গ্যাং চক্রের ডাটাবেজ পুলিশের হাতে

ঢাকার ৫০ থানার গ্যাং চক্রের ডাটাবেজ তৈরি করেছে পুলিশ। আর সেই ডাটা অনুযায়ী চলছে সাঁড়াশি অভিযান। গত ৪ দিনে ডিএমপির ৫০ থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫০০ কিশোর ও কিশোরীকে আটক করেছে পুলিশ। এদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যাদের বিরুদ্ধে গ্যাং কালচারে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তাদের অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের আদালতে চালান দিয়েছে পুলিশ। গত ৬ই সেপ্টেম্বর হাতিরঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১১০ জনকে আটক করে। এদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১০৩ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে পুলিশ তদন্ত করে বাকি ৭ জনের বিরুদ্ধে কিশোরে গ্যাংয়ে জড়িত থাকায় আদালতে চালান দেয়। অপরদিকে, আইন-শৃংখলা বাহিনী সড়কের পাশের টং দোকান, খাবারের দোকানের সামনে ও পার্কের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়াও এলাকা ভিত্তিক যেসব গ্যং চক্র গড়ে উঠেছে তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য নেয়ার জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কাছে সহযোগিতা নিচ্ছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই চক্রের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত অভিযান চলবে। গত ৭ই সেপ্টেম্বর ডিএমপি কশিমনার পুরান ঢাকার ইমামবাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, গ্যাং চক্রকে নিশ্চিহ্ন করা হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) কৃষ্ণপদ রায়  জানান,‘ গ্যাং কালচার নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ডিএমপির প্রত্যেক থানায় অভিযান চলছে। পাশাপাশি আমরা অভিভাবকদের সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছি। ঢাকায় বড় গ্যাং বা ছোট গ্যাং বলে কোন গ্যাং থাকবে না। ’
ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩ বছর আগে উত্তরা এলাকায় নাইন স্টার গ্রুপ ও ডিসকো গ্রুপের গ্যাং কালচার শুরু হয়। এই দুই গ্রুপে তাদের দল ভারি করার জন্য সদস্য সংগ্রহের উদ্যোগ  নেয়। এ নিয়ে দুগ্রুপে শুরু হয় হানাহানি। পুলিশ বিষয়টি আগাগোড়া খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও এটি আস্তে আস্তে পুরো ঢাকা শহরে ছড়িয়ে পড়ে। স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া কিশোর ও তরুণদের মধ্যে গ্যাং কালচার বিস্তার লাভ করে। ফেসবুক ভিত্তিক গড়ে উঠে এক একটি গ্রুপ। ছোটখাটো বিষয়ে তারা হানাহানিতে লিপ্ত হওয়ার কারণে খুনের মতো ঘটনা ঘটেছে। এতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটার কারণে পুলিশ এদের দৌরাত্ম্য রোধে অভিযানের উদ্যোগ নেয়। সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন আগে আদাবর এলাকায় বড় ভাই ও ছোট ভাই গ্রুপের দ্বন্দ্বে এক কিশোর খুন হয়। এরপর পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে, ওই ঘটনার  সঙ্গে গ্যাং চক্র জড়িত। এরপরেই পুলিশ গ্যাং চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে।

সরজমিনে গত বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন কিশোর ও কিশোরীকে থানা এলাকার টং এর দোকান, পার্কের মধ্যে ও রাস্তার পাশ থেকে আটক করে নিয়ে এসেছে। অধিকাংশের চুলে রং করা এবং পরণে রংচটা জিন্স প্যান্ট। এদের সবাইকে ওসি তার কক্ষে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সুমন নামে এক কিশোর ওসি তপন চন্দ্র সাহাকে জানান, তার বাসা আশুলিয়া। আশুলিয়া হাইস্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়ে। উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে সে কেন এসেছে প্রশ্ন করলে সুমন কোন উত্তর দিতে পারেনি। সুমনকে পুলিশ একটি টং এর দোকান থেকে নিয়ে এসেছে। পরে পুলিশ তার মোবাইল ফোন চেক করে  জানতে পারে যে, সে গ্যাং চক্রের সদস্য। পরে পুলিশ তাকে থানা হাজতে রেখে দেয়। এসময় সুমনের বাবা রফিকুল ইসলাম থানায় তাকে ছাড়াতে এলেও গ্যাং চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাকে ছাড়েনি। রফিকুল ইসলাম জানান, তার ছেলে সুমন তাকে মোবাইল ফোন করে সকালে জানিয়েছে যে সে স্কুলে আছে। কিন্তু, সে স্কুল ফাঁকি দিয়ে উত্তরা এলাকায় এসেছে। তার ছেলে যে গ্যাং কালচারের সঙ্গে জড়িত তা তিনি আগে জানতে পারেননি। প্রায় একই সময় সিদরাতুল মুনতাহা (১৬)  নামে এক কিশোর আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে আসে। মুনতাহা পুলিশের কাছে অভিযোগ করে যে, রাজু নামে এক কিশোর তার মাথা ফাঁটিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় বাদী হয়ে  থানায় একটি মামলা করে মুনতাহার মা। পরে মুনতাহার ব্যাপারে পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে যে, সে ডিসকোভারি ডিসকো নামে এক গ্যাং এর সদস্য। ৩ মাস আগে তাকে পুলিশ থানায় ধরে নিয়ে এসেছিল। সে সময় বাবা ও মার জিম্মায় মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা জানান, কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে ঢাকায় ডিএমপি কমিশনারের আদেশে অভিযান চলছে। তারই প্রেক্ষিতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৫০ জনকে আটক করা হয়। যাদের বিরুদ্ধে গ্যাং চক্রের সঙ্গে জড়িতের অভিযোগ আছে তাদের আদালতে চালান দেয়া হয়। তিনি আরও জানান, উত্তরা এলাকায় এই কালচার একদিনে গড়ে উঠেনি। যাদের ধরা হয়েছে তার মধ্যে অধিকাংশই ধনী পরিবারের সন্তান।

