ঈদের আগেই ‘উত্তপ্ত’ মসলার বাজার

কুরবানির ঈদ সামনে রেখে বাজারে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে সব ধরনের মসলার দাম। কেজিতে প্রায় হাজার টাকাও বেড়েছে কোনো কোনো মসলা। আর এ সুযোগে সক্রিয় মৌসুমি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। তারা এ বছর ঈদ আসার এক মাস আগেই সংকট দেখিয়ে মসলার দাম বাড়ানো শুরু করে; যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। তাই মসলার বাজার এখন রীতিমতো উত্তপ্ত। এতে দিশেহারা সাধারণ ভোক্তারা। তারা বলছেন, এসব ব্যবসায়ীদের কারসাজি, যা নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার।

এ জাতীয় অনিয়মের কারণ জানতে চাইলে খুচরা ব্যবসায়ী ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা উভয়ই দোষারোপ করছেন পরস্পরকে। মাঝখান থেকে ভোগান্তি আর দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা কেজি; যা এক মাস আগে ছিল ২৫-৩০ টাকা। প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা; যা এক মাস আগে ছিল ১০০-১২০ টাকা। আদা মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৬০-২০০ টাকা কেজি; যা এক মাস আগে ছিল ১৩০-১৬০ টাকা। দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৪৬০ টাকা কেজি; যা এক মাস আগে ছিল ৩০০-৩৫০ টাকা। এলাচ বিক্রি হচ্ছে ২৭০০-২৮০০ টাকা কেজি; যা এক মাস আগে ছিল ১৮৫০-২১০০ টাকা। তেজপাতা বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা; যা এক মাস আগে ছিল ৮০-১০০ টাকা। এছাড়া জয়ত্রী ১৫০০-১৮০০, কিসমিস ৪৫০-৬৫০, আলু বুখারা ৫০০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে কাওরানবাজার কাঁচাবাজারের এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, এক থেকে দেড় মাস আগে থেকেই মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। গরম মসলার দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিক কারণ না থাকলেও দাম বেড়েছে। এখন আর আগের মতো ঈদ-কুরবানি ঘিরে পণ্যের দাম নতুন করে বাড়ে না।

মসলার দাম বাড়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, বর্তমানে দেশে মসলার বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। ঈদের কারণে খুব বেশি দাম বাড়েনি। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ালে তো সেটা আমাদের দেখার বিষয় না।

কারওয়ান বাজারে মসলা ক্রেতা বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মিশু রহমান বলেন, যে যেভাবে পারছে সেভাবেই মসলা বিক্রি করছে। কোরবানির ঈদ এলেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা সব ধরনের মসলার দাম বাড়িয়ে দেয়। এতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। পত্রিকা ও টেলিভিশনে দেখছি সরকারের সংস্থা ভোক্তা অধিদফতর বাজার মনিটরিং করছে। কিন্তু তারপরও দাম কমছে না।

এদিকে, ঈদ সামনে রেখে দাম বেড়েছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার। কাওরানবাজারের পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৩৬ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। আর ভারতীয় পেঁয়াজ ২৭ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া রসুন ১৬৫ থেকে ১৭০ ও আদা ১৩২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ৭০ টাকা বেড়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» মাগুরায় ছাত্রদল সভাপতিকে কুপিয়ে জখম

» সিদ্ধিরগঞ্জে র‍্যাবের হাতে ভুয়া এমবিবিএস ডাক্তার গ্রেফতার

» এসক্যাপ অধিবেশনে যোগ দিতে শেখ হা‌সিনা‌কে আমন্ত্রণ

» মেয়ে নিতে দুবাই থেকে ঢাকায় আসেন ড্যান্স ক্লাবের মালিকরা

» ২০ বছর ধরে ভিক্ষা করেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী

» আ’লীগ নেতার বাগানে যেতে ৩১ লাখ টাকার সরকারি ব্রিজ!

» অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়ম, পরীক্ষার আগে মসজিদে অনুশীলন!

» বেকারত্বের সুযোগে জমজমাট সুদের কারবার

» রাজধানীর ফকিরাপুলে ৫ তলার ছাদে নারী ও পুরুষের লাশ উদ্ধার

» জানালেন নতুন খবর

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

ঈদের আগেই ‘উত্তপ্ত’ মসলার বাজার

কুরবানির ঈদ সামনে রেখে বাজারে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে সব ধরনের মসলার দাম। কেজিতে প্রায় হাজার টাকাও বেড়েছে কোনো কোনো মসলা। আর এ সুযোগে সক্রিয় মৌসুমি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। তারা এ বছর ঈদ আসার এক মাস আগেই সংকট দেখিয়ে মসলার দাম বাড়ানো শুরু করে; যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। তাই মসলার বাজার এখন রীতিমতো উত্তপ্ত। এতে দিশেহারা সাধারণ ভোক্তারা। তারা বলছেন, এসব ব্যবসায়ীদের কারসাজি, যা নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার।

এ জাতীয় অনিয়মের কারণ জানতে চাইলে খুচরা ব্যবসায়ী ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা উভয়ই দোষারোপ করছেন পরস্পরকে। মাঝখান থেকে ভোগান্তি আর দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা কেজি; যা এক মাস আগে ছিল ২৫-৩০ টাকা। প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা; যা এক মাস আগে ছিল ১০০-১২০ টাকা। আদা মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৬০-২০০ টাকা কেজি; যা এক মাস আগে ছিল ১৩০-১৬০ টাকা। দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৪৬০ টাকা কেজি; যা এক মাস আগে ছিল ৩০০-৩৫০ টাকা। এলাচ বিক্রি হচ্ছে ২৭০০-২৮০০ টাকা কেজি; যা এক মাস আগে ছিল ১৮৫০-২১০০ টাকা। তেজপাতা বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা; যা এক মাস আগে ছিল ৮০-১০০ টাকা। এছাড়া জয়ত্রী ১৫০০-১৮০০, কিসমিস ৪৫০-৬৫০, আলু বুখারা ৫০০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে কাওরানবাজার কাঁচাবাজারের এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, এক থেকে দেড় মাস আগে থেকেই মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। গরম মসলার দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিক কারণ না থাকলেও দাম বেড়েছে। এখন আর আগের মতো ঈদ-কুরবানি ঘিরে পণ্যের দাম নতুন করে বাড়ে না।

মসলার দাম বাড়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, বর্তমানে দেশে মসলার বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। ঈদের কারণে খুব বেশি দাম বাড়েনি। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ালে তো সেটা আমাদের দেখার বিষয় না।

কারওয়ান বাজারে মসলা ক্রেতা বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মিশু রহমান বলেন, যে যেভাবে পারছে সেভাবেই মসলা বিক্রি করছে। কোরবানির ঈদ এলেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা সব ধরনের মসলার দাম বাড়িয়ে দেয়। এতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। পত্রিকা ও টেলিভিশনে দেখছি সরকারের সংস্থা ভোক্তা অধিদফতর বাজার মনিটরিং করছে। কিন্তু তারপরও দাম কমছে না।

এদিকে, ঈদ সামনে রেখে দাম বেড়েছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার। কাওরানবাজারের পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৩৬ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। আর ভারতীয় পেঁয়াজ ২৭ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া রসুন ১৬৫ থেকে ১৭০ ও আদা ১৩২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ৭০ টাকা বেড়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com