এদের কেউ কেউ চিহ্নিত, আবার কেউ কেউ মুখোশধারী

আরিফুর রহমান দোলন:

এভাবে সভা থেকে বেরিয়ে সকল সাংবাদিককে নিয়ে আমরা প্রতিবাদ শুরু করলাম। এখনকার মতো তখন এতো বেশি ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম, অনলাইন নিউজপোর্টাল ছিল না। সংবাদপত্র তখন আরও বেশি শক্তিশালী।

যাহোক, আমরা সভাস্থল ত্যাগ করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের করিডোরে সবাই হৈ-চৈ শুরু করে দিলাম। মূলত আমি। সৈয়দ রেজাউল হায়াত তখন যোগাযোগ সচিব, দাপুটে সিএসপি। এক সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব ছিলেন। অবিভক্ত ঢাকা, ফরিদপুর জেলার ডিসি হিসেবেও কাজ করেছেন। সাংবাদিকতা সূত্রে রেজাউল হায়াতের সঙ্গে ততদিনে আমার বড় ভাই-ছোট ভাই সম্পর্ক।

মন্ত্রীকে বয়কটের ঘটনায় সচিব যেন খানিকটা বেকায়দায় পড়লেন। দ্রুত বেরিয়ে এসে বারংবার অনুরোধ করতে লাগলেন, ভাই আমার ইজ্জত বাঁচান। তাকে বললাম, এটা সাংবাদিক সমাজের সম্মানের প্রশ্ন। যতদিন না মন্ত্রী স্যরি বলছেন আমরা তাকে বয়কট করেই চলবো। ঘটনার পরে টানা পনের দিন গণমাধ্যমে ব্ল্যাকআউট ছিলেন নাজমুল হুদা। এক পর্যায়ে নিজে উদ্যোগী হয়ে ১৫ দিন পর আমাদের সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং টেলিভিশনেও তা সম্প্রচার হয়। গণমাধ্যমকর্মীদের অসম্মান করার চেষ্টা প্রতিবাদের মাধ্যমে এভাবেই রুখে দিতে পেরেছিলাম।

২০০৬ সালে প্রথম আলো পত্রিকায় আমার লেখা ‘তারেক রহমানের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে’ প্রতিবেদনের কারণে মারাত্মক ক্ষুব্ধ হন বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। আমাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। যার জবাব লিখে দেয়ার জন্য সম্পাদক মতিউর রহমান আমাকে আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের কাছে পাঠান। ড. কামাল তারেক রহমানকে জবাবও পাঠান।

বিষয়টি এখানে থেমে গেলেও আমাকে নানাভাবে চাপে রাখার চেষ্টা ছিল। আমি পেশাগত কাজ করে গেছি আপোষহীনভাবেই। রাজশাহী-নাটোরে জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমান-বাংলা ভাইয়ের স্বরূপ উন্মোচনে দিনের পর দিন কাজ করেছি ঝুঁকি নিয়েই। প্রয়াত বিএনপি নেতা, মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক একাধিক মহলে আমাকে নিয়ে তার নেতিবাচক মনোভাব, নাখোশ হওয়ার কথা প্রকাশ করেছিলেন। জঙ্গিদের মুখোশ উন্মোচন আর নেপথ্য পৃষ্ঠপোষকতাকারীদের তৎপরতার খবর সংগ্রহ ও প্রকাশ থেকে আমাকে দূরে রাখার প্রচেষ্টা কিন্তু সফল হয়নি।