গত সোমবার প্রেমপাড়া নামে খ্যাত খিলগাঁও তিলপাপাড়া এলাকা থেকে ৫০ কিশোরকে গ্যাং চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাদের বাবা ও মায়ের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, যাদের ধরা হয়েছে তাদের অধিকাংশই বেপরোয়া। যাদের ধরা হয়েছিল তাদের বাবা ও মাকে ডেকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

হাতিরঝিল থানার ওসি আব্দুর রশীদ জানান, হাতিরঝিল এলাকায় গ্যাং চক্রের আনাগোনা ছিল। যারা মোটর সাইকেল নিয়ে গোটা এলাকা দাপিয়ে বেড়াতো। গত ৬ই সেপ্টেম্বর অভিযানের পর হাতিরঝিল এলাকার পরিস্থিতি পরিবর্তন ঘটেছে। গত ৬ই সেপ্টেম্বর হাতিরঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১১০ জনকে আটক করে। এদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১০৩ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে পুলিশ তদন্ত করে বাকি ৭ জনের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ পায়। এরপর তাদের আদালতে চালান দেয়া হয়। গ্যাং এর বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং চলবে।মানবজমিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» যুক্তরাজ্যে কন্টেইনার থেকে ৩৯ লাশ উদ্ধার

» গ্রামীণ জনগণ প্রকৃত উপজেলার সুফল থেকে বঞ্চিত: জি এম কাদের

» রাজধানীতে টানা দুই ঘণ্টা বৃষ্টি

» শিক্ষকরা ছত্রভঙ্গ, আহত ১০

» পদ হারিয়ে কাওসার বললেন, রাজনীতি করলে ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে

» জরিপভিত্তিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত নই: তথ্যমন্ত্রী

» শায়েস্তাগঞ্জে কালোবাজারীর দখলে ট্রেনের টিকেট

» কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন আমেরিকা!

» গাছ কেটে ভাইরাল হওয়া সেই নারী আটক

» একজন নেতার জন্য ১৪ দল ভাঙতে পারে না: ওবায়দুল কাদের

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

গ্যাং চক্রের ডাটাবেজ পুলিশের হাতে

ঢাকার ৫০ থানার গ্যাং চক্রের ডাটাবেজ তৈরি করেছে পুলিশ। আর সেই ডাটা অনুযায়ী চলছে সাঁড়াশি অভিযান। গত ৪ দিনে ডিএমপির ৫০ থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫০০ কিশোর ও কিশোরীকে আটক করেছে পুলিশ। এদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যাদের বিরুদ্ধে গ্যাং কালচারে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তাদের অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের আদালতে চালান দিয়েছে পুলিশ। গত ৬ই সেপ্টেম্বর হাতিরঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১১০ জনকে আটক করে। এদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১০৩ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে পুলিশ তদন্ত করে বাকি ৭ জনের বিরুদ্ধে কিশোরে গ্যাংয়ে জড়িত থাকায় আদালতে চালান দেয়। অপরদিকে, আইন-শৃংখলা বাহিনী সড়কের পাশের টং দোকান, খাবারের দোকানের সামনে ও পার্কের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়াও এলাকা ভিত্তিক যেসব গ্যং চক্র গড়ে উঠেছে তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য নেয়ার জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কাছে সহযোগিতা নিচ্ছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই চক্রের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত অভিযান চলবে। গত ৭ই সেপ্টেম্বর ডিএমপি কশিমনার পুরান ঢাকার ইমামবাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, গ্যাং চক্রকে নিশ্চিহ্ন করা হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) কৃষ্ণপদ রায়  জানান,‘ গ্যাং কালচার নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ডিএমপির প্রত্যেক থানায় অভিযান চলছে। পাশাপাশি আমরা অভিভাবকদের সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছি। ঢাকায় বড় গ্যাং বা ছোট গ্যাং বলে কোন গ্যাং থাকবে না। ’
ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩ বছর আগে উত্তরা এলাকায় নাইন স্টার গ্রুপ ও ডিসকো গ্রুপের গ্যাং কালচার শুরু হয়। এই দুই গ্রুপে তাদের দল ভারি করার জন্য সদস্য সংগ্রহের উদ্যোগ  নেয়। এ নিয়ে দুগ্রুপে শুরু হয় হানাহানি। পুলিশ বিষয়টি আগাগোড়া খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও এটি আস্তে আস্তে পুরো ঢাকা শহরে ছড়িয়ে পড়ে। স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া কিশোর ও তরুণদের মধ্যে গ্যাং কালচার বিস্তার লাভ করে। ফেসবুক ভিত্তিক গড়ে উঠে এক একটি গ্রুপ। ছোটখাটো বিষয়ে তারা হানাহানিতে লিপ্ত হওয়ার কারণে খুনের মতো ঘটনা ঘটেছে। এতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটার কারণে পুলিশ এদের দৌরাত্ম্য রোধে অভিযানের উদ্যোগ নেয়। সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন আগে আদাবর এলাকায় বড় ভাই ও ছোট ভাই গ্রুপের দ্বন্দ্বে এক কিশোর খুন হয়। এরপর পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে, ওই ঘটনার  সঙ্গে গ্যাং চক্র জড়িত। এরপরেই পুলিশ গ্যাং চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে।

