ইহরাম করার পর হজে যেতে না পারলে করণীয়

আমিন মুনশি : ইহরাম করার পর শরীয়তসম্মত কোন ওজরের কারণে মক্কায় যাওয়া সম্ভব না হলে যেমন, সরকারীভাবে বাধাগ্রস্ত হলে কিংবা ফ্লাইটের সমস্যার কারণে যাওয়া না হলে বা মারাত্মক অসুস্থতার কারণে যাওয়া সম্ভব না হলে, তদ্রƒপ মহিলার মাহরাম মারা যাওয়া বা মাহরামের সফর মুলতবী হওয়ার কারণে মহিলা যাত্রা বিরতি করলে বা মহিলার স্বামী মারা গেলে (যেহেতু ইদ্দতের কারণে সফর মুলতবী করা জরুরি) এসব ক্ষেত্রে হজ্ব বা উমরার ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কারো মাধ্যমে হারামের এলাকায় একটি কুরবানী করতে হবে। কিরানকারীর জন্য দুটি কুরবানী করতে হবে। কুরবানী করার আগ পর্যন্ত ইহরামের নিষিদ্ধ কাজ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। কুরবানী করার দ্বারা ঐ ব্যক্তি হালাল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে হালাল হওয়ার জন্য মাথা মুণ্ডানো জরুরি নয়। তবে কুরবানীর পর মাথা মুণ্ডিয়ে নেওয়া বা চুল কেটে নেওয়া মুস্তাহাব।

আর পরবর্তীতে তা কাযা করা ওয়াজিব। যদি ইফরাদ হজ্বের ইহরাম করার পর বাধাগ্রস্ত হয়ে হালাল হয়ে থাকেন তাহলে পরবর্তীতে একটি হজ্ব এবং একটি উমরা কাযা করতে হবে। অবশ্য যে বছর বাধাগ্রস্ত হয়েছেন সে বছরই যদি হজ্বে যাওয়ার সুযোগ হয়ে যায় তবে কাযার নিয়ত করতে হবে না এবং আলাদা উমরাও করতে হবে না; বরং শুধু ইফরাদ হজ্ব করলেই হবে। আর যদি কিরানের ইহরাম করার পর তা  ত্যাগ করে থাকেন তবে এক হজ্ব এবং দুই উমরা করতে হবে। এক্ষেত্রে কিরান করার পর আলাদা উমরা আদায় করতে পারেন অথবা ইফরাদ হজ্ব করে পৃথক দুটি উমরাও করতে পারেন। অবশ্য এক্ষেত্রেও এই বছরেই হজ্ব করার সুযোগ পেলে শুধু কিরান হজ্ব করলেই চলবে। কিংবা ইফরাদ হজ্ব ও এক উমরা করতে হবে।

আর যদি উমরার ইহরাম থেকে হালাল হয়ে থাকেন চাই তা তামাত্তু হজ্বের উমরা হোক বা পৃথক উমরা উভয় ক্ষেত্রে পরবর্তীতে একটি উমরা করতে হবে। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১২৯৪৭, ১২৯৪৯, ১৩২৩৫, ১৩২৩৮, ১৩২৪১; কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনা ১/৪৫০; আলমাবসূত, সারাখসী ৪/১০৬-১১০; মুআলি−­মুল হুজ্জাজ ২৭৫-২৭৬; যুবদাতুল মানাসিক ৪২৯-৪৩২

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কক্সবাজারে বিরল প্রজাতির ছাগল উদ্ধার

» তাওবাহ করতে দেরি করা আরেকটি মারাত্মক পাপ

» প্রধানমন্ত্রী জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করবেন আজ

» করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না, সতর্ক থাকুন

» বিপন্ন সেন্টমার্টিন

» এমপি-কেন্দ্রীয় নেতাদের মদদে বিদ্রোহীরা

» সমঝোতায় লুট হচ্ছে ব্যাংকের টাকা

» ‘ইত্যাদি’ এবার মুক্তাঞ্চল তেঁতুলিয়ায়

» তাড়াশে সরকারি খাল দখল করে পুকুর খনন

» ১০ গ্রামের ভরসা সাঁকো

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

ইহরাম করার পর হজে যেতে না পারলে করণীয়

আমিন মুনশি : ইহরাম করার পর শরীয়তসম্মত কোন ওজরের কারণে মক্কায় যাওয়া সম্ভব না হলে যেমন, সরকারীভাবে বাধাগ্রস্ত হলে কিংবা ফ্লাইটের সমস্যার কারণে যাওয়া না হলে বা মারাত্মক অসুস্থতার কারণে যাওয়া সম্ভব না হলে, তদ্রƒপ মহিলার মাহরাম মারা যাওয়া বা মাহরামের সফর মুলতবী হওয়ার কারণে মহিলা যাত্রা বিরতি করলে বা মহিলার স্বামী মারা গেলে (যেহেতু ইদ্দতের কারণে সফর মুলতবী করা জরুরি) এসব ক্ষেত্রে হজ্ব বা উমরার ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কারো মাধ্যমে হারামের এলাকায় একটি কুরবানী করতে হবে। কিরানকারীর জন্য দুটি কুরবানী করতে হবে। কুরবানী করার আগ পর্যন্ত ইহরামের নিষিদ্ধ কাজ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। কুরবানী করার দ্বারা ঐ ব্যক্তি হালাল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে হালাল হওয়ার জন্য মাথা মুণ্ডানো জরুরি নয়। তবে কুরবানীর পর মাথা মুণ্ডিয়ে নেওয়া বা চুল কেটে নেওয়া মুস্তাহাব।

আর পরবর্তীতে তা কাযা করা ওয়াজিব। যদি ইফরাদ হজ্বের ইহরাম করার পর বাধাগ্রস্ত হয়ে হালাল হয়ে থাকেন তাহলে পরবর্তীতে একটি হজ্ব এবং একটি উমরা কাযা করতে হবে। অবশ্য যে বছর বাধাগ্রস্ত হয়েছেন সে বছরই যদি হজ্বে যাওয়ার সুযোগ হয়ে যায় তবে কাযার নিয়ত করতে হবে না এবং আলাদা উমরাও করতে হবে না; বরং শুধু ইফরাদ হজ্ব করলেই হবে। আর যদি কিরানের ইহরাম করার পর তা  ত্যাগ করে থাকেন তবে এক হজ্ব এবং দুই উমরা করতে হবে। এক্ষেত্রে কিরান করার পর আলাদা উমরা আদায় করতে পারেন অথবা ইফরাদ হজ্ব করে পৃথক দুটি উমরাও করতে পারেন। অবশ্য এক্ষেত্রেও এই বছরেই হজ্ব করার সুযোগ পেলে শুধু কিরান হজ্ব করলেই চলবে। কিংবা ইফরাদ হজ্ব ও এক উমরা করতে হবে।

আর যদি উমরার ইহরাম থেকে হালাল হয়ে থাকেন চাই তা তামাত্তু হজ্বের উমরা হোক বা পৃথক উমরা উভয় ক্ষেত্রে পরবর্তীতে একটি উমরা করতে হবে। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১২৯৪৭, ১২৯৪৯, ১৩২৩৫, ১৩২৩৮, ১৩২৪১; কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনা ১/৪৫০; আলমাবসূত, সারাখসী ৪/১০৬-১১০; মুআলি−­মুল হুজ্জাজ ২৭৫-২৭৬; যুবদাতুল মানাসিক ৪২৯-৪৩২

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com