কথায় কথায় ধরপাকড় অভিযান মালয়েশিয়ায় ভালো নেই শ্রমিকরা অবৈধভাবে গিয়ে অনেকে বিপাকে

মালয়েশিয়ায় মোটা দাগে প্রায় সাত লাখ শ্রমিক বৈধভাবে কাজ করছেন। কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ, এক কোম্পানির ভিসা নিয়ে আরেক কোম্পানিতে কাজসহ নানাভাবে আরও অন্তত ৩ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন মালয়েশিয়ার বিভিন্ন এলাকায়। এদের মালয়েশিয়া সরকার ‘অবৈধ’ বাংলাদেশি বলে আখ্যা দিয়েছে। শুধু বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেই নয়, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, নেপাল, ফিলিপাইন ও চীন থেকে আসা নাগরিকদের ‘অবৈধ’ ঘোষণা করা হয়েছে। ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছেন প্রায় সবাই। তবে গ্রেফতার বা হয়রানিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যাই বেশি। সম্প্রতি জহুর বারু, মোয়া, মারসিং, অ্যাংগানো, ছোংনাইবিচি, ক্লাং বাসস্ট্যান্ড, জালান মেরু, ক্লাং বাতুলিমা, সেন্তুসাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ‘চিরুনি অভিযান’ চালায় যৌথভাবে মালয়েশিয়া পুলিশ ও ইমিগ্রেশন পুলিশ বিভাগ। জানা যায়, মালয়েশিয়ায় প্রায় প্রতিদিনই অবৈধ অবস্থানের অভিযোগ এনে শ্রমিক ধরপাকড় চলছে। এই শ্রমিকদের বড় অংশই বাংলাদেশি। কুয়ালালামপুরের বাইরেও যেসব এলাকায় বাংলাদেশিদের অবস্থান বেশি ওইসব এলাকায় প্রতিদিনই ‘রেড’ দেয় পুলিশ। গত দুই মাসে বাংলাদেশিসহ সাড়ে ৮ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে কয়েকশ অভিবাসীকে আটক করে দেশটির পুলিশ। বহুদিন মালয়েশিয়ায় থাকার পরও যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, এই ধরপাকড় অভিযান নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বৈধ হতে সংশ্লিষ্ট দফতরেও যেতে পারছেন না। আবার বৈধ হতে বিপুল পরিমাণ টাকা উৎকোচ দাবি করে বসছে সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশি শ্রমিকরা। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো শ্রমিককে তারা দেশটিতে কর্মরত চায় না। আর তাই তারা এই অভিযান অব্যাহত রেখেছে। শ্রমিকদের ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ৬ (১) সি ১৯৫৯, ১৫ (১) ৩৯ (বি) ধারায় জিজ্ঞাসাবাদ করে কাগজপত্র থাকলে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় জেল-জরিমানা করা হচ্ছে বলে জানান সারডাং পুলিশের সহকারী কমিশনার ইসমাইল বোরহান। দেশটির অভিবাসন বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী-মালয়েশিয়ায় অবৈধ বিদেশিকে কোনোভাবেই অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘দেশটির সার্বভৌমত্ব অক্ষুণœ রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা চলমান অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।’ জানা যায়, রাজধানী কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাইস টুইন টাওয়ার থেকে শুরু করে দেশটির সর্বত্রই প্রায় প্রতিদিন অভিযান চলে। রাজধানীর টুইন টাওয়ারের পাশাপাশি চাওকোর্ট, মসজিদ ইন্ডিয়া, কোতোরায়া, হান্টুয়া, বুকিত বিন্তাং, জহুর বারু, মারসিং, মোয়া, ছুংনাইবিচি, ক্লাং বাসস্ট্যান্ড, জালান মেরু, ক্লাং বাতুলিমা, সেন্তুসা, পাহাং, কুয়ান্তা, পানাং, মালাক্কাসহ সর্বত্রই এ অভিযান চলে। রাজধানীর হান্টুয়া এলাকার হোসেন নামে এক পোশাক ব্যবসায়ী  জানান, ‘বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও প্রতিদিনই তার কর্মীদের আতঙ্কে থাকতে হয়। আর যাদের কাগজপত্রে ত্রুটি রয়েছে, তাদের তো অনেকটা আত্মগোপনেই থাকতে হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ বা ‘অবৈধ’ শ্রমিকরা নতুন করে ভিসা করতে গিয়েও নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। এ ব্যাপারে হাইকমিশনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।’ জানা যায়, পুলিশ কোথায় ধরপাকড়ে নামবে কিংবা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবর জানামাত্রই কমিউনিটির লোকজন ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপে সবাইকে সতর্ক করে বার্তা পাঠায়। কিন্তু তাতেও ধরপাকড় এড়ানো যায় না। ‘অবৈধ’ অভিবাসীরা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন  ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলের লোকালয়ে কাজ করে-এমন সংবাদ আগেই চলে যায় সংশ্লিষ্টদের কাছে। আর এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গল পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করছে অভিবাসন বিভাগ। অভিবাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় ২ হাজার ১০০টি অভিযানে আটক করা হয় ৩২ হাজার ৮৯৫ জনকে। মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে  আটকদের মধ্য থেকে গ্রেফতার করা হয় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ৮ হাজার ৫৫২ জন অবৈধ অভিবাসীকে। এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসী রাখার অপরাধে গ্রেফতার করা হয় ১৪৫ জন স্থানীয়  মালিককে। তবে অভিযানে বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের কতজন করে গ্রেফতার করা হয় তা অভিবাসন বিভাগ প্রকাশ করেনি। আটকদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, নেপাল, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের নাগরিকরাও রয়েছেন। মালয়েশিয়া প্রবাসী মানবাধিকার কর্মী হারুন আল-রশিদ বলেন, ভয়ে ভয়ে দিন-কাটানো এই অবৈধ বাংলাদেশিরা অনেকেই অভিযোগ করছেন, কথিত এজেন্টদের হাতে প্রতারিত হওয়াতেই তারা আজ অবধি সে দেশে বৈধ শ্রমিকের স্বীকৃতি পাননি। পাহাং জেলার কুয়ান্তান এলাকাতেও বাংলাদেশি এজেন্টদের হাতে প্রতারিত হয়ে প্রায় ৩০০ বাংলাদেশি এরই মধ্যে দেশে ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছেন। এখন মালয়েশিয়ার ১৩টি প্রদেশজুড়ে অভিযান শুরু হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন এই অবৈধ শ্রমিকরাই। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী শাহীন মিয়া বলেন, ‘যখনই একটা এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে, প্রথমেই বৈধ ও অবৈধ-সব বিদেশি শ্রমিককে ধরে এনে খোলা জায়গায় সারিবদ্ধভাবে বেঁধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টিতে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তারপর কাগজপত্র পরীক্ষা করে যারা বৈধ তাদের  ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকিদের লরিতে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ক্যাম্পে। কিন্তু কাগজপত্র ঠিক থাকুক বা না-থাকুক, হেনস্তা হতে হচ্ছে সবাইকে।’বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে প্রতিদিন খান পেয়ারা