সরজমিনে গত বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন কিশোর ও কিশোরীকে থানা এলাকার টং এর দোকান, পার্কের মধ্যে ও রাস্তার পাশ থেকে আটক করে নিয়ে এসেছে। অধিকাংশের চুলে রং করা এবং পরণে রংচটা জিন্স প্যান্ট। এদের সবাইকে ওসি তার কক্ষে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সুমন নামে এক কিশোর ওসি তপন চন্দ্র সাহাকে জানান, তার বাসা আশুলিয়া। আশুলিয়া হাইস্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়ে। উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে সে কেন এসেছে প্রশ্ন করলে সুমন কোন উত্তর দিতে পারেনি। সুমনকে পুলিশ একটি টং এর দোকান থেকে নিয়ে এসেছে। পরে পুলিশ তার মোবাইল ফোন চেক করে  জানতে পারে যে, সে গ্যাং চক্রের সদস্য। পরে পুলিশ তাকে থানা হাজতে রেখে দেয়। এসময় সুমনের বাবা রফিকুল ইসলাম থানায় তাকে ছাড়াতে এলেও গ্যাং চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাকে ছাড়েনি। রফিকুল ইসলাম জানান, তার ছেলে সুমন তাকে মোবাইল ফোন করে সকালে জানিয়েছে যে সে স্কুলে আছে। কিন্তু, সে স্কুল ফাঁকি দিয়ে উত্তরা এলাকায় এসেছে। তার ছেলে যে গ্যাং কালচারের সঙ্গে জড়িত তা তিনি আগে জানতে পারেননি। প্রায় একই সময় সিদরাতুল মুনতাহা (১৬)  নামে এক কিশোর আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে আসে। মুনতাহা পুলিশের কাছে অভিযোগ করে যে, রাজু নামে এক কিশোর তার মাথা ফাঁটিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় বাদী হয়ে  থানায় একটি মামলা করে মুনতাহার মা। পরে মুনতাহার ব্যাপারে পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে যে, সে ডিসকোভারি ডিসকো নামে এক গ্যাং এর সদস্য। ৩ মাস আগে তাকে পুলিশ থানায় ধরে নিয়ে এসেছিল। সে সময় বাবা ও মার জিম্মায় মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা জানান, কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে ঢাকায় ডিএমপি কমিশনারের আদেশে অভিযান চলছে। তারই প্রেক্ষিতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৫০ জনকে আটক করা হয়। যাদের বিরুদ্ধে গ্যাং চক্রের সঙ্গে জড়িতের অভিযোগ আছে তাদের আদালতে চালান দেয়া হয়। তিনি আরও জানান, উত্তরা এলাকায় এই কালচার একদিনে গড়ে উঠেনি। যাদের ধরা হয়েছে তার মধ্যে অধিকাংশই ধনী পরিবারের সন্তান।

গত সোমবার প্রেমপাড়া নামে খ্যাত খিলগাঁও তিলপাপাড়া এলাকা থেকে ৫০ কিশোরকে গ্যাং চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাদের বাবা ও মায়ের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, যাদের ধরা হয়েছে তাদের অধিকাংশই বেপরোয়া। যাদের ধরা হয়েছিল তাদের বাবা ও মাকে ডেকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

হাতিরঝিল থানার ওসি আব্দুর রশীদ জানান, হাতিরঝিল এলাকায় গ্যাং চক্রের আনাগোনা ছিল। যারা মোটর সাইকেল নিয়ে গোটা এলাকা দাপিয়ে বেড়াতো। গত ৬ই সেপ্টেম্বর অভিযানের পর হাতিরঝিল এলাকার পরিস্থিতি পরিবর্তন ঘটেছে। গত ৬ই সেপ্টেম্বর হাতিরঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১১০ জনকে আটক করে। এদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১০৩ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে পুলিশ তদন্ত করে বাকি ৭ জনের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ পায়। এরপর তাদের আদালতে চালান দেয়া হয়। গ্যাং এর বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং চলবে।মানবজমিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com