ওটি বয় থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ওটি বয় থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। চকচকে নানা বাহারি বিজ্ঞাপন। ডাক্তার নামের সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন ডিগ্রি। এদের মধ্যে ডা. এম এ মমিন মজুমদার। ডা. মনির হোসেন ও ডা. স্বজল কর্মকার। ওরা ৩ জন লাকসাম বাইপাস সড়কে ব্যস্ততম এলাকা ভুয়া ডাক্তার সেজে দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখে আসছে। সিভিল সার্জন মাঝে মাঝে তাদের আটক করে চেম্বার বন্ধ করে দেন এবং জরিমানা আদায় করেন। সিভিল সার্জন আসার খবর পেলে তারা চেম্বার বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

ডা. মমিন মজুমদার। এক সময়ে আমেনা ক্লিনিকে এক ডাক্তারের চেম্বারে কাজ করতেন। পরবর্তী পর্যায়ে শান্তা হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে ওটি বয় হিসাবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। লাকসাম মেডিকেল সেন্টারে ডিউটি ডাক্তার হিসাবেও কর্মরত ছিলেন। ছোটখাটো অপারেশন থেকে শুরু করে সকল রোগী দেখাশোনা করেন। তার সঙ্গে আলাপ করলে ডাক্তার মমিন জানান, ২০০৫ ও ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমেনা ক্লিনিকে, ২০০৭ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত শান্তা মেডিকেল হসপিটালে, ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মেডিকেল সেন্টারে মেডিকেল স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ডা. মমিন নামের পাশে বিভিন্ন পদবি লিখে ভিজিটিং কার্ড বিলি করেন। ভিজিটিং কার্ডে ডিএমএস, ঢাকা, ডিএমসিএইচ। মা ও শিশু স্পেশালিস্ট ইন মেডিসিন, অর্থোপেডিক সার্জন। সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান পরিদর্শনে আসলে লাকসাম মেডিকেল সেন্টারে আসলে সে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম দেখে সিভিল সার্জন লাকসামে ৩টি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়। লাকসাম সেন্ট্রাল ল্যাবে ডা. মমিন নিয়মিত রোগী দেখে আসছে। গ্রামের বিভিন্ন রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা দেয়। এতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে রোগীরা। অপর ভুয়া ডাক্তার মনির হোসেন মজুমদার সেও লাকসাম বাইপাস সড়কের পাশে বসে। তার নামের পাশে অডিওলজিস্ট, ইএনটি (কলিকাতা), ডিএমএস ঢাকা, বিএইচই, স্বাস্থ্য ডি এম ডিপ্লোমা, চর্ম এলার্জি, নাক, কান, গলা রোগের বিশেষ ও অভিজ্ঞ।
অপর ভুয়া ডা. স্বজল কর্মকার। লাকসাম ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিল। তখনকার তার প্যাডে কলিকাতাসহ বিভিন দেশের ডিগ্রি ছিল। সিভিল সার্জন কুমিল্লা মোবাইল টিম নিয়ে পরিদর্শনে আসলে তার সমস্ত কাগজপত্র ভুয়া বলে তাকে জরিমানা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বের করে দেন। এরপর দীর্ঘদিন পর হাসপাতালের সামনে এক উকিলের বাড়িতে চেম্বার খোলে। সাইনবোর্ডে ডা. স্বজল কর্মকার। এবার নামের পাশে এম.পি.এইচ ডিগ্রি লেখেন। নর্দদান বিশ্ববিদ্যালয় এভাবে দিনের পর দিন মানুষকে প্রতারনা করে চিকিৎসা দিচ্ছে।এ ব্যাপারে ডাঃ মমিনের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, তার নামের পাশে ডাঃ লেখে না। এবং ভিজিটিং কার্ডেও সে বিলি করে নি। কেউ বিলি করলে তার কোন তার কোন দায় দায়িত্ব নেই। অপর ডাক্তার স্বজল কর্মকার ও মনির হোসেন মোবাইল ফোনে আলাপ করলে সাংবাদিক পরিচয় পেলে তারা মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেয়।
এ ব্যাপারে ডা. আবদুল বারী রুবেল তিনি জানান, এদের কাছ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বিভিন্ন ওষুধ খেয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সিভিল সার্জন্ট কুমিল্লা ডা. মুজিবুর রহমান লাকসামে পরিদর্শনে আসলে তারা চেম্বার বন্ধ করে পালিয়ে যায়। এরা আগে থেকেই সিভিল সার্জন অফিসে এদের নিদিষ্ট লোক রয়েছে। তাদের মাধ্যমে খবরাখবর পেয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন মুজিবুর রহমান বলেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ডাক্তারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানবজমিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» শবে বরাত : গুরুত্ব ও ফযিলত

» আগারগাঁওয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে ভোগান্তি, বললেন সাধারণ মানুষ