» ৩০ কোটি ডলার ব্যয়ে মার্কিন রণতরী আনছে সৌদি আরব-আমিরাত

» কোন মুসলিম দেশে কবে ঈদ

» আইফেল টাওয়ারে কেনো উঠলেন তিনি?

» উদ্বোধনের আগেই জৈন্তাপুরের চিকারখাল সেতুতে ফাটল

» তলা ফেটে লঞ্চে পানি, রক্ষা পেলেন তিন শতাধিক যাত্রী

» এ ভুলের দায় কার?

» অন্য এক তিশা

» সরকারি আড়াই হাজার গাছের আম বিক্রি হলো ৫৫ হাজার টাকায়

» শায়েস্তাগঞ্জের ঈদবাজার পণ্যের গায়ে মনগড়া মূল্য

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

কথায় কথায় ধরপাকড় অভিযান মালয়েশিয়ায় ভালো নেই শ্রমিকরা অবৈধভাবে গিয়ে অনেকে বিপাকে

মালয়েশিয়ায় মোটা দাগে প্রায় সাত লাখ শ্রমিক বৈধভাবে কাজ করছেন। কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ, এক কোম্পানির ভিসা নিয়ে আরেক কোম্পানিতে কাজসহ নানাভাবে আরও অন্তত ৩ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন মালয়েশিয়ার বিভিন্ন এলাকায়। এদের মালয়েশিয়া সরকার ‘অবৈধ’ বাংলাদেশি বলে আখ্যা দিয়েছে। শুধু বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেই নয়, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, নেপাল, ফিলিপাইন ও চীন থেকে আসা নাগরিকদের ‘অবৈধ’ ঘোষণা করা হয়েছে। ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছেন প্রায় সবাই। তবে গ্রেফতার বা হয়রানিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যাই বেশি। সম্প্রতি জহুর বারু, মোয়া, মারসিং, অ্যাংগানো, ছোংনাইবিচি, ক্লাং বাসস্ট্যান্ড, জালান মেরু, ক্লাং বাতুলিমা, সেন্তুসাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ‘চিরুনি অভিযান’ চালায় যৌথভাবে মালয়েশিয়া পুলিশ ও ইমিগ্রেশন পুলিশ বিভাগ। জানা যায়, মালয়েশিয়ায় প্রায় প্রতিদিনই অবৈধ অবস্থানের অভিযোগ এনে শ্রমিক ধরপাকড় চলছে। এই শ্রমিকদের বড় অংশই বাংলাদেশি। কুয়ালালামপুরের বাইরেও যেসব এলাকায় বাংলাদেশিদের অবস্থান বেশি ওইসব এলাকায় প্রতিদিনই ‘রেড’ দেয় পুলিশ। গত দুই মাসে বাংলাদেশিসহ সাড়ে ৮ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে কয়েকশ অভিবাসীকে আটক করে দেশটির পুলিশ। বহুদিন মালয়েশিয়ায় থাকার পরও যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, এই ধরপাকড় অভিযান নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বৈধ হতে সংশ্লিষ্ট দফতরেও যেতে পারছেন না। আবার বৈধ হতে বিপুল পরিমাণ টাকা উৎকোচ দাবি করে বসছে সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশি শ্রমিকরা। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো শ্রমিককে তারা দেশটিতে কর্মরত চায় না। আর তাই তারা এই অভিযান অব্যাহত রেখেছে। শ্রমিকদের ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ৬ (১) সি ১৯৫৯, ১৫ (১) ৩৯ (বি) ধারায় জিজ্ঞাসাবাদ করে কাগজপত্র থাকলে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় জেল-জরিমানা করা হচ্ছে বলে জানান সারডাং পুলিশের সহকারী কমিশনার ইসমাইল বোরহান। দেশটির অভিবাসন বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী-মালয়েশিয়ায় অবৈধ বিদেশিকে কোনোভাবেই অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘দেশটির সার্বভৌমত্ব অক্ষুণœ রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা চলমান অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।’ জানা যায়, রাজধানী কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাইস টুইন টাওয়ার থেকে শুরু করে দেশটির সর্বত্রই প্রায় প্রতিদিন অভিযান চলে। রাজধানীর টুইন টাওয়ারের পাশাপাশি চাওকোর্ট, মসজিদ ইন্ডিয়া, কোতোরায়া, হান্টুয়া, বুকিত বিন্তাং, জহুর বারু, মারসিং, মোয়া, ছুংনাইবিচি, ক্লাং বাসস্ট্যান্ড, জালান মেরু, ক্লাং বাতুলিমা, সেন্তুসা, পাহাং, কুয়ান্তা, পানাং, মালাক্কাসহ সর্বত্রই এ অভিযান চলে। রাজধানীর হান্টুয়া এলাকার হোসেন নামে এক পোশাক ব্যবসায়ী  জানান, ‘বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও প্রতিদিনই তার কর্মীদের আতঙ্কে থাকতে হয়। আর যাদের কাগজপত্রে ত্রুটি রয়েছে, তাদের তো অনেকটা আত্মগোপনেই থাকতে হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ বা ‘অবৈধ’ শ্রমিকরা নতুন করে ভিসা করতে গিয়েও নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। এ ব্যাপারে হাইকমিশনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।’ জানা যায়, পুলিশ কোথায় ধরপাকড়ে নামবে কিংবা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবর জানামাত্রই কমিউনিটির লোকজন ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপে সবাইকে সতর্ক করে বার্তা পাঠায়। কিন্তু তাতেও ধরপাকড় এড়ানো যায় না। ‘অবৈধ’ অভিবাসীরা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন  ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলের লোকালয়ে কাজ করে-এমন সংবাদ আগেই চলে যায় সংশ্লিষ্টদের কাছে। আর এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গল পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করছে অভিবাসন বিভাগ। অভিবাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় ২ হাজার ১০০টি অভিযানে আটক করা হয় ৩২ হাজার ৮৯৫ জনকে। মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে  আটকদের মধ্য থেকে গ্রেফতার করা হয় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ৮ হাজার ৫৫২ জন অবৈধ অভিবাসীকে। এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসী রাখার অপরাধে গ্রেফতার করা হয় ১৪৫ জন স্থানীয়  মালিককে। তবে অভিযানে বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের কতজন করে গ্রেফতার করা হয় তা অভিবাসন বিভাগ প্রকাশ করেনি। আটকদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, নেপাল, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের নাগরিকরাও রয়েছেন। মালয়েশিয়া প্রবাসী মানবাধিকার কর্মী হারুন আল-রশিদ বলেন, ভয়ে ভয়ে দিন-কাটানো এই অবৈধ বাংলাদেশিরা অনেকেই অভিযোগ করছেন, কথিত এজেন্টদের হাতে প্রতারিত হওয়াতেই তারা আজ অবধি সে দেশে বৈধ শ্রমিকের স্বীকৃতি পাননি। পাহাং জেলার কুয়ান্তান এলাকাতেও বাংলাদেশি এজেন্টদের হাতে প্রতারিত হয়ে প্রায় ৩০০ বাংলাদেশি এরই মধ্যে দেশে ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছেন। এখন মালয়েশিয়ার ১৩টি প্রদেশজুড়ে অভিযান শুরু হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন এই অবৈধ শ্রমিকরাই। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী শাহীন মিয়া বলেন, ‘যখনই একটা এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে, প্রথমেই বৈধ ও অবৈধ-সব বিদেশি শ্রমিককে ধরে এনে খোলা জায়গায় সারিবদ্ধভাবে বেঁধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টিতে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তারপর কাগজপত্র পরীক্ষা করে যারা বৈধ তাদের  ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকিদের লরিতে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ক্যাম্পে। কিন্তু কাগজপত্র ঠিক থাকুক বা না-থাকুক, হেনস্তা হতে হচ্ছে সবাইকে।’বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com