার্ড ভ্যানচাপায় শিশুর মৃত্যু

» জরিমানা নয়, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই প্রধান উদ্দেশ্য : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» ট্রেনে ভয়াবহ আগুন!

» লালমনিরহাটে তিনটি বিদেশি পিস্তলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

তালিকায় নাম নেই ভাতাও নেই বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধার

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর:লক্ষ্মীপুরে আবুল কালাম আজাদ নামক এক ব্যক্তি নিজেকে সনদপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করে বলেন- ‘আমি চলতে ফিরতে পারি না, নিজের থাকার জায়গা নেই। মৃত স্ত্রীর বাপের বাড়িতে থাকি। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাই না, শালা সম্বন্ধিরা বলে ঘর ভেঙে চলে যেতে। এখন আমি এই বয়সে কোথায় যাব?’
এমনি করুণ স্বরে কথাগুলো বলছেন লক্ষীপুরের বর্তমান চন্দ্রগঞ্জ থানার দত্তপাড়া ইউনিয়নের শহিদপুর গ্রামের মৃত মোঃ আবুল কালাম আজাদ। 7ছেলে 6 মেয়ে থাকলেও সন্তানেরা যে যার মতো সংসার পেতেছেন। মুক্তিযোদ্ধা  আবুল-কালাম-আজাদ থাকেন শ্বশুরবাড়ি অর্থাৎ সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাপের বাড়িতে।
আবুল কালাম আজাদ কর্মজীবনের 27 জানুয়ারি 1970 থেকে 31 ডিসেম্বর 1998 পর্যন্ত সেনাবাহিনীর অর্ডন্যান্স কোরে সরকারি স্টোর ম্যানেজার (ইউ এস এম) পদে চাকরি করেছেন। চাকুরীতে থাকাকালীন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন বলে আবুল কালাম আজাদ জানান। তিনি এ মর্মে তদানিন্তন সেনা অফিসার স্বাক্ষরিত দুইখানা প্রত্যয়ন পত্র দেখান। মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশ নিয়েছেন মর্মে প্রথম প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেন অর্ডন্যান্স ডেপো চট্টগ্রাম সেনানিবাস। দ্বিতীয় প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেন সেন্ট্রাল অর্ডন্যান্স ডেপো ঢাকা( ই ও সি ও ওসিভ) নুরুল আমিন। তারা উভয় প্রত্যয়ন করেন যে চাকরিতে থাকাকালীন আবুল-কালাম-আজাদ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
বিভিন্ন সমস্যা পারিবারিক জটিলতায় আবুল কালাম আজাদ কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি মর্মে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম ওঠাতে পারেননি বলে তিনি জানিয়েছেন।
এনিয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার তোফায়েল আহমেদ বলেন- যদি সে কাগজপত্র দেখাতে পারে, সনদ থাকে তাহলে তো তালিকায় নাম উঠতে এত কঠিন কিছু নয়। এখানে আবুল কালাম আজাদের অবহেলা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জেলা প্রশাসক ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন -‘যদি তিনি সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা হয়ে থাকেন, কাগজপত্র সনদ থাকে তাহলে তাকে তালিকা নাম উঠাতে ও ভাতা পেতে সহযোগিতা করা হবে।’
Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com