» প্রভার বিশ্বাস

» কুলাউড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম

» লাকসামে ব্যাঙের ছাতার মতো ক্লিনিক সর্বস্বান্ত রোগীরা

» রমেকের সংক্রামক ব্যাধি বিভাগ ডাক্তারের দেখা নেই, দেখভাল করছেন নার্স-বয়

» শিউলীর অস্বীকার ফের তোলপাড়

» টানাটানিতে চলছে নিহতদের সংসার

» ‘ভাড়ায়’ চরিত্র হনন করে ওরা

» রঙিন পোশাকের প্রথম বিশ্বকাপ

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

ওটি বয় থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ওটি বয় থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। চকচকে নানা বাহারি বিজ্ঞাপন। ডাক্তার নামের সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন ডিগ্রি। এদের মধ্যে ডা. এম এ মমিন মজুমদার। ডা. মনির হোসেন ও ডা. স্বজল কর্মকার। ওরা ৩ জন লাকসাম বাইপাস সড়কে ব্যস্ততম এলাকা ভুয়া ডাক্তার সেজে দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখে আসছে। সিভিল সার্জন মাঝে মাঝে তাদের আটক করে চেম্বার বন্ধ করে দেন এবং জরিমানা আদায় করেন। সিভিল সার্জন আসার খবর পেলে তারা চেম্বার বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

ডা. মমিন মজুমদার। এক সময়ে আমেনা ক্লিনিকে এক ডাক্তারের চেম্বারে কাজ করতেন। পরবর্তী পর্যায়ে শান্তা হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে ওটি বয় হিসাবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। লাকসাম মেডিকেল সেন্টারে ডিউটি ডাক্তার হিসাবেও কর্মরত ছিলেন। ছোটখাটো অপারেশন থেকে শুরু করে সকল রোগী দেখাশোনা করেন। তার সঙ্গে আলাপ করলে ডাক্তার মমিন জানান, ২০০৫ ও ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমেনা ক্লিনিকে, ২০০৭ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত শান্তা মেডিকেল হসপিটালে, ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মেডিকেল সেন্টারে মেডিকেল স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ডা. মমিন নামের পাশে বিভিন্ন পদবি লিখে ভিজিটিং কার্ড বিলি করেন। ভিজিটিং কার্ডে ডিএমএস, ঢাকা, ডিএমসিএইচ। মা ও শিশু স্পেশালিস্ট ইন মেডিসিন, অর্থোপেডিক সার্জন। সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান পরিদর্শনে আসলে লাকসাম মেডিকেল সেন্টারে আসলে সে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম দেখে সিভিল সার্জন লাকসামে ৩টি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়। লাকসাম সেন্ট্রাল ল্যাবে ডা. মমিন নিয়মিত রোগী দেখে আসছে। গ্রামের বিভিন্ন রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা দেয়। এতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে রোগীরা। অপর ভুয়া ডাক্তার মনির হোসেন মজুমদার সেও লাকসাম বাইপাস সড়কের পাশে বসে। তার নামের পাশে অডিওলজিস্ট, ইএনটি (কলিকাতা), ডিএমএস ঢাকা, বিএইচই, স্বাস্থ্য ডি এম ডিপ্লোমা, চর্ম এলার্জি, নাক, কান, গলা রোগের বিশেষ ও অভিজ্ঞ।
অপর ভুয়া ডা. স্বজল কর্মকার। লাকসাম ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিল। তখনকার তার প্যাডে কলিকাতাসহ বিভিন দেশের ডিগ্রি ছিল। সিভিল সার্জন কুমিল্লা মোবাইল টিম নিয়ে পরিদর্শনে আসলে তার সমস্ত কাগজপত্র ভুয়া বলে তাকে জরিমানা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বের করে দেন। এরপর দীর্ঘদিন পর হাসপাতালের সামনে এক উকিলের বাড়িতে চেম্বার খোলে। সাইনবোর্ডে ডা. স্বজল কর্মকার। এবার নামের পাশে এম.পি.এইচ ডিগ্রি লেখেন। নর্দদান বিশ্ববিদ্যালয় এভাবে দিনের পর দিন মানুষকে প্রতারনা করে চিকিৎসা দিচ্ছে।এ ব্যাপারে ডাঃ মমিনের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, তার নামের পাশে ডাঃ লেখে না। এবং ভিজিটিং কার্ডেও সে বিলি করে নি। কেউ বিলি করলে তার কোন তার কোন দায় দায়িত্ব নেই। অপর ডাক্তার স্বজল কর্মকার ও মনির হোসেন মোবাইল ফোনে আলাপ করলে সাংবাদিক পরিচয় পেলে তারা মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেয়।
এ ব্যাপারে ডা. আবদুল বারী রুবেল তিনি জানান, এদের কাছ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বিভিন্ন ওষুধ খেয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সিভিল সার্জন্ট কুমিল্লা ডা. মুজিবুর রহমান লাকসামে পরিদর্শনে আসলে তারা চেম্বার বন্ধ করে পালিয়ে যায়। এরা আগে থেকেই সিভিল সার্জন অফিসে এদের নিদিষ্ট লোক রয়েছে। তাদের মাধ্যমে খবরাখবর পেয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন মুজিবুর রহমান বলেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ডাক্তারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানবজমিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com