এক সময়ে সন্ত্রাস কবলিত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ঘুরেছি বিভিন্ন দফায়। সন্ত্রাসী একাধিক গোষ্ঠীর তৎপরতার খবর দফায় দফায় তুলে ধরেছি আমার লেখনিতে। খুলনা-যশোরের একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হুমকি-ধামকি থেমে থেমে বিভিন্ন সময় সহ্য করতে হয়েছে। যশোরে তো একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার লেখনিতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল-সমাবেশ করেছে আমার নাম ধরে। অথচ সরকারের সকল গোয়েন্দা সংস্থা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকায় ওই দুষ্টুদের নাম ছিল, এখনো আছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি দলের সাংসদ দবিরুল ইসলামের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে অনেক সংবাদ প্রকাশ-প্রচার হয়েছে। ঢাকা টাইমসও সংবাদ প্রকাশ করেছে। ক্ষুব্ধ হয়ে প্রভাবশালী সাংসদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাও করেন। পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় সেই মামলার সুরাহাও হয়েছে। সাংসদ দবির নিজেই এক পর্যায়ে মামলা তুলে নিয়েছেন।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী থাকাকালে ঢাকা টাইমসে প্রকাশিত সংবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে দুটি মানহানির মামলা করেন আমার বিরুদ্ধে ঢাকা ও টাঙ্গাইলে। সিনিয়র সাংবাদিক শাজাহান সরদার ও জাকারিয়া চৌধুরীও মামলার আসামি ছিলেন। মামলা দিয়ে এক পর্যায়ে বসে ফয়সালাও করার প্রস্তাবও আসে তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রীর পক্ষ থেকে। সায় দেইনি আমি। টানা এক বছর ঢাকা, টাঙ্গাইল দৌড়েছি, আদালতপাড়া চিনেছি।

পরিশেষে মামলার ফলাফল আমাদের অনুকূলেই গেছে। প্রভাবশালী লতিফ সিদ্দিকী একাধিকবার আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের মন্ত্রী পরিচয় নানাভাবে কাজে লাগিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় ত্রুটি করেননি। তিনি সফল হননি। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার, সাংসদ পদ খোয়ানোসহ লতিফ সিদ্দিকীর পরিণতির কথা দেশবাসী সকলেই জানেন।

ঢাকা, ঢাকার বাইরে কিংবা নিজের গ্রামের বাড়ি যেখানেই যাই, যার সঙ্গেই পরিচিত হই আমি আমার স্বভাবসুলভ বিনয় দিয়েই প্রত্যেকের সাথে কুশল বিনিময় করি। আর এভাবেই পেশাগত কাজের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও আমার বিস্তৃতি হয়েছে বলে অনেকে বলেন। স্বাভাবিকভাবেই এতে অনেকে খুশি হন। আবার অকারণে ঈর্ষাপরায়ণ কেউ কেউ মেনে নিতে পারেন না। তৃণমূল স্তরের মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে অপেক্ষাকৃত সুবিধাবঞ্চিত বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা যত বেশি পেয়েছি, পাচ্ছি ততই ঈর্ষাপরায়ণ স্বার্থান্বেষী ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী ক্ষুব্ধ, ক্ষিপ্ত হয়েছে, হচ্ছে।

কখনো নিন্দুক ভাড়া করছে, কখনো আড়ালে-আবডালে কল্পিত অপপ্রচারের চেষ্টা। আবার কখনো ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা আর মনোবলে ফাটল ধরানোর ব্যর্থ প্রয়াস। এদের কেউ কেউ চিহ্নিত, আবার কেউ কেউ মুখোশধারী। সন্ত্রাসী ভাড়া করে আমাকে ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দিতে চায়। তারা কারা এদের চেহারা কিন্তু জনসম্মুখে আরও পরিষ্কারভাবে আসবে। আমাকে ভয় দেখিয়ে থামানোর চেষ্টা না করে ভালো কাজের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। যতদিন বাঁচি, ভালো কাজ করবো।

লেখক: সম্পাদক, দৈনিক ঢাকা টাইমস, ঢাকা টাইমস২৪.কম, সাপ্তাহিক এই সময়

বিডি প্রিতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বিজয় মানে ১৬ই ডিসেম্বর

» বাঙ্গালী জাতির জন্য বানিয়াচঙ্গ উপজেলাবাসী জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায় বানিয়াচঙ্গ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস :: স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ

» চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধ

» বরগুনায় গণপূর্তের জমিতে দরপত্র ছাড়াই পৌরসভার সড়ক নির্মাণ

» উঠে আসছে না নতুন নেতৃত্ব কেন্দ্রে কর্তৃত্ব হারাচ্ছে সিলেট আওয়ামী লীগ

» মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় স্মৃতি

» মহান বিজয় দিবস আজ

» বিজয়ের স্মৃতি ও বঙ্গবন্ধু

» টানটান উত্তেজনা আওয়ামী লীগে

» ‘মুজিববর্ষে’ বাজারে আসছে ২০০ টাকার নোট

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

এদের কেউ কেউ চিহ্নিত, আবার কেউ কেউ মুখোশধারী

আরিফুর রহমান দোলন:

এভাবে সভা থেকে বেরিয়ে সকল সাংবাদিককে নিয়ে আমরা প্রতিবাদ শুরু করলাম। এখনকার মতো তখন এতো বেশি ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম, অনলাইন নিউজপোর্টাল ছিল না। সংবাদপত্র তখন আরও বেশি শক্তিশালী।

যাহোক, আমরা সভাস্থল ত্যাগ করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের করিডোরে সবাই হৈ-চৈ শুরু করে দিলাম। মূলত আমি। সৈয়দ রেজাউল হায়াত তখন যোগাযোগ সচিব, দাপুটে সিএসপি। এক সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব ছিলেন। অবিভক্ত ঢাকা, ফরিদপুর জেলার ডিসি হিসেবেও কাজ করেছেন। সাংবাদিকতা সূত্রে রেজাউল হায়াতের সঙ্গে ততদিনে আমার বড় ভাই-ছোট ভাই সম্পর্ক।

মন্ত্রীকে বয়কটের ঘটনায় সচিব যেন খানিকটা বেকায়দায় পড়লেন। দ্রুত বেরিয়ে এসে বারংবার অনুরোধ করতে লাগলেন, ভাই আমার ইজ্জত বাঁচান। তাকে বললাম, এটা সাংবাদিক সমাজের সম্মানের প্রশ্ন। যতদিন না মন্ত্রী স্যরি বলছেন আমরা তাকে বয়কট করেই চলবো। ঘটনার পরে টানা পনের দিন গণমাধ্যমে ব্ল্যাকআউট ছিলেন নাজমুল হুদা। এক পর্যায়ে নিজে উদ্যোগী হয়ে ১৫ দিন পর আমাদের সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং টেলিভিশনেও তা সম্প্রচার হয়। গণমাধ্যমকর্মীদের অসম্মান করার চেষ্টা প্রতিবাদের মাধ্যমে এভাবেই রুখে দিতে পেরেছিলাম।

২০০৬ সালে প্রথম আলো পত্রিকায় আমার লেখা ‘তারেক রহমানের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে’ প্রতিবেদনের কারণে মারাত্মক ক্ষুব্ধ হন বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। আমাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। যার জবাব লিখে দেয়ার জন্য সম্পাদক মতিউর রহমান আমাকে আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের কাছে পাঠান। ড. কামাল তারেক রহমানকে জবাবও পাঠান।

বিষয়টি এখানে থেমে গেলেও আমাকে নানাভাবে চাপে রাখার চেষ্টা ছিল। আমি পেশাগত কাজ করে গেছি আপোষহীনভাবেই। রাজশাহী-নাটোরে জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমান-বাংলা ভাইয়ের স্বরূপ উন্মোচনে দিনের পর দিন কাজ করেছি ঝুঁকি নিয়েই। প্রয়াত বিএনপি নেতা, মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক একাধিক মহলে আমাকে নিয়ে তার নেতিবাচক মনোভাব, নাখোশ হওয়ার কথা প্রকাশ করেছিলেন। জঙ্গিদের মুখোশ উন্মোচন আর নেপথ্য পৃষ্ঠপোষকতাকারীদের তৎপরতার খবর সংগ্রহ ও প্রকাশ থেকে আমাকে দূরে রাখার প্রচেষ্টা কিন্তু সফল হয়নি।

