কক্সবাজার কারাগারে পদে পদে বাণিজ্য, অব্যবস্থাপনা

কক্সবাজার কারাগার এলাকায় ‘সাক্ষাৎ বাণিজ্য’, অব্যবস্থাপনা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারাগারের মূল ফটক থেকে শুরু করে ভেতরে, মাঠে, লোকজনের সঙ্গে কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এসেছে। ভেতরে একস্থানে সাক্ষাৎ প্রার্থীদের নাম-ঠিকানা লিখতে হয়। মূলত সেখান থেকেই বাণিজ্য শুরু হয়।

কারাগারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, কারাগারের মূল ফটক থেকে ভেতরে সব মিলিয়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার বাণিজ্য হয়। বন্দীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, হাসপাতালে থাকা, আসামির জামিন, বন্দী রোগী বাইরের হাসপাতালে পাঠানো, পুনরায় গ্রেপ্তার, খাবার বা টাকা পাঠানো, মালামাল তল্লাশি করাসহ সবক্ষেত্রেই বাণিজ্য হয় কারাগারে।

বৃহস্পতিবার সারাদিন কারা ফটকের বাইরে ও ভেতরে স্বাক্ষাৎ প্রার্থীদের ভীড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। বিকেল পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি লোকজন কারাগারে আসেন স্বজনদের দেখতে। কারাবন্দীদের প্রায় ৭০ শতাংশই ইয়াবা সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত। তাদের বিশেষ কদর রয়েছে কারাগারে।

কারা ফটকের সামনে কথা হয় মোহাম্মদ হোছন নামে একজনের সাথে। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, অফিস কল দিয়ে আমার ভাইকে দেখেছি। এই জন্য ১২০০ টাকা দিতে হয়েছে। অফিসে আলাদাভাবে একজন বন্দীর সাথে দেখা করার জন্য পরিবারের ৪ জনকে নিয়ে যাওয়া যায়। টাকা দিলে সবই সম্ভব এখানে।

টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপের মিস্ত্রি পাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম। কারাবন্দী বন্ধু শাহাব উদ্দিনকে দেখতে কক্সবাজার কারাগারে এসেছেন তিনি।

তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বন্ধুর জন্য ভাত এনেছিলাম। ওই ভাত পৌঁছে দেওয়ার জন্য কারারক্ষীকে দিতে হয়েছে ২০০ টাকা। সাথে কিছু পান-সিগারেটও কিনে দিয়েছি। কারাগারের অভ্যন্তরের ক্যান্টিন থেকে ছোট ৪ প্যাকেট মেরিজ সিগারেট এবং ১০ খিলি পান কিনতে খরচ হয়েছে আড়াই’শ টাকা। ক্যান্টিনে যেকোন জিনিস দুই থেকে তিনগুণ বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়।

কারা ক্যান্টিন থেকে কোন পণ্য কিনলে রশিদ দেওয়া হয় কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল কালাম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমাদের কোন রশিদ দেওয়া হয়নি। কাউকেও রশিদ দিতে দেখিনি। সবাই রশিদ ছাড়াই জিনিস কিনেন। এখানে পদে পদে টাকা দিতে হয়।

টেকনাফ থেকে কারাবন্দী স্ত্রী ও ভাই-বোনের দেখা করতে এসেছিলেন মো: সেলিম নামে একজন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, কারাগারের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশের আগে স্বাক্ষাৎ প্রার্থীদের মোবাইল জমা রাখা হয় ডানপাশের একটি বুথে। সেখানে একেকটি মোবাইল জমা রাখার জন্য দিতে হয় ১০ থেকে ২০ টাকা। দুইটি মোবাইল জমা রাখার জন্য বুথে দিতে হয়েছে ৩০ টাকা।

