কে এই দালাল এনামুল হক

সিলেটের সব যাত্রী অবৈধ পথে ইতালির উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন মো. এনামুল হক নামের এক দালালের হাত ধরে। নিরাপদে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করে চুক্তি হয়েছিল ৮ লাখ টাকার। যাত্রীদের কাছ থেকে এরই মধ্যে টাকাও হাতিয়ে নেয় দালাল।

গত বৃহস্পতিবার ট্রলার ডুবির ঘটনার পর এনামুল হক নামের ওই দালাল তার প্রতিষ্ঠানে তালা দিয়ে পালিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট নগরীর রাজা ম্যানশনের ৩য় তলার ‘নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজ’র মালিক মো. এনামুল হকের বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার মেহেরপুর এলাকার পনাইরচক গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত মো. আবদুল খালিকের ছেলে এনাম। ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর মাসিক ৭ হাজার টাকা ভাড়া চুক্তিতে রাজা ম্যানশনের ৩য় তলার ১১৭ নম্বর দোকান ভাড়া নেন এনামুল হক। সেখানে সাইন বোর্ড টানান ‘নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজ’-এর। ট্রাভেলস ব্যবসায়ের আড়ালে মূলত মানবপাচারই ছিল তার ব্যবসা। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লোভনীয় উপার্জনের স্বপ্ন দেখিয়ে সিলেটের বেকার যুবকদের উদ্ধুদ্ধ করত সে। এরপর দালালচক্রের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর চেষ্টা করত। ভূমধ্যসাগরে ট্রলার ডুবিতে এনামের পাঠানো যাত্রীদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজা ম্যানশন মার্কেটে তার পরিচিতি ছিল একজন ভালো ট্রাভেলস ব্যবসায়ী হিসেবে। গত বৃহস্পতিবার নৌকা ডুবিতে প্রাণহানির ঘটনার পর ধীরে ধীরে বের হতে থাকে এনামের মানবপাচারের ঘটনা। এনাম যে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত তা গেল আড়াই বছরে ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি-  দাবি ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাসুদ আহমদের। তবে ট্রাভেলসের আড়ালে গোপন ব্যবসার আলামত আগেই পেয়েছিল অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ (আটাব)। তাই তার ট্রাভেলসকে দেওয়া হয়নি আটাবের সদস্যপদ।

আটকে রাখা হয়েছিল তার আবেদন।

এ ব্যাপারে আটাব সিলেটের সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল জানান, ‘নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজ’র ব্যবসা নিয়ে আমাদের সন্দেহ ছিল। তাই আবেদনের পরও তাকে আটাবের সদস্যপদ দেওয়া হয়নি। তার কার্যক্রম আমরা পর্যবেক্ষণ করছিলাম। এর মধ্যেই তার মানবপাচারের বিষয়টি ধরা পড়ল। এরকম আরও যেসব অবৈধ ট্রাভেলস ব্যবসায়ী মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

এদিকে ট্রলার ডুবিতে মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজে তালা ঝুলিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে এনামুল হক। গতকাল রাজা ম্যানশনের তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা গেছে দোকানে তালা ঝুলছে। ট্রাভেলসের সাইন বোর্ডে লেখা দুটো ফোন নম্বরই বন্ধ ছিল। এনামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও ছিল বন্ধ।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» আল্লাহর ৯৯ নাম সংবলিত স্তম্ভ মোহাম্মদপুরে

» ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভোট প্রস্তুতি

» ৩৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিল ও কোষাধ্যক্ষ অপসারণে ভিপির আবেদন

» ফুসফুসের অবস্থা কেমন? জানিয়ে দেবে অ্যাপ!

» মেয়েরা যে ৭ জিনিস সবসময় ব্যাগে রাখবেন

» কিছু হলেই অ্যান্টিবায়োটিক, ডেকে আনছেন বিপদ

» আবারও ভিডিওতে খোলামেলা পুনম পাণ্ডে

» কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৪

» বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতাকর্মীদের ওপর ক্ষুব্ধ শেখ হাসিনা

» চট্টগ্রামে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

কে এই দালাল এনামুল হক

সিলেটের সব যাত্রী অবৈধ পথে ইতালির উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন মো. এনামুল হক নামের এক দালালের হাত ধরে। নিরাপদে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করে চুক্তি হয়েছিল ৮ লাখ টাকার। যাত্রীদের কাছ থেকে এরই মধ্যে টাকাও হাতিয়ে নেয় দালাল।

গত বৃহস্পতিবার ট্রলার ডুবির ঘটনার পর এনামুল হক নামের ওই দালাল তার প্রতিষ্ঠানে তালা দিয়ে পালিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট নগরীর রাজা ম্যানশনের ৩য় তলার ‘নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজ’র মালিক মো. এনামুল হকের বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার মেহেরপুর এলাকার পনাইরচক গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত মো. আবদুল খালিকের ছেলে এনাম। ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর মাসিক ৭ হাজার টাকা ভাড়া চুক্তিতে রাজা ম্যানশনের ৩য় তলার ১১৭ নম্বর দোকান ভাড়া নেন এনামুল হক। সেখানে সাইন বোর্ড টানান ‘নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজ’-এর। ট্রাভেলস ব্যবসায়ের আড়ালে মূলত মানবপাচারই ছিল তার ব্যবসা। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লোভনীয় উপার্জনের স্বপ্ন দেখিয়ে সিলেটের বেকার যুবকদের উদ্ধুদ্ধ করত সে। এরপর দালালচক্রের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর চেষ্টা করত। ভূমধ্যসাগরে ট্রলার ডুবিতে এনামের পাঠানো যাত্রীদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজা ম্যানশন মার্কেটে তার পরিচিতি ছিল একজন ভালো ট্রাভেলস ব্যবসায়ী হিসেবে। গত বৃহস্পতিবার নৌকা ডুবিতে প্রাণহানির ঘটনার পর ধীরে ধীরে বের হতে থাকে এনামের মানবপাচারের ঘটনা। এনাম যে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত তা গেল আড়াই বছরে ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি-  দাবি ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাসুদ আহমদের। তবে ট্রাভেলসের আড়ালে গোপন ব্যবসার আলামত আগেই পেয়েছিল অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ (আটাব)। তাই তার ট্রাভেলসকে দেওয়া হয়নি আটাবের সদস্যপদ।

আটকে রাখা হয়েছিল তার আবেদন।

এ ব্যাপারে আটাব সিলেটের সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল জানান, ‘নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজ’র ব্যবসা নিয়ে আমাদের সন্দেহ ছিল। তাই আবেদনের পরও তাকে আটাবের সদস্যপদ দেওয়া হয়নি। তার কার্যক্রম আমরা পর্যবেক্ষণ করছিলাম। এর মধ্যেই তার মানবপাচারের বিষয়টি ধরা পড়ল। এরকম আরও যেসব অবৈধ ট্রাভেলস ব্যবসায়ী মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

এদিকে ট্রলার ডুবিতে মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজে তালা ঝুলিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে এনামুল হক। গতকাল রাজা ম্যানশনের তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা গেছে দোকানে তালা ঝুলছে। ট্রাভেলসের সাইন বোর্ডে লেখা দুটো ফোন নম্বরই বন্ধ ছিল। এনামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও ছিল বন্ধ।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com