ঘড়িকাণ্ড তদন্তে গিয়ে ভুঁড়িভোজে শিক্ষা কর্মকর্তারা!

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার দক্ষিণ রাধাবল্লভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি সাধারণ দেয়ালঘড়ির মূল্য ধরা হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। অথচ ওই ঘড়ির বাজার মূল্য মাত্র এক হাজার টাকা। এ সংক্রান্ত একটি খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে এ ঘড়িকাণ্ড তদন্তে গঠিত তদন্ত কমিটি ওই বিদ্যালয়ে যান গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর)। সেখানে গিয়ে তদন্ত কমিটির শিক্ষা কর্মকর্তারা অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে ভুঁজিভোজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের এমন আচরণে ওই এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ রাধাবল্লভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে স্লিপ গ্রান্ডের ৫০ হাজার, রুটিন মেইনটেইন্যান্সের ৪০ হাজার এবং প্রাক প্রাথমিকের ১০ হাজার টাকাসহ মোট বরাদ্দ দেয়া হয় এক লাখ টাকা। বিল-ভাউচারে একটি সাধারণ দেয়ালঘড়ির মূল্য ধরা হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। অথচ ওই ঘড়ির বাজার মূল্য মাত্র এক হাজার টাকা। এছাড়া একটি নিম্নমানের কাঠ দিয়ে তৈরি টেবিল ৮ হাজার এবং চেয়ারের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ হাজার টাকা।

চলতি বছরের জুন মাসে বরাদ্দের টাকা উত্তোলণ করা হলেও ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি এবং কৌশল অবলম্বন করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে বাকি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশিত হয়। এরপর দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর নড়ে-চড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসার ওই বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান।

এ সময় তদন্তের নামে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের দাওয়াত গ্রহণ করে তার বাড়িতে ভুঁড়িভোজ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা দেয়। কর্মকর্তাদের এমন ভুঁড়িভোজের কারণে উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সহকারী শিক্ষকরা বলেন, সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর গত ১ ডিসেম্বর প্রধান শিক্ষক আরও ৪টি নতুন দেয়ালঘড়ি এনে স্কুলে লাগিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার টিও, এটিও স্যারসহ আরও অনেকেই এসেছিলো স্কুলে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য। পরে তারা সবাই প্রধান শিক্ষকের বাসায় দুপুরের খাবার খেয়েছেন। কর্মকর্তারা যদি অনিয়মকারীদের প্রচ্ছয় দেয় তাহলে দুর্নীতি দুর হবে না বরং বাড়বে।

প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক বলেন, স্যাররা তদন্ত করার জন্য স্কুলে এসেছিলো। পরে আমার বাসায় নিয়ে চা-কফির দাওয়াত দিয়েছিলাম।

এ বিষয়ে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধের সভাপতি একেএম সামিউল হক নান্টু বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে কোন কর্মকর্তা দাওয়াত খেতে পারেনা। এটা চরম অনুচিত। কেননা এতে করে দুর্নীতি করতে উৎসাহ দেয়া হয়। যে কর্মকর্তা এই কাজ করেছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু সালেহ’র সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমরা উক্ত স্কুলে গিয়েছিলাম। তবে ভুঁড়িভোজের কথা তিনি এড়িয়ে যান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ বলেন, উক্ত বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর তা দেখার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে ভুঁড়িভোজের বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো। পূর্বপশ্চিমবিডি

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» রকেট হামলার পর ফের বন্ধ ত্রিপলী বিমানবন্দর

» পাকিস্তানে পৌঁছাল বাংলাদেশ দল

» শেষ রাতের ইবাদতকারীকে মাফ করে দেয়া হয়

» সিএএ বিতর্কে অংশ নিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুপা হক

» ছাত্রীদের টিফিনের টাকায় বঙ্গবন্ধুর হাজারো ছবি কক্সবাজার সৈকতে

» খুলনা জেলা পরিষদের প্যানেল মেয়রের হারপিক পানে আত্মহত্যা

» দশ বছর পর

» ইটভাটায় কাজ করছে শিশু

» সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাইবার দুনিয়ায় নজরদারি

» হঠাৎ বেড়েছে খুনের ঘটনা

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

ঘড়িকাণ্ড তদন্তে গিয়ে ভুঁড়িভোজে শিক্ষা কর্মকর্তারা!

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার দক্ষিণ রাধাবল্লভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি সাধারণ দেয়ালঘড়ির মূল্য ধরা হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। অথচ ওই ঘড়ির বাজার মূল্য মাত্র এক হাজার টাকা। এ সংক্রান্ত একটি খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে এ ঘড়িকাণ্ড তদন্তে গঠিত তদন্ত কমিটি ওই বিদ্যালয়ে যান গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর)। সেখানে গিয়ে তদন্ত কমিটির শিক্ষা কর্মকর্তারা অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে ভুঁজিভোজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের এমন আচরণে ওই এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ রাধাবল্লভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে স্লিপ গ্রান্ডের ৫০ হাজার, রুটিন মেইনটেইন্যান্সের ৪০ হাজার এবং প্রাক প্রাথমিকের ১০ হাজার টাকাসহ মোট বরাদ্দ দেয়া হয় এক লাখ টাকা। বিল-ভাউচারে একটি সাধারণ দেয়ালঘড়ির মূল্য ধরা হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। অথচ ওই ঘড়ির বাজার মূল্য মাত্র এক হাজার টাকা। এছাড়া একটি নিম্নমানের কাঠ দিয়ে তৈরি টেবিল ৮ হাজার এবং চেয়ারের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ হাজার টাকা।

চলতি বছরের জুন মাসে বরাদ্দের টাকা উত্তোলণ করা হলেও ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি এবং কৌশল অবলম্বন করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে বাকি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশিত হয়। এরপর দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর নড়ে-চড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসার ওই বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান।

এ সময় তদন্তের নামে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের দাওয়াত গ্রহণ করে তার বাড়িতে ভুঁড়িভোজ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা দেয়। কর্মকর্তাদের এমন ভুঁড়িভোজের কারণে উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সহকারী শিক্ষকরা বলেন, সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর গত ১ ডিসেম্বর প্রধান শিক্ষক আরও ৪টি নতুন দেয়ালঘড়ি এনে স্কুলে লাগিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার টিও, এটিও স্যারসহ আরও অনেকেই এসেছিলো স্কুলে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য। পরে তারা সবাই প্রধান শিক্ষকের বাসায় দুপুরের খাবার খেয়েছেন। কর্মকর্তারা যদি অনিয়মকারীদের প্রচ্ছয় দেয় তাহলে দুর্নীতি দুর হবে না বরং বাড়বে।

প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক বলেন, স্যাররা তদন্ত করার জন্য স্কুলে এসেছিলো। পরে আমার বাসায় নিয়ে চা-কফির দাওয়াত দিয়েছিলাম।

এ বিষয়ে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধের সভাপতি একেএম সামিউল হক নান্টু বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে কোন কর্মকর্তা দাওয়াত খেতে পারেনা। এটা চরম অনুচিত। কেননা এতে করে দুর্নীতি করতে উৎসাহ দেয়া হয়। যে কর্মকর্তা এই কাজ করেছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু সালেহ’র সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমরা উক্ত স্কুলে গিয়েছিলাম। তবে ভুঁড়িভোজের কথা তিনি এড়িয়ে যান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ বলেন, উক্ত বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর তা দেখার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে ভুঁড়িভোজের বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো। পূর্বপশ্চিমবিডি

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com