স্ত্রী ও ভাই-বোনদের জন্য কিছু কাপড়-চোপড় এনেছিলাম। সেগুলো ভেতরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাররক্ষীকে দিতে হয়েছে ৩০০ টাকা। এখনও (বিকেল সাড়ে ৪ টা) দেখা করতে পারিনি। দেখা করার জন্য আরও কিছু টাকা দিতে হবে। দুই দিন আগে টেকনাফ থানা থেকে তাদের কারাগারে আনা হয়েছিল। তখন তাদের কাপড়-চোপড় কিছুই দিতে পারিনি।

কারা অভ্যন্তরের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে এ কারাগারটির প্রধান সমস্যা হলো সাক্ষাৎ বাণিজ্য, অবৈধভাবে কারাগারে কয়েদিদের কাছে টাকা পাঠানো এবং কয়েদিদের মুঠোফোন ব্যবহার। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় রসিদের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ কদর রয়েছে কারার অভ্যন্তরীণ ইয়াবা কারবারীদের। কয়েদিদের মুঠোফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভেতরে দায়িত্বরত কারারক্ষীদের সহায়তায় মুঠোফোনে কথা বলেন বন্দীরা।

এর প্রমাণ পাওয়া গেলো স্ত্রী ও ভাই-বোনের সাথে দেখা করতে আসা সেলিমের কথায়। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ভেতরে লিপি নামে একজন নারী কারারক্ষী আমাকে একটি কাগজে তার মোবাইল নাম্বার লিখে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যখনই প্রয়োজন হয় তাকে ফোন দিতে।

তিনি যখন ডিউটিতে থাকবেন তখন আমার স্ত্রী ও ভাইবোনদের সাথে কথা বলার সুযোগ করে দেবেন। অথবা তাদের সাথে কথা বলে কখন কি দরকার হয় তা জানিয়ে দেবেন। আমরা তো প্রতিদিন এখানে আসতে পারি না। তাই তার মোবাইল নাম্বার নিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে কারারক্ষী লিপির দেওয়া মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়। আমি কখনোই এ ধরনের কাজ কারবার করি না।

কারা ফটকের সামনে দেখা হয় কক্সবাজার শহরের বাহারছড়ার বাসিন্দা এক যুবকের সাথে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, টেকনাফের সাবরাং থেকে শাহজাহান নামে আমার একজন বন্ধু এসেছিলেন তার বড় ভাইকে দেখতে। তার সাথে আরও ৪ জন ছিল। তারা এখানে কিছু চিনে না বলে ফোন করে আমাকেও নিয়ে এসেছে।

শাহজানের ভাই বর্তমানে সাবরাংয়ের মেম্বার। অফিস কল করে তার সাথে দেখা করার জন্য আড়াই হাজার টাকা দিতে হয়েছে। ওয়ারল্যাস নিয়ে জেলারের সাথে থাকেন এমন একজন ওই টাকা নিয়েছেন। এখানে অফিস কল করে দেখা করলে ১২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। তারা কোন রশিদও দেয় না।

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী এলাকা থেকে কারান্তরীন ছেলেকে এসেছেন মধ্যবয়স্ক নারী গোলবাহার। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ইয়াবা সেবন সংক্রান্ত একটি মামলায় আমার ছেলে কারাভোগ করছে। তাকে দেখতে মাঝে-মধ্যে কারাগারে আসি। এখানে পদে পদে টাকা দিতে হয়। আজ ছেলের জন্য রান্না করা খাবার এনেছিলাম। ওই খাবার পাঠাতে ৩০০ টাকা দিতে হয়েছে টিকিট কাউন্টারের কারারক্ষীকে। টাকা দেওয়ার পর তারা খাবার পৌঁছে দিয়েছে।

কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনা এলাকার বাসিন্দা খালেদা বেগম। তিনি এসেছিলেন কারাবন্দী ভাই মহিউদ্দিন দেখতে। ঈদ উপলক্ষ্যে তার জন্য কিছু রান্না করা খাবারও নিয়ে এসেছিলেন বাড়ি থেকে। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য কারারক্ষীকে দিতে হয়েছে ২০০ টাকা। টাকা ছাড়া এখানে কিছু হয় না।