এক সময়ে সন্ত্রাস কবলিত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ঘুরেছি বিভিন্ন দফায়। সন্ত্রাসী একাধিক গোষ্ঠীর তৎপরতার খবর দফায় দফায় তুলে ধরেছি আমার লেখনিতে। খুলনা-যশোরের একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হুমকি-ধামকি থেমে থেমে বিভিন্ন সময় সহ্য করতে হয়েছে। যশোরে তো একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার লেখনিতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল-সমাবেশ করেছে আমার নাম ধরে। অথচ সরকারের সকল গোয়েন্দা সংস্থা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকায় ওই দুষ্টুদের নাম ছিল, এখনো আছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি দলের সাংসদ দবিরুল ইসলামের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে অনেক সংবাদ প্রকাশ-প্রচার হয়েছে। ঢাকা টাইমসও সংবাদ প্রকাশ করেছে। ক্ষুব্ধ হয়ে প্রভাবশালী সাংসদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাও করেন। পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় সেই মামলার সুরাহাও হয়েছে। সাংসদ দবির নিজেই এক পর্যায়ে মামলা তুলে নিয়েছেন।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী থাকাকালে ঢাকা টাইমসে প্রকাশিত সংবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে দুটি মানহানির মামলা করেন আমার বিরুদ্ধে ঢাকা ও টাঙ্গাইলে। সিনিয়র সাংবাদিক শাজাহান সরদার ও জাকারিয়া চৌধুরীও মামলার আসামি ছিলেন। মামলা দিয়ে এক পর্যায়ে বসে ফয়সালাও করার প্রস্তাবও আসে তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রীর পক্ষ থেকে। সায় দেইনি আমি। টানা এক বছর ঢাকা, টাঙ্গাইল দৌড়েছি, আদালতপাড়া চিনেছি।

পরিশেষে মামলার ফলাফল আমাদের অনুকূলেই গেছে। প্রভাবশালী লতিফ সিদ্দিকী একাধিকবার আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের মন্ত্রী পরিচয় নানাভাবে কাজে লাগিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় ত্রুটি করেননি। তিনি সফল হননি। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার, সাংসদ পদ খোয়ানোসহ লতিফ সিদ্দিকীর পরিণতির কথা দেশবাসী সকলেই জানেন।

ঢাকা, ঢাকার বাইরে কিংবা নিজের গ্রামের বাড়ি যেখানেই যাই, যার সঙ্গেই পরিচিত হই আমি আমার স্বভাবসুলভ বিনয় দিয়েই প্রত্যেকের সাথে কুশল বিনিময় করি। আর এভাবেই পেশাগত কাজের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও আমার বিস্তৃতি হয়েছে বলে অনেকে বলেন। স্বাভাবিকভাবেই এতে অনেকে খুশি হন। আবার অকারণে ঈর্ষাপরায়ণ কেউ কেউ মেনে নিতে পারেন না। তৃণমূল স্তরের মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে অপেক্ষাকৃত সুবিধাবঞ্চিত বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা যত বেশি পেয়েছি, পাচ্ছি ততই ঈর্ষাপরায়ণ স্বার্থান্বেষী ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী ক্ষুব্ধ, ক্ষিপ্ত হয়েছে, হচ্ছে।

কখনো নিন্দুক ভাড়া করছে, কখনো আড়ালে-আবডালে কল্পিত অপপ্রচারের চেষ্টা। আবার কখনো ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা আর মনোবলে ফাটল ধরানোর ব্যর্থ প্রয়াস। এদের কেউ কেউ চিহ্নিত, আবার কেউ কেউ মুখোশধারী। সন্ত্রাসী ভাড়া করে আমাকে ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দিতে চায়। তারা কারা এদের চেহারা কিন্তু জনসম্মুখে আরও পরিষ্কারভাবে আসবে। আমাকে ভয় দেখিয়ে থামানোর চেষ্টা না করে ভালো কাজের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। যতদিন বাঁচি, ভালো কাজ করবো।

লেখক: সম্পাদক, দৈনিক ঢাকা টাইমস, ঢাকা টাইমস২৪.কম, সাপ্তাহিক এই সময়

বিডি প্রিতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com