স্বজনদের সাথে দেখা করতে খুব সকাল থেকে কারাগারে এসে দিনভর অপেক্ষার পরও দেখা করতে না পেরে ফিরে গেছেন অনেকে। তেমনই একজন রামুর খুনিয়ার পালংয়ের বাসিন্দা মিজানুর রহমান। বন্ধু বেলাল উদ্দিনকে দেখতে এসেছিলেন তারা ৩ জন। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আজ দিনভর অপেক্ষা করেও দেখা করতে পারিনি। ওরা বলছে, আজ আর দেখা করা যাবে না।

সম্প্রতি কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পাওয়া মহেশখালীর একজন বাসিন্দা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, টাকা থাকলেই কারাগারে অনেকটা রাজার হালে থাকা যায়। এক মাসের জন্য ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিলে কারাগারে মেডিকেল ওয়ার্ডে থাকতে পারেন যে সুস্থ যেকোন বন্দীও। ওই টাকা দিতে হয় অগ্রীম। টাকা দিলে সেখানে সব সুযোগ সুবিধা মিলে। ভালো খাবারও পাওয়া যায়। কারারক্ষীরাও তাদের তোয়াজ করেন। টেকনাফের বড় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা প্রায়শই মেডিকেল ওয়ার্ডে থাকেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক বজলুর রশিদ আখন্দ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, কারাগার থেকে যারা অনৈতিক সুবিধা নিতে পারে না তারাই মূলত নানা ধরনের মিথ্যাচার করেন। এসব অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই।

বাংলাদেশ জার্নাল

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» আল্লাহর ৯৯ নাম সংবলিত স্তম্ভ মোহাম্মদপুরে

» ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভোট প্রস্তুতি

» ৩৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিল ও কোষাধ্যক্ষ অপসারণে ভিপির আবেদন

» ফুসফুসের অবস্থা কেমন? জানিয়ে দেবে অ্যাপ!

» মেয়েরা যে ৭ জিনিস সবসময় ব্যাগে রাখবেন

» কিছু হলেই অ্যান্টিবায়োটিক, ডেকে আনছেন বিপদ

» আবারও ভিডিওতে খোলামেলা পুনম পাণ্ডে

» কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৪

» বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতাকর্মীদের ওপর ক্ষুব্ধ শেখ হাসিনা

» চট্টগ্রামে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

কক্সবাজার কারাগারে পদে পদে বাণিজ্য, অব্যবস্থাপনা

কক্সবাজার কারাগার এলাকায় ‘সাক্ষাৎ বাণিজ্য’, অব্যবস্থাপনা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারাগারের মূল ফটক থেকে শুরু করে ভেতরে, মাঠে, লোকজনের সঙ্গে কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এসেছে। ভেতরে একস্থানে সাক্ষাৎ প্রার্থীদের নাম-ঠিকানা লিখতে হয়। মূলত সেখান থেকেই বাণিজ্য শুরু হয়।

কারাগারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, কারাগারের মূল ফটক থেকে ভেতরে সব মিলিয়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার বাণিজ্য হয়। বন্দীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, হাসপাতালে থাকা, আসামির জামিন, বন্দী রোগী বাইরের হাসপাতালে পাঠানো, পুনরায় গ্রেপ্তার, খাবার বা টাকা পাঠানো, মালামাল তল্লাশি করাসহ সবক্ষেত্রেই বাণিজ্য হয় কারাগারে।

বৃহস্পতিবার সারাদিন কারা ফটকের বাইরে ও ভেতরে স্বাক্ষাৎ প্রার্থীদের ভীড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। বিকেল পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি লোকজন কারাগারে আসেন স্বজনদের দেখতে। কারাবন্দীদের প্রায় ৭০ শতাংশই ইয়াবা সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত। তাদের বিশেষ কদর রয়েছে কারাগারে।

কারা ফটকের সামনে কথা হয় মোহাম্মদ হোছন নামে একজনের সাথে। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, অফিস কল দিয়ে আমার ভাইকে দেখেছি। এই জন্য ১২০০ টাকা দিতে হয়েছে। অফিসে আলাদাভাবে একজন বন্দীর সাথে দেখা করার জন্য পরিবারের ৪ জনকে নিয়ে যাওয়া যায়। টাকা দিলে সবই সম্ভব এখানে।

টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপের মিস্ত্রি পাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম। কারাবন্দী বন্ধু শাহাব উদ্দিনকে দেখতে কক্সবাজার কারাগারে এসেছেন তিনি।

তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বন্ধুর জন্য ভাত এনেছিলাম। ওই ভাত পৌঁছে দেওয়ার জন্য কারারক্ষীকে দিতে হয়েছে ২০০ টাকা। সাথে কিছু পান-সিগারেটও কিনে দিয়েছি। কারাগারের অভ্যন্তরের ক্যান্টিন থেকে ছোট ৪ প্যাকেট মেরিজ সিগারেট এবং ১০ খিলি পান কিনতে খরচ হয়েছে আড়াই’শ টাকা। ক্যান্টিনে যেকোন জিনিস দুই থেকে তিনগুণ বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়।

কারা ক্যান্টিন থেকে কোন পণ্য কিনলে রশিদ দেওয়া হয় কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল কালাম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমাদের কোন রশিদ দেওয়া হয়নি। কাউকেও রশিদ দিতে দেখিনি। সবাই রশিদ ছাড়াই জিনিস কিনেন। এখানে পদে পদে টাকা দিতে হয়।

টেকনাফ থেকে কারাবন্দী স্ত্রী ও ভাই-বোনের দেখা করতে এসেছিলেন মো: সেলিম নামে একজন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, কারাগারের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশের আগে স্বাক্ষাৎ প্রার্থীদের মোবাইল জমা রাখা হয় ডানপাশের একটি বুথে। সেখানে একেকটি মোবাইল জমা রাখার জন্য দিতে হয় ১০ থেকে ২০ টাকা। দুইটি মোবাইল জমা রাখার জন্য বুথে দিতে হয়েছে ৩০ টাকা।

স্ত্রী ও ভাই-বোনদের জন্য কিছু কাপড়-চোপড় এনেছিলাম। সেগুলো ভেতরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাররক্ষীকে দিতে হয়েছে ৩০০ টাকা। এখনও (বিকেল সাড়ে ৪ টা) দেখা করতে পারিনি। দেখা করার জন্য আরও কিছু টাকা দিতে হবে। দুই দিন আগে টেকনাফ থানা থেকে তাদের কারাগারে আনা হয়েছিল। তখন তাদের কাপড়-চোপড় কিছুই দিতে পারিনি।

কারা অভ্যন্তরের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে এ কারাগারটির প্রধান সমস্যা হলো সাক্ষাৎ বাণিজ্য, অবৈধভাবে কারাগারে কয়েদিদের কাছে টাকা পাঠানো এবং কয়েদিদের মুঠোফোন ব্যবহার। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় রসিদের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ কদর রয়েছে কারার অভ্যন্তরীণ ইয়াবা কারবারীদের। কয়েদিদের মুঠোফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভেতরে দায়িত্বরত কারারক্ষীদের সহায়তায় মুঠোফোনে কথা বলেন বন্দীরা।

এর প্রমাণ পাওয়া গেলো স্ত্রী ও ভাই-বোনের সাথে দেখা করতে আসা সেলিমের কথায়। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ভেতরে লিপি নামে একজন নারী কারারক্ষী আমাকে একটি কাগজে তার মোবাইল নাম্বার লিখে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যখনই প্রয়োজন হয় তাকে ফোন দিতে।

তিনি যখন ডিউটিতে থাকবেন তখন আমার স্ত্রী ও ভাইবোনদের সাথে কথা বলার সুযোগ করে দেবেন। অথবা তাদের সাথে কথা বলে কখন কি দরকার হয় তা জানিয়ে দেবেন। আমরা তো প্রতিদিন এখানে আসতে পারি না। তাই তার মোবাইল নাম্বার নিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে কারারক্ষী লিপির দেওয়া মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়। আমি কখনোই এ ধরনের কাজ কারবার করি না।

কারা ফটকের সামনে দেখা হয় কক্সবাজার শহরের বাহারছড়ার বাসিন্দা এক যুবকের সাথে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, টেকনাফের সাবরাং থেকে শাহজাহান নামে আমার একজন বন্ধু এসেছিলেন তার বড় ভাইকে দেখতে। তার সাথে আরও ৪ জন ছিল। তারা এখানে কিছু চিনে না বলে ফোন করে আমাকেও নিয়ে এসেছে।

শাহজানের ভাই বর্তমানে সাবরাংয়ের মেম্বার। অফিস কল করে তার সাথে দেখা করার জন্য আড়াই হাজার টাকা দিতে হয়েছে। ওয়ারল্যাস নিয়ে জেলারের সাথে থাকেন এমন একজন ওই টাকা নিয়েছেন। এখানে অফিস কল করে দেখা করলে ১২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। তারা কোন রশিদও দেয় না।

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী এলাকা থেকে কারান্তরীন ছেলেকে এসেছেন মধ্যবয়স্ক নারী গোলবাহার। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ইয়াবা সেবন সংক্রান্ত একটি মামলায় আমার ছেলে কারাভোগ করছে। তাকে দেখতে মাঝে-মধ্যে কারাগারে আসি। এখানে পদে পদে টাকা দিতে হয়। আজ ছেলের জন্য রান্না করা খাবার এনেছিলাম। ওই খাবার পাঠাতে ৩০০ টাকা দিতে হয়েছে টিকিট কাউন্টারের কারারক্ষীকে। টাকা দেওয়ার পর তারা খাবার পৌঁছে দিয়েছে।

কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনা এলাকার বাসিন্দা খালেদা বেগম। তিনি এসেছিলেন কারাবন্দী ভাই মহিউদ্দিন দেখতে। ঈদ উপলক্ষ্যে তার জন্য কিছু রান্না করা খাবারও নিয়ে এসেছিলেন বাড়ি থেকে। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য কারারক্ষীকে দিতে হয়েছে ২০০ টাকা। টাকা ছাড়া এখানে কিছু হয় না।

স্বজনদের সাথে দেখা করতে খুব সকাল থেকে কারাগারে এসে দিনভর অপেক্ষার পরও দেখা করতে না পেরে ফিরে গেছেন অনেকে। তেমনই একজন রামুর খুনিয়ার পালংয়ের বাসিন্দা মিজানুর রহমান। বন্ধু বেলাল উদ্দিনকে দেখতে এসেছিলেন তারা ৩ জন। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আজ দিনভর অপেক্ষা করেও দেখা করতে পারিনি। ওরা বলছে, আজ আর দেখা করা যাবে না।

সম্প্রতি কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পাওয়া মহেশখালীর একজন বাসিন্দা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, টাকা থাকলেই কারাগারে অনেকটা রাজার হালে থাকা যায়। এক মাসের জন্য ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিলে কারাগারে মেডিকেল ওয়ার্ডে থাকতে পারেন যে সুস্থ যেকোন বন্দীও। ওই টাকা দিতে হয় অগ্রীম। টাকা দিলে সেখানে সব সুযোগ সুবিধা মিলে। ভালো খাবারও পাওয়া যায়। কারারক্ষীরাও তাদের তোয়াজ করেন। টেকনাফের বড় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা প্রায়শই মেডিকেল ওয়ার্ডে থাকেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক বজলুর রশিদ আখন্দ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, কারাগার থেকে যারা অনৈতিক সুবিধা নিতে পারে না তারাই মূলত নানা ধরনের মিথ্যাচার করেন। এসব অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই।

বাংলাদেশ জার্নাল

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com